মৌলভীবাজারসিলেট

মৌলভীবাজারে বসে লন্ডনে ফুঁ দেন পীরানি







মৌলভীবাজারের পাগুলিয়ায় বসে লন্ডনে ফুঁ দেন। সারিয়ে তুলেন রোগীকে। এক ফুঁ দিচ্ছেন রোগীও সুস্থ হয়ে উঠেছে। এমন আজব চিকিৎসা দিয়ে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছেন এক নারী। স্থানীয়রা তাকে পীরানি আপা নামেই চিনে। তার নাম ছড়িয়ে পড়েছে প্রবাসীদের মধ্যেও। সেই সুযোগে হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অংকের অর্থ।

অনুসন্ধানে এমন উদ্ভট চিকিৎসকের মুখোশ উন্মোচন হয়েছে। আধুনিক চিকিসা বিজ্ঞানের যুগে এমন অবাস্তবিক কুসংস্কার থেকে প্রতারিত না হতে পরামর্শ দিচ্ছেন সচেতন মহল। সেই সাথে এসব প্রতারক চক্রকে সামাজিক ভাবেও প্রতিরোধ করাতে বলছেন তারা।



অনুসন্ধানে জানা যায়, মৌলভীবাজার শহরতলীর পাগুলিয়া এলাকায় বসবাস করেন পীরানি আপা। তিনি সব রোগের সমাধান করে দিতে পারেন এমন কুসংস্কারের জন্ম দিয়েছেন। তার দেয়া পানি পরা, তেল পরা, তাবিজসহ বিভিন্ন ঝাঁড়-ফুঁক এমনিক ঔষধে রোগ নিরাময়ের জন্য নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। এই অদ্ভট চিকিৎসা দিয়ে কয়েক বছর ধরে রোগীদের সাথে প্রতারণা করে আসছেন এই পীরানি। তার ফাঁদে পড়ছেন প্রবাসীরা। হাতিয়ে নিচ্ছেন অর্থ। মৌলভীবাজার প্রবাসী অধ্যুষিত হওয়ায় তার প্রতারণার এমন ফাঁদ পেতেছেন।

সরেজমিনে শহরতলির পাগুলিয়া এলাকায় গেলে দেখা যায় পীরানির আস্তানা। স্থানীয় মসজিদের পাশের বসত ঘরেই গড়ে তুলেছেন তার আস্তানা।



এলাকাবাসী জানান, দুই বছর আগে তিনি বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াতেন। এখন তিনি নিজের বাড়িতেই বসেন, সেখানেই বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন আসেন।

স্থানীয় না প্রকাশে অনি”ছুক এক ব্যাক্তি সিলেটভিউকে বলেন, “উনি পীরানি সেজে মানুষের সাথে প্রতারণ করে আসছেন। আমরা স্থানীয় কেই তাকে বিশ্বাস করি না। কিন্তু বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লোকজন আসেন তার কাছে”।

সরেজমিনে প্রতিবেদক রোগী স্বজন ছদ্ধবেশে গেলে পীরানির সাথে দেখা কারতে চাইলে তিনি কার মাধ্যমে এসেছি সেটা জানতে চান। দেখা হয় তার সহকারি মোল্লা নামের একজনের সাথে। তিনি জানান- “আমরা অপরিচিত কাউকে পীরানির সামনে নিয়ে যাই না। আমরা কোন মাধ্যম ছাড়া পীরানির সাথে যোগাযোগের নাম্বারও দেই না”। রোগীর মোবাইল নাম্বার প্রয়োজন বললে মোল্লা নিজের মোবাইল নাম্বার দেন।



মোল্লা স্বীকার করে বলেন যে দেশের তুলনায় বিদেশের মানুষ বেশী পীরানির চিকিৎসা নেন। বিদেশ থেকে লোকজন কিভাবে যোগাযোগ করে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন- কেউ সরাসরি কল করেন আবার কেউ ওয়ার্সঅ্যাপের মাধ্যমে কল করেন।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, কলোনির মত সামান্য ভাঙাচুরা ঘরে পীরানি বসবাস করেন। অনেকেই তাকে কবিরাজ বলে থাকেন। নিজ বসতঘরেই কবিরাজীর কারসাজি করছেন পীরানি। তার এমন উদ্ভট চিকিৎসার নামে প্রতারণার ফাঁদে পড়েছেন অনেক লোক। এদের মধ্যে প্রবাসীদের সংখ্যাই বেশী।



এক লন্ডন প্রবাসী জানান, “পীরানি আপার নাম শুনে তিনি চিকিৎসা নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কোন চিকিৎসা না দিয়ে তার বদলে আজকুবি কথাবার্তা বলে তিনি অনেক অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। তিনি জানান তার মত অনেকেই বিদেশ থেকে প্রতারিত হয়েছেন। আবার অনেকে অন্ধ:বিশ্বাস করে চিকিৎসা নিচ্ছেন”।

আরেক গৃহবধূ জানান, “তার শ্বাশুড়িকে ভূল বুঝিয়ে অনেক জাদুটানার মত ভূয়া কাজে এই পীরানি লিপ্ত করেছে। শ্বাশুড়িও অন্ধ বিশ্বাস করে অনেক অর্থ পীরানির কাছে পাঠিয়েছেন। তিনি প্রতারণার স্বীকার হয়েছেন।

এবিষয়ে সম্মিলিত সামাজিক উন্নয়ন পরিষদের সহ-সভাপতি এম. মুহিবুর রহমান মুহিব বলেন, “শরিয়ত কখনই উদ্ভট চিকিৎসাকে সাপোর্ট করে না। কারণ কুরআনই হচ্ছে আধুনিক চিকিৎসা। কিছু ভন্ড প্রতারক চক্র নিজেদের জীবন নির্বাহ কিংবা অর্থ হাতিয়ে নেয়ার জন্য পীর/ফকির সেজে মানুষদের সাথে প্রতারণ করে আসছে। এটা সম্পূর্ণ শরিয়ত বিরোধী। মানুষকে এই বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। সামাজিক ভাবে এদের প্রতিরোধ করতে হবে।
– সি‌লেট‌ভিউ২৪ডটকম

Related Articles

Close