শিশুকে বর্বর নির্যাতনকারী সেই মাদরাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার

0

বিয়ানীবাজার ভিউ২৪ ডটকম, ১১ মে ২০১৮,

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের বিপুলাসার উত্তর বাজার এলাকায় পাঁচ বছর বয়সী শিশু মো. নোমান হোসেনকে বেত দিয়ে পিটিয়ে ও শরীরে গরম পানি ঢেলে বর্বর নির্যাতনকারী সেই মাদরাসা শিক্ষক এমদাদ হোসেনকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার দুপুরে মনোহরগঞ্জ থানার নাথেরপেটুয়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক জামির হোসেন জিয়া কালের কণ্ঠকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নির্যাতনের শিকার নোমান উপজেলার বিপুলাসার ইউনিয়নের ছোট কাঁচি গ্রামের ভ্যানচালক খোরশেদ আলমের ছেলে। এ ঘটনায় আজ শুক্রবার কালের কণ্ঠ’র খবর পাতায় ‘শিশুকে বর্বর নির্যাতন মাদরাসা শিক্ষকের’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

এদিকে, শিশু নোমানকে নির্যাতনের ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষকে থেকে থানায় কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। সর্বশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনায় মনোহরগঞ্জ থানা পুলিশের পক্ষে নাথেরপেটুয়া তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই আশ্রাফুল ইসলাম বাদী হয়ে ওই শিক্ষককে অভিযুক্ত করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে রাতেই শিক্ষক এমদাদের নিজ গ্রাম উপজেলার লক্ষপুর ইউনিয়নের মান্দুয়ারায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জামির হোসেন জিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত মঙ্গলবার পরিবারের ওই শিশুকে নির্যাতিত অবস্থায় শিক্ষকের কাছ থেকে উদ্ধারের পর আমরা বারবার বলার পরও তারা থানায় কোনো মামলা করতে রাজি হননি। এরপরও মানবিক কারণে আমরা ঘটনাটি খোঁজ-খবর নিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটকের চেষ্টা চালাই। কিন্তু তিনি ওই এলাকা থেকে পালিয়ে যান। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করি আমরা। থানায় মামলা রুজু হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত এমদাদ হোসেনকে তার নিজ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করি।

উল্লেখ্য, উপজেলার লক্ষ্মনপুর ইউনিয়নের মান্দুয়ারা গ্রামের বাসিন্দা এমদাদ হোসেন উপজেলার বিপুলাসার উত্তর বাজার এলাকার আবু তাহেরের একতলা বাড়িটি ভাড়া করে সেখানে মোহাম্মদীয়া হাফেজীয়া মাদ্রাসা নামের একটি মাদরাসার কার্যক্রম শুরু করেন। তিনি নিজেও ওই বাড়িতে বসবাস করতেন। বর্তমানে ১১ জন শিশু শিক্ষার্থীর বিপরীতে এমদাদ হোসেন একাই পরিচালনা করছেন প্রতিষ্ঠানটি।

এমদাদের ওই মাদরাসায় কোরান শিক্ষার জন্য নোমানকে ভর্তি করেন তার ভ্যানচালক বাবা খোরশেদ আলম। গত কয়েক মাস আগে শিক্ষক এমদাদ শিশু নোমানকে ভালোভাবে পাঠ দেওয়ার কথা বলে আবাসিকভাবে নিজের কাছে রেখে দেন। গত কয়েকদিন ধরে শিশুটির বাবা-মা তার সঙ্গে দেখা করতে গেলে শিক্ষক এমদাদ বিভিন্ন কথা বলে তাদের সঙ্গে শিশুটির দেখা না করিয়ে ফিরিয়ে দেন। এতে শিশুটির বাবা-মায়ের মনে সন্দেহ হলে তাঁরা গত মঙ্গলবার (৮ মে) জোর করে শিশু নোমানের সঙ্গে দেখা করতে যান। তারপর শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেতের আঘাতের দাগ দেখতে পান তারা।

এ ছাড়া শিশুটির চোখ-মুখেও নির্যাতনের দাগ দেখেন তাঁরা। পরে শিশুটি তার পরিবারসহ স্থানীয়দের জানায়, অন্যান্য নির্যাতনের পাশাপাশি শিক্ষক এমদাদ তার গোপনাঙ্গে ও শরীরে গরম পানি ঢেলে নির্যাতন করেছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে শিশুটির পরিবারকে ২০ হাজার টাকা দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে চেষ্টা চালান শিক্ষক এমদাদ।

এদিকে, স্থানীয় লোকজন নির্যাতিত শিশুটির ছবি তোলে এবং ওই শিক্ষকের বিচার দাবি করে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ করলে গত বুধবার থেকে ঘটনাটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এ ছাড়া বিষয়টিকে অমানবিক ও সামাজিক অপরাধ বিবেচনা করে এই ঘটনায় কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে- তা জানতে চেয়ে মনোহরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং মনোহরগঞ্জ থানার ওসির প্রতি রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

গত বুধবার এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি মো.ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ বিষয়টি অবগত হয়ে স্বপ্রণোদিত রুলটি জারি করেন। একই সঙ্গে আগামী সাত দিনের মধ্যে জারি করা ওই রুলের জবাব দিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। এর আগে ওইদিন দুপুরে এক রিট আবেদনের মাধ্যমে বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন অ্যাডভোকেট মো.আবদুল হালিম।

Share.

Leave a Reply