আসাম-বাংলাদেশ সীমান্ত স্থায়ীভাবে বন্ধের জন্য উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার

0

বিয়ানীবাজার ভিউ২৪ ডটকম ডেস্ক, ১৫ এপ্রিল ২০১৭,

বাংলাদেশের সঙ্গে থাকা ভারতের আসাম রাজ্যের সীমান্ত স্থায়ীভাবে বন্ধের জন্য উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করবে ভারত। সীমান্তে নিশ্ছিদ্র নজরদারি নিশ্চিত করতে ভারত পন্টুন ব্রিজ, স্লুইস গেইটের সঙ্গে সঙ্গে অ্যারোস্ট্যাট রাডারও ব্যবহার করতে যাচ্ছে। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ সূত্রের বরাত দিয়ে খবরটি নিশ্চিত করেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

সীমান্তে বিএসএফ-এর প্রহরা

উল্লেখ্য, ভারতের সাথে বাংলাদেশের মোট সীমানা ৪০৯৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে আসামের সাথে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমানা রয়েছে প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার। যার ২২৩.৭ কিলোমিটারে এরইমধ্যে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া আছে। বাকি রয়েছে ৬০.৭ কিলোমিটার সীমান্ত। টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সেই অংশটি ২০১৭ সালের জুন মাসের মধ্যে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে। ওই ৬০.৭ কিলোমিটারের মধ্যে ১১. ৯ ভাগে বেড়া দেওয়া হবে। বাকি ৪৮.৮ শতাংশ অঞ্চল নদী সংলগ্ন হওয়ায় তাতে সরাসরি বেড়া দেওয়া সম্ভব নয়।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার বুধবারের (১৫ জুন) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদক এবং গরু চোরাচালানি রোধে কিছু এলাকায় উন্নতমানের ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা কাজে সহায়তার জন্য আসাম সরকারের পদস্থ কর্মকর্তা এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি দল গঠন করেছে ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)।

স্মার্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করে ৬০.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ওই সীমান্তে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হবে। নৌ-সীমান্তে পন্টুন ব্রিজ স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে বিএসএফ কর্মকর্তারা পুরো নদীজুড়ে নজরদারি চালাতে পারবেন।

এক পদস্থ কর্মকর্তা ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, প্রতিবছর ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বাড়লে বিএসএফ-এর অনেক চেকপোস্ট ভেঙে পড়ে। এই সমস্যার সমাধান করতে পারে স্লুইস গেইট।

নজরদারি আরও পোক্ত করতে অ্যারোস্ট্যাট রাডারের সঙ্গে উন্নতমানের ক্যামেরা যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘নজরদারি তথ্য সংগ্রহ এবং সঞ্চালন করার জন্য একটি স্মার্ট কন্ট্রোল রুম তৈরি করা হবে। সেখান থেকে ওই তথ্য আসামের রাজধানী গুয়াহাটি এবং দিল্লিতে পাঠানো হবে।’ সম্প্রতি বিএসএফ-এর মহাপরিচালক কেকে শর্মা এবং অতিরিক্ত মহাপরিচালক এপি মহেশ্বরী আসামের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোওয়ালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলেও জানা গেছে।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘উন্নতমানের ক্যামেরা, রাডার, ইনফ্রারেড সেন্সর এবং থার্মাল ইমেজার ব্যবহার করা হবে সীমান্ত বন্ধ করতে।’

আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোওয়ালকর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্ত নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের কাজ করবে কেন্দ্র সরকার এবং পৌর দফতর। বিএসএফ ইতোমধ্যেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছে এবং আগামী মাসে তাদের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের একটি দল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে এ বিষয়ে কথা বলবেন বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, আসামের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি নেতৃত্বের প্রতিশ্রুতি ছিল চোরাচালান ও অনুপ্রবেশ আটকাতে আসামে ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্ত বন্ধ করা। জানুয়ারিতে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং আসামের করিমগঞ্জ জেলার সীমান্ত পরিদর্শনে গিয়ে বলেছিলেন, চলতি বছরের মধ্যেই বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত বন্ধ করা হবে।
বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর আসামের নতুন মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোওয়াল মে মাসে পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান,অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ভারত আগামী দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে থাকা আসাম রাজ্যের সীমান্ত বন্ধ করে দেবে। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং দুই বছরের মধ্যে সীমান্ত স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার সময় বেঁধে দিয়েছেন। আমরা ওই সময়ের মধ্যে সীমান্ত স্থায়ীভাবে বন্ধের কার্যক্রম সম্পন্ন করার চেষ্টা করব। নদী-সীমান্তও এর বাইরে থাকবে না।’সেই ধারাবাহিকতায় এবার জানা গেল যে, উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করেই ভারত সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ার কাজ শুরু করেছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।

Share.

Leave a Reply