সারাদেশ

আবরারের ভাবিকেও পি’টিয়ে জ’খম করল পু’লিশ






বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে গ্রামবাসীর তো’পের মুখে রায়ডাঙ্গা গ্রামে থেকে পা’লিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম। (যুগান্তর)

শেষ পর্যন্ত আবরারের বাড়িতে না ঢুকে সামনের রাস্তা থেকে পু’লিশ ও আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের প্র’হরায় তিনি দ্রুত চলে যান।



ভিসিকে সরিয়ে দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে পু’লিশের সঙ্গে গ্রামবাসীর ধাও’য়া-পা’ল্টা ধা’ওয়া শুরু হয়।

পু’লিশ আবরারের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজকে মা’রধ’র করে এবং আবরারের মামাতো ভাবি তমাকে বে’ধড়ক পি’টিয়ে আ’হত করেছে বলে অ’ভিযোগ করে আবরারের পরিবার। তাকে কুমারখালী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামে এ সব ঘটনা ঘটে।



আবরারের ছোট ভাই ফাইয়াজ বলেন, পু’লিশ আমার গা’য়ে হা’ত দিয়েছে। বু’কে গু’তো মে’রেছে। কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পু’লিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান নিজে আমাকে মে’রেছে। আমার এক ভাইকে পি’টিয়ে মে’রেছে, এবার পু’লিশ কী আমাকে মা’রবে?

আ’হত অ’বস্থায় ফাইয়াজ সাংবাদিকদের বলেন, আমি ভিসি স্যারের নিকট জানতে চাইলাম আমার ভাইয়ার খু’নিদের এখনও কেন ব’হিষ্কার করা হয়নি। এ সময় তিনি নীরব ছিলেন, আমি আমার ভাইয়ের হ’ত্যা সম্পর্কে আরও প্রশ্ন করতেই তিনি কোনো জবাব না দিয়ে গাড়িতে উঠে চলে যাওয়ার মুহূর্তে অতিরিক্ত পু’লিশ সপুার মোস্তাফিজুর রহমান আমার বু’কের উপর হাত দিয়ে মা’রাত্মকভাবে আ’ঘা’ত করেন। এতে আমি মা’রাত্মকভাবে আ’ঘা’ত পেয়েছি।



তিনি বলেন, আমার মামাতো ভাবিকে প্র’কাশ্যে শ্লী’লতা’হানি করা হয় এবং এলাকাবাসীকে ধ’রপা’কর করা হবে বলে পু’লিশ হু’মকি প্রদর্শন করায় আমরা আ’তং’কে আছি।

অতিরিক্ত পু’লিশ সুপারের প্র’ত্যাহারের দাবি জানিয়ে ফাইয়াজ বলেন, আমার ভাইয়াকে হ’ত্যা করা হয়েছে আর আমাদের পু’লিশ হু’মকি দিচ্ছে। প্রয়োজনে আমিও জীবন দিতে প্রস্তুত রয়েছি।

ফাইয়াজ বলেন, ভিসি দায়িত্বহী’নতার পরিচয় দিয়ে আমাদের বাড়ির দরজার কাছ থেকে ফিরে গিয়ে আমাদের কষ্টের মধ্যে ফেলে গেল। এই ভিসির ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার নেই, স্বেচ্ছাই পদত্যা’গ করতে হবে।



প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভিসি আসার সংবাদ পেয়ে আবরারের বাড়ির সামনে জড়ো হতে থাকে গ্রামবাসী। মুহূর্তেই কয়েক হাজার নারী-পুরুষ আবরারের বাড়ির সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকে।

বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ওই গ্রামে যান উপাচার্য। সেখানে গিয়ে রায়ডাঙ্গা ক’বরস্থানে আবরারের ক’বর জিয়ারত করেন। কিছুক্ষণের মধ্যে পুরো এলাকা জনসমুদ্রে রূপ নেয়। ভিসিকে নিরাপত্তা দিতে কয়েকশ’ পু’লিশের সঙ্গে সেখানে অবস্থান নিতে থাকে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।



ক’রব জিয়ারত শেষে আবরারের বাড়ির দিকে আসতে থাকে ভিসির গাড়িবহর। আবরারের বাড়ি ঢোকার মুখে ভিসির গাড়ির সামনে নারীরা শু’য়ে পড়েন। অবস্থা বে’গতিক দ্রুত গাড়ি ঘুরাতে থাকেন।

এ সময় হাজার হাজার নারী-পুরুষ ভু’য়া ভু’য়া বলে স্লো’গান দিতে থাকে। পরে পু’লিশ ও আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের প্র’হরায় জেলা প্রশাসকের গাড়িতে করে ওই এলাকা ত্যা’গ করেন ভিসি।

ভিসির গাড়িবহর চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পু’লিশের সঙ্গে গ্রামবাসীর সং’ঘ’র্ষ শুরু হয়। পু’লিশ লা’ঠিচা’র্জে আবরারের মামাতো ভাবি তমা গু’রুতর আ’হত হয়েছেন। তাকে কুমারখালী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে গ্রামবাসীর প্র’তিরো’ধের মুখে পু’লিশ ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। পরে কয়েক ঘণ্টা বি’ক্ষো’ভ করেন গ্রামবাসী।
– যুগান্তর














Related Articles

Close