Beanibazar View24
Beanibazar View24 is an Online News Portal. It brings you the latest news around the world 24 hours a day and It focuses most Beanibazar.

করোনার পৃথক ৩টি ভয়ঙ্কর রূপ খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা!


বিশ্বব্যাপী এখন আতঙ্কের নাম করোনাভাইরাস। ভাইরাসটি ইতোমধ্যে ২০৯টি দেশ ও অঞ্চলে। এই ভাইরাসের তাণ্ডবে এরই মধ্যে মৃ’ত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে ইরোপের দেশ ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স, এশিয়ার চীন, মধ্যপ্রাচ্যের ইরান ও বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্র আমেরিকা।

গোটা বিশ্বে এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে ১৬ লাখ ৩ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে মৃ’ত্যু হয়েছে সাড়ে ৯৫ হাজার মানুষের।

বিশ্বব্যাপী বিপর্যয় নামিয়ে আনা এই করোনাভাইরাস নিছক সাধারণ কোনও ফ্লু ভাইরাস নয়। জিনের গঠন বদলে প্রতিনিয়ত এই ভাইরাস নিজের চরিত্রই বদলে ফেলে আরও সংক্রামক হয়ে উঠছে। এত বেশি নিজেকে বদলাচ্ছে এই ভাইরাস যে এর মতিগতি বোঝাই অসম্ভব হয় পড়ছে বিশ্বের বাঘা বাঘা ভাইরোলজিস্টদের কাছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন এখন পর্যন্ত বিশ্বে করোনাভাইরাসের প্রধান তিনটি প্রকারের সন্ধান মিলেছে। এই তিন প্রকারের করোনা মানুষের ইমিউন সিস্টেমের সক্ষমতা বুঝে আক্রমণ করছে এবং সে অনুযায়ী করোনভাইরাসটি নিজের স্ট্রেনগুলো পরিবর্তন করে মানুষকে সংক্রমিত করছে।

২৪ ডিসেম্বর থেকে ৪ মার্চ পর্যন্ত ভাইরাসটির জিনগত ইতিহাসের ম্যাপ করা হয়েছিল। সেখানেই এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। দেখা গেছে, করোনার তিনটি প্রকার ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত হলেও প্রত্যেকটির আলাদা আলাদা ক্ষমতা ও রূপ রয়েছে। তিনটি দলের আক্রমণের টার্গেটও ভিন্ন ভিন্ন।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা আবিষ্কার করেছেন যে, এখন চীনের উহান এবং পূর্ব এশিয়ায় যে ভাইরাসগুলো দেখা যাচ্ছে সেটা এই ভাইরাসের মূল প্রকার নয়। এটি মূলত নতুন একটি প্রজাতি। পরিবর্তিত এই স্ট্রেন (টাইপ-বি নামে পরিচিত) এবং মূল সার্স-কোভি -২ ভাইরাস থেকে উদ্ভূত যা বাঁদুড় কিংবা প্যাঙ্গোলিনের (টাইপ-এ) মাধ্যমে মানুষের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। টাইপ-এ ভাইরাস এখন আমেরিকা এবং অস্ট্রেলিয়ায় দেখা যাচ্ছে। এছাড়া টাইপ-সি নামের আরেকটি প্রকার উহানের টাইপ-বি থেকে পরিবর্তিত হয়ে সিঙ্গাপুর হয়ে ইউরোপে ছড়িয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন, ভাইরাসটি বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর প্রতিরোধ ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকতে ক্রমাগত নিজেকে পরিবর্তন করে চলেছে। টিকে থাকার জন্য এই ভাইরাসের নিজেকে পরিবর্তনের অসম্ভব রকম ক্ষমতা রয়েছে।

গবেষকরা ভাইরাসটির এই পরিবর্তন পরীক্ষায় প্রাচীন মানুষের প্রাগৈতিহাসিক স্থানান্তর সনাক্ত পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করেছেন। সার্স-কোভি-২ ভাইরাসের সংক্রমণে ট্র্যাক করার জন্যও এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল। মূলত সার্স-কোভি-২ থেকেই কোভিড-১৯ এর জন্ম হয়।

কেমব্রিজের ম্যাকডোনাল্ড ইন্সটিটিউট অব আর্কিওলজিক্যাল রিসার্সের ফেলো ড. পিটার ফস্টার বলেছেন, তার দল ফেব্রুয়ারিতে ভাইরাসটির জিনোমিক বিবর্তন সন্ধান করতে শুরু করে। ভাইরাসটি আন্তর্জাতিকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় এটা অনিবার্য হয়ে পড়েছিল।

প্রায় ৬০ হাজার বছর পূর্বে আফ্রিকা থেকে মানুষের অভিবাসনের সন্ধান করতে ১৯৯০-এর দশকে যে সংশোধিত দীর্ঘ-প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতিগুলোর প্রয়োগ করা হয়েছিল করোনার উৎপত্তি সন্ধানেও একই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়।

ডা. ফস্টার বলেছেন, ‘একটি জার্মানভিত্তিক জিআইএসএআইডি ডাটাবেস ওয়েবসাইট থেকে করোনভাইরাসটির মোট ১৬০টি অক্ষত জিনোম গবেষকদের দলকে সরবরাহ করা হয়েছিল। এগুলোতে ইউরোপ এবং আমেরিকার প্রথম অনেকের নমুনা ছিল। ভাইরাসটির প্রথম জিনোমিক স্ন্যাপশট আপনাকে মহামারিটির সূচনা দেখার সুযোগ করে দেয়।’

ভাইরাসটির মূল প্রকার (টাইপ-এ) চীনে দেখা যায়নি। উহানের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বি টাইপ পাওয়া গেছে। ইউরোপ এবং আমেরিকায় পাওয়া প্রকারটি টাইপ-এ। এছাড়া প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, তৃতীয় প্রকার টাইপ-সি প্রথমে ছড়ায় সিঙ্গাপুরে।

টাইপ-এ বাদুড় এবং পাঙ্গোলিনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কাছের এবং এটি প্রাদুর্ভাবের মূল হিসেবে বিবেচিত। এটি উহানে পাওয়া গিয়েছিল তবে সেখানে খুব বেশি ছিল না।

টাইপ-এ এর আবার দুটি সাব-ক্লাস্টার রয়েছে। প্রথমটি হচ্ছে, টি-অ্যালিল হিসেবে চিহ্নিত। পূর্ব এশিয়ায় পাওয়া ভাইরাসের সঙ্গে এটির যথেষ্ট সংযোগ রয়েছে কারণ এটি উহানে বসবাসকারী আমেরিকানদের মধ্যে পাওয়া গিয়েছিল। তবে, দ্বিতীয় এ টাইপ সাব-ক্লাস্টার, সি-অ্যালিল নামে পরিচিত। মিউটেশনের একটি স্ট্রিংয়ের কারণে এটা কিছুটা আলাদা।

পিএনএএস জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় গবেষকরা লিখেছেন, এটি লক্ষণীয় যে এই সাব-ক্লাস্টারে প্রায় অর্ধেক প্রকার পূর্ব এশিয়ার বাইরে, মূলত যুক্তরাষ্ট্র এবং অস্ট্রেলিয়ায় পাওয়া গেছে।
সূত্র: মেইল ইউকে

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.