বাংলাদেশ ভেঙ্গে নতুন স্বাধীন রাষ্ট্র জুমল্যান্ড করার চক্রান্ত ফাঁস!

0

রিপোর্ট : বিয়ানীবাজার ভিউ ২৪ ডেস্ক, ২৪ আগস্ট ২০১৫,

জুমল্যান্ড! বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এ যেন নতুন এক ইজরাঈল। প্রাথমিকভাবে রাঙামাটি-বান্দরবান-খাগড়াছড়ি এই ৩টি প্রদেশ নিয়েই গঠিত হবে স্বাধীন রাষ্ট্র জুমল্যান্ড। স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ার জন্য ইতোমধ্যেই গোপনে সংগঠিত হয়েছে চাকমা সেনাবাহিনী। কেবল নেতার নির্দেশের অপেক্ষা। যে কোন মুহুর্তে জুমল্যান্ডের স্বাধীনতা ঘোষনা করতে পারেন চাকমাবন্ধু সন্তু লারমা। তারপরই শুরু হবে প্রতিরোধ যুদ্ধ। হানাদার বাঙালী বাহিনীকে না হটিয়ে ঘরে ফিরবে না চাকমার দামাল ছেলেরা। মাতৃভূমি জুমল্যান্ডকে দখলদার বাঙালীমুক্ত করার জন্য যত রক্ত লাগে দিতে প্রস্তুত মুক্তিকামী চাকমা জনতা। এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম চাকমাদের মুক্তির সংগ্রাম।

এই স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রয়োজনীয় অস্ত্র ও জনবল দিয়ে চাকমাদেরকে সহায়তা করার প্রস্তাব দিয়েছে বন্ধুরাষ্ট্র বার্মা। স্বাধীনতার ঘোষক সন্তু লারমা হবেন স্বাধীন জুমল্যান্ডের প্রথম রাষ্ট্রপতি। স্বাধীনতা অর্জনের পর জুমল্যান্ড আলাদা রাষ্ট্র হবে নাকি বার্মার সাথে যোগ দেবে সে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য একটি গণভোটের আয়োজন করা হবে।

না, উপরের কথাগুলো মোটেও অবাস্তব কল্পনা নয়। এটি হল বর্তমান সময়ের তিক্ত বাস্তবতা। কোন সন্দেহ নেই যে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য অঞ্চলে যুদ্ধাবস্থায় না থাকলে জুমল্যান্ড বহু আগেই স্বাধীন হয়ে যেত। তবে শুধুমাত্র সেনাবাহিনী দিয়ে তাদেরকে আর কতদিন দমিয়ে রাখা যাবে তা নিয়ে সন্দেহ আছে। ইতোমধ্যেই চাকমারা নিজেদের একটি সেনাবাহিনী গঠন করেছে- যাদের রয়েছে নিজস্ব ইউনিফর্ম এবং আগ্নেয়াস্ত্র। তাদের রয়েছে নিজস্ব পতাকা। জুমল্যান্ডকে স্বাধীন করার জন্য তারা আরো নানামুখী পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। জুমল্যান্ড থেকে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে প্রত্যাহার এবং চাকমাদেরকে স্বাধীনতা দেয়ার জন্য পরবর্তীতে বাংলাদেশের উপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করা হবে। এছাড়া বার্মা সহ বিভিন্ন বিদেশী রাষ্ট্র উপজাতিদেরকে সকল প্রকার সমর্থন ও সহায়তা দিতে আগ্রহী। এখনই পদক্ষেপ না নিলে বাংলাদেশের পাশে হয়তো গড়ে উঠবে আরেকটি ইজরাঈল। প্রথমে পার্বত্য এলাকা দখল করে তারা পরবর্তীতে বাংলাদেশের অন্যান্য এলাকার দিকে নজর দেবে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য কেবল সেনাবাহিনীর উপর নির্ভর না করে পার্বত্য এলাকায় আরো ব্যাপক পরিমানে বাঙালি বসতি স্থাপন করা উচিৎ। প্রয়োজনে পার্বত্য এলাকায় শিল্প কারখানা, গার্মেন্টস ইত্যাদি নির্মান করে দেশের অন্যান্য এলাকা থেকে পার্বত্য এলাকায় লোক স্থানান্তর করতে হবে। মোটকথা, পার্বত্য এলাকায় বাঙালীরা যাতে সংখ্যাগরিষ্ট হয় সেটি নিশ্চিৎ করা এমুহুর্তে সবচেয়ে বেশি জরুরী হয়ে দাড়িয়েছে।

 

file3

পাহাড়িদের অধিকারকামী আন্দোলনের পেজের নাম CHT-jummaland হয় কি করে ? নিশ্চিত পাহাড়িরা বাংলাদেশের মূল ভূ-খন্ড থেকে তিন পার্বত্য জেলা সমূহকে ( রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ) আলাদা করার ষড়যন্ত্র করছে এ ধরনের চিন্তাধারা দিয়ে পাহাড়ে বাংলাদেশী পুনর্বাসিত সেটেলার বাঙ্গালিরা অপপ্রচার করে সমতলের বাঙ্গালিদের কাছে পাহাড়িদের সম্পর্কে বিরূপ মনোভাব সৃষ্টি করে তাদের অপপ্রচারের পক্ষে সমর্থণ আদায় করে নিচ্ছে এবং নিতে চাচ্ছে । তাই এখনি সময় সমতলের বাঙ্গালিদের কাছে পাহাড়িদের নৈতিক দাবিসমূহ এবং পাহাড়ে পুনর্বাসিত বাংলাদেশী সেটেলার বাঙ্গালিদের মিথ্যে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে পাহাড়িদের সুস্পষ্ট মতামত তুলে ধরা ।
সমতলীয় বাঙ্গালিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি, CHT-jummaland মানে বাংলাদেশের মূল ভূ-খন্ডকে বিভাজিত করে পূর্ব তিমুরের মত আলাদা আরেকটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করা নই । এখানে CHT মানে CHITTAGONG HILL TRACTS তা সকলেই জানেন । আর jummaland মানেই আপনাদের কাছে আলাদা আরেকটি রাষ্ট্র গঠন করার পরিকল্পনা মনে হয় ।jummaland মানে আরেকটি স্বাধীন আলাদা রাষ্ট্র গঠন করা নই । আপনাদের সকলের জানা উচিত জুম্মল্যান্ড ( jummaland ) শব্দটি মূলত “জুম” নামক শব্দ থেকেই এসেছে । আর আপনারা সকলেই জানেন যে পাহাড়ে বেশির ভাগ পাহাড়ি জুম চাষের মাধ্যমেই জীবিকা নির্বাহ করে থাকে । জুম চাষ পাহাড়িদের জাতিস্বত্তার সাথে মিশে গিয়েছে । এজন্য পাহাড়িরা জুমীয় বা জুম্ম নামেও পরিচিত । আর নিজেদের জাতিকে জুম্ম বা জুমীয় নামে পরিচিতি পেতে পাহাড়িরা যতটা খুশী ঠিক তেমনি পাহাড়িরা তাদের অধু্যষিত এলাকাকে JUMMALAND ( জুম্মল্যান্ড ) হিসেবে পরিচয় করাতেও ততটা স্বাচ্ছন্দিত।

এতে তো আলাদা স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের কোন প্রশ্নই আছে না । JUMMALAND শব্দটির জন্যই যদি আলাদা স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করা মনে হয় তাহলে রাঙ্গামাটির লঙ্গুদু উপজেলার পুনর্বাসিত বাংলাদেশী সেটেলার বাঙ্গালিদের অধু্যষিত ইসলামপুর নামক একটি এলাকা দিয়েই কি আরেকটি আলাদা রাষ্ট্র গঠন করা বুঝায় ? পার্বত্য চট্টগ্রামে শুধু ইসলামপুর নামক জায়গার নাম নই, এরকম আরো শত শত জায়গা রয়েছে যেগুলো পুনর্বাসিত বাংলাদেশী সেটেলার বাঙ্গালিদের কতৃক প্রদত্ত । কই তখন তো কেউ আলাদা রাষ্ট্র গঠনের ষড়যন্ত্র খুঁজে পায় না ? এমনকি পাহাড়ে পুনর্বাসিত বাংলাদেশী সেটেলার বাঙ্গালিরা আসার পর রাঙামাট্টের আদি নাম থেকে হয়েছে রাঙ্গামাটি, হাগাড়াছড়ির আদিনাম থেকে হয়েছে খাগড়াছড়ি । কই তখনো তো কেউ আলাদা রাষ্ট্র গঠনের ষড়যন্ত্র খুঁজে পায় নি ! তাহলে পাহাড়িরা নিজেদের জাতিস্বত্তাকে পরিচিত করার জন্য তিন পার্বত্য জেলাকে ভালোবেসে JUMMALAND নাম রাখলে আলাদা দেশ গঠনের ষড়যন্ত্রের গন্ধ আছে কোথায় থেকে ? আবারো বলছি, পাহাড়িরা আলাদা কোন স্বাধীন রাষ্ট্র চাই না; পাহাড়িরা আলাদা কোন স্বাধীন রাষ্ট্র চাই না বিধায় সংঘর্ষকে বাদ দিয়ে গনতান্ত্রিক উপায়ে ১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর বোঝাপড়ার ভিত্তিতে সরকারের সাথে পার্বত্য চুক্তি করেছিলাম যেটি আবার শান্তিচুক্তি নামেও আখ্যায়িত । পার্বত্য চুক্তির ৭২ টি ধারার মধ্যে কোন আলাদা স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের কথা উল্লেখ নেই। তাহলে এখনো পর্যন্ত পাহাড়ে এত অশান্তি কেন ? কেনই বা পাহাড়িদের বিরুদ্ধে আলাদা স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের মিথ্যে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ । কারন একটাই চুক্তির ১৮ বছর পরেও বাংলাদেশ সরকার চুক্তির প্রধান ধারাগুলো বাস্তবায়ন করে নি এবং পাহাড়ে সমতলের চরের গৃহহীন লোকদের পাহাড়ে পুনর্বাসিত করে পাহাড়ি এবং বাংলাদেশী সেটেলার বাঙ্গালিদের মধ্যে সংঘর্ষ সৃষ্টি করে দিয়ে পাহাড়ে সেনা মোতায়েন করে পাহাড়কে অস্থিতিশীল করে বিশ্ব রাষ্ট্রসমূহ থেকে শান্তি ফিরিয়ে আনার নামে সহায়তা গ্রহন করা ।

Share.

Leave a Reply