বিশেষ প্রতিবেদনমতামতস্বাস্থ্যকথা

মাত্র ৫ হাজার টাকায় যখন হার্টের অপারেশন বাংলাদেশেই!







এই অপারেশনটা একটু ভিন্ন পদ্ধতির। সাধারণত বুকের হাঁড় কেটে ওপেন হার্ট সার্জারি করা হয়। কিন্তু এই পদ্ধতিতে বুকের হাঁড় না কেটেই অপারেশন করা সম্ভব। এজন্যে বিকল্প হিসেবে পাঁজরের মাঝে ছোট একটা ছিদ্র করা হয়। এই পদ্ধতিতে রোগী কম ব্যাথা অনুভব করেন এবং সুস্থ হয়ে উঠেন দ্রুত।



এই ধরণের অপারেশন খুব অল্প কিছু উন্নত দেশের ভালো হাসপাতালেই এতোদিন করা হতো কেবল। বাংলাদেশে ছিলো না এই পদ্ধতি। কিন্তু, প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে সফলভাবে এই পদ্ধতিতে অস্ত্রোপচার করা হয়। জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের ডাক্তাররা এই পদ্ধতিতে অপারেশনে সফল হয়েছেন।



বাংলাদেশে চিকিৎসা খাতে এটি একটি নতুন মাইলফলক এবং চিকিৎসকদের সাফল্যের পালকে যুক্ত হলো আরো একটি দারুণ অর্জন। যদিও চিকিৎসকদের এই অর্জন নিয়ে নেই তেমন উচ্চবাচ্য। সোশ্যাল মিডিয়ায় তারা ভাইরাল হননি, কেউ তাদের অর্জনে ধন্যবাদ কিংবা শুভকামনা জানিয়েও পোস্ট করেননি।



এতে বোঝা যায়, আমরা কত তীব্রভাবে ভুল শিরোনামে আসক্ত একটি প্রজন্ম হিসেবে বেড়ে উঠছি। খারাপ খবরগুলো কিংবা কারো চরিত্রহননের খবরগুলো নিয়ে আমরা বিশেষজ্ঞ মতামত দিয়ে বেড়াই। আমরা নীতির কথা শুনাই। দেশপ্রেমের কথা শুনাই। কি উচিত কি অনুচিত এই তর্কে দুইভাগ হয়ে থাকি। কিন্তু, আমরা ভালো কাজ, নৈতিক কাজ, উদ্ভাবন, অন্যের অর্জনকে সাধুবাদ জানাই খুব কমই।



যাইহোক, চিকিৎসকরা সাম্প্রতিক সময়ে বেশ ভালো কিছু অর্জন যোগ করেছেন এই খাতে। নিজেদের পেশাগত অবস্থান থেকে তারা যা করছেন এটাই তাদের জায়গা থেকে দেশপ্রেম। কারণ, তাদের এই অভিজ্ঞতা, আন্তরিকতা এবং প্রচেষ্টা দিনশেষে দেশের মানুষের জন্যেই উপকারী হয়ে উঠবে।

এই অপারেশনটি পরিচালনা করেছিলেন ডা. আশরাফুল হক সিয়ামের নেতৃত্বে ১০ জন ডাক্তারের একটি টিম। ১২ বছর বয়সী নুপুরের হৃদযন্ত্রে তারা সফল এই অপারেশন পরিচালনা করেন। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্ডিয়াক সার্জন অধ্যাপক ডা. ফারুক আহমেদ ও ডা. প্রশান্ত কুমার চন্দও এসময় উপস্থিত ছিলেন।



অস্ত্রোপচার প্রসঙ্গে ডা. সিয়াম বলেন, “ডাক্তারি ভাষায় এই ধরণের অস্ত্রোপচারকে মিনিমাল ইনভেসিভ কার্ডিয়াক সার্জারি বলা হয়ে থাকে। মিনিমাল ইনভেসিভ কার্ডিয়াক সার্জারির ক্ষেত্রে ওপেন হার্ট সার্জারির বিকল্প হিসেবে বুকে একটি ছোট ছিদ্র করে অপারেশন করা হয়। এতে বুকের হাঁড় কাটতে হয় না। চিকিৎসকরা পাঁজরের মাঝখানে ছিদ্র করে কাজ করেন। এতে ব্যথা কম হয় এবং রোগী দ্রুত সেরে ওঠে। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন দেশে প্রথম এধরনের সার্জারি সম্পন্ন করে। তবে, দেশের কোনও বেসরকারি হাসপাতালে এখনও পর্যন্ত এই পদ্ধতিতে অস্ত্রোপচার করা হয়নি। সরকারি হাসপাতালে এই ধরণের অস্ত্রোপচার এই প্রথম।”

এই নতুন যে পদ্ধতিতে প্রথমবারের মতো জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের ডাক্তাররা হার্ট অপারেশন করলেন, ভাবতে বেশ অবাক এবং আনন্দ লাগে এই অপারেশনে ব্যয় মাত্র ৫ হাজার টাকা। এতো কমে বিশ্বমানের এক অপারেশন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশি ডাক্তারদের যুক্ত হওয়াটা চিকিৎসা খাত নিয়ে আশাবাদী করে তুলবে আমাদের। চিকিৎসকদের এই সাফল্যে অভিনন্দন!
– ডি সাইফ














Related Articles

Close