বিনোদন

সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ুর জন্য অক্সিজেন চেম্বারে ঘুমাতেন মাইকেল







তুমুল জনপ্রিয় মার্কিন পপ গায়ক, গীতিকার, নৃত্যশিল্পী, অভিনেতা ও ব্যবসায়ী মাইকেল জ্যাকসন ১৯৫৮ সালের আজকের এই দিনে (২৯ আগস্ট) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আফ্রিকান-আমেরিকান একটি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

তার বাবা জো জ্যাকসন পেশায় ছিলেন ইস্পাত শ্রমিক। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় একটি ব্যান্ডদলে গিটার বাজাতেন তিনি। জ্যাকসনের মা ক্যাথরিন জ্যাকসন বাড়তি কিছু উপার্জনের জন্য খণ্ডকালীন চাকরি করতেন। পিয়ানো বাজানোতেও সিদ্ধহস্ত ছিলেন ক্যাথরিন। ১০ ভাই-বোনের মধ্যে অষ্টম ছিলেন মাইকেল জ্যাকসন।



শৈশব থেকে বই পড়ার অভ্যাস ছিল জ্যাকসনের। শৈশবে তাঁর পছন্দের দুটি বই ছিল ‘দ্য ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি’ এবং ‘রিপ ভ্যান উইঙ্কেল’। চার বছর বয়স থেকেই গান গাওয়া শুরু করেছিলেন মাইকেল জ্যাকসন। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে প্রথম জনসমক্ষে গান করেন তিনি। ‘ক্লাইম্ব এভরি মাউন্টেন’ গানটি গেয়ে শুনিয়েছিলেন ছোট্ট জ্যাকসন।



১৯৯৩ সালে জ্যাকসনের বিরল চর্মরোগ ভিটিলিগোর কথা জানান তাঁর ত্বক বিশেষজ্ঞ। মাত্র এক থেকে দুই শতাংশ মানুষ এই রোগে ভোগে। এই রোগের কারণে ত্বকের কোষের স্বাভাবিক রঞ্জনপ্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।

ঘুমের জন্য অক্সিজেন চেম্বারে ঘুমাতেন মাইকেল জ্যাকসন। সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু পাওয়ার জন্য তিনি এ পন্থা বেছে নিয়েছিলেন। একবার তিনি দাবি করেছিলেন, অক্সিজেন চেম্বারে ঘুমানোর জন্য অন্তত ১৫০ বছর বাঁচবেন তিনি। জ্যাকসনের ডাকনাম ছিল ওয়াকো জ্যাকো। কিন্তু নামটি খুবই অপছন্দ করতেন তিনি।



১৯৬৪ সালে যাত্রা শুরু করে ব্যান্ডদল দ্য জ্যাকসন ফাইভ। ব্যান্ডটির সদস্য ছিলেন জ্যাকসন ও তাঁর চার ভাই। শুরুর দিকে ব্যান্ডটিতে নিজের কণ্ঠকে মিনি মাউস চরিত্রের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন জ্যাকসন। শিশুতোষ উপন্যাস ‘দ্য ওয়ান্ডারফুল উইজার্ড অব ওজে’ অবলম্বনে নির্মিত ‘দ্য উইজ’ (১৯৭৮) ছবিতে স্কেয়ারক্রো চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন মাইকেল জ্যাকসন।



১৯৮২ সালের ৩০ নভেম্বর মুক্তি পায় মাইকেল জ্যাকসনের ষষ্ঠ একক অ্যালবাম ‘থ্রিলার’। ইউএস বিলবোর্ড চার্টে টানা ৩৭ সপ্তাহ শীর্ষস্থান ধরে রেখেছিল অ্যালবামটি। সর্বকালের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া অ্যালবামের রেকর্ডও গড়েছে ‘থ্রিলার’। বিশ্বব্যাপী অ্যালবামটির ৫০ মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছে। ‘কিং অব রক অ্যান্ড রোল’ এলভিস প্রিসলির একমাত্র মেয়ে গায়িকা লিসা মেরি প্রিসলিকে বিয়ে করেছিলেন ‘পপ কিং’ মাইকেল জ্যাকসন। কিন্তু মাত্র ১৯ মাসের মাথায় তাদের দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটে। ১৯৮৪ সালে পেপসির একটি বিজ্ঞাপনচিত্রের শুটিং করতে গিয়ে অল্পের জন্য অগ্নিদগ্ধ হননি জ্যাকসন। ওই দুর্ঘটনায় তার মাথার চুল পুড়ে গিয়েছিল।



১৯৮৪ সালে আটটি গ্র্যামি পুরস্কার অর্জন করে রেকর্ড গড়েছিলেন ‘পপ কিং’। এক আসরে এতগুলো গ্র্যামি পুরস্কার ঝুলিতে ভরার রেকর্ড ভাঙতে পারেননি আর কোনো সংগীতশিল্পী। জীবদ্দশায় মোট ১৩টি গ্র্যামি পুরস্কার পেয়েছিলেন জ্যাকসন। ১৯৯৭ সালে এক জরিপে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব নির্বাচিত হয়েছিলেন জ্যাকসন।

২০০৯ সালের ২৫ জুন মাত্রাতিরিক্ত প্রপোফল সেবনে মাত্র ৫০ বছর বয়সে মাইকেল জ্যাকসন মৃত্যুবরণ করেন।














Related Articles

Close