সিলেটসোশ্যাল মিডিয়া

সিলেটের ছিনতাইকারী চক্র! সতর্ক থাকুন







এনজে বাহারুল হক সুমন ::দুপুরের সূর্য খাড়াভাবে রোদ দিচ্ছে। খাসদবীর পয়েন্টে মসজিদের কাছে দাঁড়িয়ে সিএনজির অপেক্ষায় ছিলাম। আমার কাছ থেকে চার-পাঁচ ফিট সামনেই একজন বয়স্ক মানুষ সিএনজির জন্য অপেক্ষা করছেন আম্বরখানায় যাওয়ার জন্য। ঠিক সেই মুহুর্তেই একটি সিএনজি আসলো।

ওখানে ড্রাইভার সহ আগে থেকেই পাঁচজন ছিল। বয়স্ক লোকটি উঠতে গেলে তারা উনাকে না নিয়ে বরং আমাকে ডাকলো উঠার জন্য। আমি মুরব্বিকে উঠতে বললাম। ওরা আমাকেই উঠতে বললো। জরুরি প্রয়োজন বলে মুরুব্বির অনুমতি নিয়ে উঠলাম। গাড়িতে উঠেই তাদের সম্পর্কে আমার কেমন যেন একটা বোধ হলো।



ঠিক এই মুহুর্ত থেকে পরবর্তী স্ক্রিপ্ট আপনাদের সবার ই জানা আছে!ড্রাইভার অকারণেই বারবার হার্ড ব্রেক করছে। আর পাশের লোকটা একটি কোট ও ফাইল এমনভাবে রাখছে যা আমার প্যান্টের ডানপকেটটাকে ঢেকে রাখছে। কাহিনি মনে পড়ে গেলো!

আর ঐ মহাশয় ও মোবাইলটা ধীরে ধীরে চেপে বের করার চেস্টা করছেন। আমি বুঝতে পেরে একটু টাইট করি প্যান্টের পকেটটা। অকারণে হার্ড ব্রেক করা চলছেই। মোবাইলটা হাতে নেয়ার জন্য বেচারা বেশ চেস্টা করছে বুঝতে পারার পর আমি পকেট থেকে বের করে হাতে রাখি। এর একটু পরেই ড্রাইভার সহ বাকি পাঁচজন ই বলছে হাউজিং স্টেট দিয়ে আম্বরখানায় যাবে।



এদিকে এত পথ ঘুরে আম্বরখানায় যাওয়ার প্রশ্নই উঠেনা। তাদের উদ্দেশ্য ছিল নিরিবিলি জায়গাতে গেলেই তারা নিজেদের কাজটা সেরে ফেলবে।
যাই হোক, তাদের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে আমি মাঝপথেই নেমে পড়ি। এখানে পাঁচজনের সাথে পেরে উঠবো না বলেই পরের আরেকটা সিএনজিতে উঠে আম্বরখানায় আসলাম তাদের পেছন পেছন। এই সময়টায় আম্বরখানায় জ্যাম থাকে৷

এসে একটু খোঁজার পর সামনেই দেখি ওদেরকে। প্রথমেই তাদের গাড়ির নাম্বার প্লেইটের ছবি তুলি। এরপরে একটু দূর থেকে তাদের ছবি তোলার চেস্টা করি। তাদের একজন দেখে আরেকজনকে সাথে নিয়ে এসে আমার গেঞ্জির কলারে ধরে জিজ্ঞেস করছে ছবি তুললাম কেন।



আরেকজন পেছন থেকে আমাকে জোরে একটা ঘুষি মারলো। আমিও উপায় না দেখে জোরে চিল্লানি দিয়ে বললাম তোরা ছিনতাইকারী। বলেই প্রথমে যে আমাকে ঘুষি দিলো তাকে কয়েকটা দিলাম। আরেকটা আমাকে গালি দিছে পরে তার কলারে ধরে কিছুক্ষণ সাইজ করলাম।

সাথেরটা পরিস্থিতি বুঝতে পেরে পাশেই দাঁড়ানো সেই সিএনজিতে উঠার পর তারা দ্রুতই চলে যায়। তখনো একটাকে আমি শক্ত করে ধরে দিচ্ছিলাম সেই মত। ‘ ফাব্লিক অহন মারাত্মক’ তারাও শুরু করলেন।



সিদ্ধান্ত নিলাম কিছু একটা করতে হবে। সাথে সাথেই ভাইস চ্যান্সেলর স্যারকে কল দিলাম। স্যার ফোন ধরেই আমার হাঁপানো কণ্ঠ আর মানুষের চিৎকার শুনে জিজ্ঞেস করলেন আমি আছি কোথায়। স্যারকে বললাম ঘটনা। স্যার সাথে সাথেই পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ইনফর্ম করে আমাকে বললেন আমি যেন ঠিক সেই জায়গাটাতেই থাকি। ৫-৭ মিনিটের ভিতরেই বেশ ক’জন পুলিশ অফিসার ও টহলরত কয়েকটি গাড়ি ভর্তি পুলিশ এসে হাজির। এসেই শুরু করলেন উনাদের কাজ। উনারা আমাকে বললেন থানায় যেতে।



শেষপর্যন্ত বললেন মামলা করার জন্য। আমাকে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন এসিস্ট্যান্ট প্রক্টর আলমগীর কবির স্যার ও আবু হেনা পহিল স্যার। তাঁরা আমাকে পরামর্শ দিলেন ব্যক্তিগতভাবে অভিযোগ দায়ের না করার জন্য। এতে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়। প্রক্টরিয়াল বডি থানার কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেছেন অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে।




বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেই মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে। আপনাদের প্রতি পরামর্শ রইলো সাবধানে চলাফেরা করবেন। এই গ্রুপে আগে থেকে এমন অভিজ্ঞতার কথা জেনেছি বলেই আমি নিজেকে অঘটন থেকে বাঁচাতে পেরেছি। এজন্য শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

ভাইস চ্যান্সেলর স্যার, আলমগীর কবির স্যার ও আবু হেনা পহিল স্যারের এমন আন্তরিক ও তাৎক্ষণিক সাড়া প্রদানের জন্য কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। পুলিশের কর্মকর্তাবৃন্দরাও ঘটনাস্থল ও থানায় অনেক আন্তরিকতার সাথে সহযোগিতা করেছেন।
লেখাঃ এনজে বাহারুল হক সুমন,শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ, শাবিপ্রবি।










Related Articles

Close