মার্কিন অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনে ১৭ বছর বয়সী বাংলাদেশির প্রার্থিতার চ্যালেঞ্জ

0

বিয়ানীবাজার ভিউ২৪ ডটকম, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮,

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে যখন কিশোর-কিশোরীরা তাদের বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে ঘোরাঘুরি করছে কিংবা ফেলে রাখা স্কুল প্রজেক্টগুলো শেষ করতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে তখন অন্য এক চ্যালেঞ্জে নেমেছেনবাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিনি তাহসিন চৌধুরী। নিউ ইয়র্কে আসন্ন স্টেট সিনেট নির্বাচনে একটি আসনে প্রার্থিতার জন্য লড়ছেন ১৭ বছর বয়সী এ বাংলাদেশি। আর তাই ছুটির দিনটিতে নিউ ইয়র্কের কুইন্সে শ্রমিক শ্রেণির দুয়ারে দুয়ারে কড়া নাড়ছেন, চাইছেন সমর্থন।
এখনও হাইস্কুলের গণ্ডি পেরোননি তাহসিন। কিন্তু তাতে নির্বাচনি চ্যালেঞ্জে নামার ভাবনা থেকে পিছপা হননি তিনি। আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে (ডেমোক্রাট দলের প্রাথী বাছাই) জোস পেরাল্টা’র বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জে নেমেছেন এ বাংলাদেশি। নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনে প্রার্থিতা পাওয়ার জন্য বয়স অন্তত ১৮ বছর পূর্ণ হতে হয়। সেপ্টেম্বরে প্রাইমারি বাছাই অনুষ্ঠিত হওয়ার কয়েক মাস আগেই তাহসিন চৌধুরী নির্ধারিত বয়সসীমার শর্ত পূরণ করে ফেলবেন।

তাহসিন স্বীকার করেছেন, প্রার্থী হিসেবে তার বয়স অনেক কম, কিন্তু তারপরও তিনি আশাবাদী।কারণ, বর্তমান রাজনৈতিক হাওয়ায় জনগণ এস্টাবলিশমেন্টের পক্ষের প্রার্থীদের এড়িয়ে যাচ্ছে। নিজেদের নির্বাচনি প্রচারণা তহবিল পূর্ণ করতে বিশেষ স্বার্থের উপর নির্ভরকারী এসব প্রার্থী থেকে আগ্রহ হারাচ্ছে জনগণ। তাহসিন চৌধুরী বলেন, ‘লোকজন ক্রমাগত কথিত আদর্শ রাজনীতির প্রতি ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছে। তারা একদিন বুঝতে পারবে বিশেষ স্বার্থের সঙ্গে বন্ধন তৈরি করলে তাদের পক্ষে বেশিদিন বেঁচে থাকা সম্ভব হবে না।’

তাহসিন চৌধুরী যদি জিতে যান তবে তিনি হবেন নিউ ইয়র্ক স্টেট সিনেট নির্বাচনে জয় পাওয়া প্রথম মুসলিম ও প্রথম বাংলাদেশি। তার প্রচারণা দলের বেশিরভাগ সদস্যই তার স্কুলের বন্ধুরা। প্রচারণা ওয়েবসাইট সাজানো এবং কৌশল নির্ধারণের ব্যাপারে তাহসিনকে তারাও সহযোগিতা করেছে।

শহরের জনগণের কাছ থেকে অল্প অল্প করে পাওয়া অনুদান থেকেই নির্বাচনি ব্যয়ের বেশিরভাগটা যোগাড় করেছেন তাহসিন। নির্বাচনগুলো ব্যয়বহুল আর ব্যয়ের দিক দিয়ে বিরোধীরা অনেক এগিয়ে থাকবেন। এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তাহসিন চৌধুরী তার নির্বাচনি প্রচারণাকে ‘চরম অনন্য’ উল্লেখ করে বলেন, এর উপরই ভরসা তার। তাহসিন চৌধুরী বলেন, ‘আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইন্টারনেটের ক্ষমতাকে প্রাধান্য দেব।’

গ্রেড এইটে থাকার সময় থেকে কুইন্সে খান’স টিউটোরিয়ালে ইন্টার মার্কেট কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করে আসছেন তাহসিন। রাজনীতিতে সে অভিজ্ঞতাকে ব্যবহার করতে চান বলে জানিয়েছেন তিনি। ‘আমি জানি কোথায় টাকা বিনিয়োগ করতে হবে এবং সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কিভাবে প্রচারণা চালাতে হবে।’ বলেন তাহসিন।

বয়স কম হওয়ার কারণে তাহসিনের প্রচারণাকে অনন্য বলেই মনে হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক জায়গাতেই এখন কম বয়সে নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামতে দেখা যাচ্ছে, রাজনীতিতে যোগ দিতে দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ বিশ্বাস করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জয়ের প্রেক্ষাপটে এ প্রবণতা বেড়ে থাকতে পারে। কানসাসে ১৬ বছর বয়সী একজন ডেমোক্র্যাটিক টিকেটে গভর্নর হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। আর রিপাবলিকান টিকেটে ওই পদের জন্য লড়ার পরিকল্পনা করছেন ১৭ বছর বয়সী একজনও। কানসাসে গভর্নর নির্বাচনের জন্য ন্যুনতম বয়সসীমা নির্ধারণ করে দেওয়া নেই।

তাহসিন চৌধুরী একটি শ্রমিক অভিবাসী পরিবারের সন্তান। তার বাবা প্রস্তুতকৃত খাবার বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। আর তার মা সংবাদপত্র বিতরণ করেন। তাহসিন মনে করেন, তার পারিবারিক যে ইতিহাসই তাকে অন্য প্রার্থীদের চেয়ে এলাকার মানুষের সমস্যাগুলো বেশি উপলব্ধি করার ক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছে। তাহসিনের আশঙ্কা, নিউ ইয়র্কে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাগুলো তার জন্য সমস্যার কারণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ এ ঘটনাগুলো যুক্তরাষ্ট্রে উগ্রবাদের আশঙ্কাকে জোরালো করেছে। এ হামলাগুলোর একটি এক বাংলাদেশি অভিবাসী চালিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তাহসিন বলেন, ‘আমার বয়স ১৭ বছর এবং আমি জানি জনগণকে আমার কথা বিশ্বাস করানোটা কঠিন। কিন্তু আমি তাদেরকে বোঝাবো যে আমি একজন মুসলিম এবং মুসলিম সম্প্রদায় এ ধরনের ঘৃন্য অপরাধ সংঘটনকারীদেরকে সমর্থন করে না।’

প্রচারণার পাশাপাশি স্কুলের কাজ, কলেজে ভর্তির জন্য আবেদন এবং খান’স টিউটোরিয়ালের চাকরিও সামলাতে হচ্ছে তাহসিনকে। সব কাজ সামলাতে গিয়ে বড় জোর চার ঘণ্টা ঘুমানোর সময় পান। তবে নিজের কাজকে বেশ উপভোগই করছেন তিনি। তাহসিন বলেন, ‘আমি যা করি তা আনন্দ নিয়েই করি।’

তাহসিন চৌধুরীর জন্য যে এ নির্বাচনটি পাহাড় পাড়ি দেওয়ার মতো হবে সেই ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই, আবার তার সুযোগও খুব একটা উজ্জ্বল বলে মনে হচ্ছে না। কিন্তু এই ১৭ বছর বয়সে স্বনামধন্য সংবাদপত্র দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস ও দ্য নিউ ইয়র্কার ম্যাগাজিনের পাতায় আলোচনায় আসার মতো সুযোগ সবার হয় না। নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, তাহসিন চৌধুরী যে মহা এক সূচনা করেছেন তা বলাই যায়।

Share.

Leave a Reply