আন্তর্জাতিক

গোপন কারাগারে সৌদিতে নারীদের উপর যৌন নির্যাতন!







অভাবের তাড়নায় পরিবারকে সুখে রাখতে স্বদেশ ও স্বজনদের ছেড়ে ভিনদেশে পাড়ি দেয়া প্রবাসী শ্রমিকদের মধ্যে রয়েছে অনেক নারী শ্রমিকও। যার একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে গৃহকর্মীর কাজে নিয়োজিত। প্রবাসে থাকা নারী গৃহকর্মী নির্যাতনের কথা আমরা প্রায় শুনে আসছি মিডিয়ার মাধ্যমে। কিছু কিছু ঘটনার বিবরণ হতবাক করে দেয় সবাইকে।



বাংলাদেশের নারী গৃহকর্মীরা সৌদি আরবে যাওয়ার পর থেকেই বেতন নিয়ে বঞ্চনার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করে আসছেন। এবার সেই অভিযোগের খাতায় যোগ হয়েছে নতুন অধ্যায়। শুধু নারী শ্রমিকদেরই নয়, সৌদি আরবে গোপন কারাগারে আটকে নারী অধিকারকর্মীদের যৌন নির্যাতন করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তার এক রিপোর্টে এ ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেছে।

রিপোর্টে বলা হয়, সৌদি আরবে গোপন কারাগারে আটক নারী অধিকারকর্মীদের যৌন নির্যাতন করা হয়েছে। বৈদ্যুতিক শক দেয়া হয়েছে। তদন্তকারীদের সামনে একজন নারীকে অন্য একজন নারীর চুমু দিতে বাধ্য করানো হয়েছে। ভয় দেখানো হয়েছে ওয়াটারবোর্ডিং বা পানিতে ডুবিয়ে স্বীকারোক্তি আদায়ের। এসব নারীর কাছে যাওয়ার সুযোগ দেয়ার জন্য বৃটিশ এমপিরা রিয়াদের ওপর চাপ বৃদ্ধি করেছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।



অ্যামনেস্টি শুক্রবার প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলেছে, কমপক্ষে ১০ জন নারী অধিকারকর্মীকে নির্যাতন করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন অধিকারকর্মীকে তদন্তকারীরা বলেছেন, তার পরিবারের সদস্যরা মারা গেছেন।

আসলে এটা ছিল মিথ্যা কথা। ওই অধিকারকর্মী পরিবার হারানোর বেদনা এক মাস ধরে বয়ে বেড়াচ্ছিলেন। গোপন কারাগারে আটক রাখা হয়েছে বন্দিদের। তাদেরকে এতটাই দুর্বল করে দেয়া হয়েছে যে তারা দাঁড়াতেই পারেন না।

গত বছর ব্যাপক হারে যখন সৌদি আরবে গ্রেপ্তার অভিযান শুরু হয় তখন এসব নারী অধিকারকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এর মধ্যে আছেন সুপরিচিত অধিকারকর্মী লুজাইন আল হাতলোল এবং আজিজা আল ইউসেফ। তারা নারীদের গাড়ি চালানোর অধিকারের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন।



এ ছাড়া পুরুষ শাসিত ব্যবস্থার বিরুদ্ধেও তারা কথা বলছিলেন। তবে তাদের কাউকেই আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করা হয় নি বা বিচারে তোলা হয় নি। অনেকের আইনী সহায়তা দেয়ার কোনো প্রতিনিধিও নেই।

এসব বিষয় তখনই বেরিয়ে এলো যখন বৃটেনের আন্তঃদলীয় এমপি ও আন্তর্জাতিক আইনজীবীরা সৌদি আরবকে একমাসের সময় দিয়েছে, তাদেরকে ওইসব নারীদের কাছে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে।

এ বিষয়ে এই গ্রুপটি বৃটেনে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত প্রিন্স মোহাম্মদ বিন নাওয়াফ বিন আবদুল আজিজের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে। তারা চাইছেন আটক ১০ জন নারীর সঙ্গে কথা বলে তাদের অবস্থা জানতে।

এই গ্রুপটি বলছে যদি ২৯ জানুয়ারির মধ্যে এ বিষয়ে সৌদি আরব কোনো ইতিবাচক সাড়া না দেয় তাহলে ওইসব নারীদের বিরুদ্ধে যেসব দুর্ব্যবহার করা হয়েছে তার বিস্তারিত শিগগিরই প্রকাশ করে দেয়া হবে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মিডল ইস্ট রিসার্চ বিষয়ক পরিচালক লিন মালুফ বলেছেন, এসব নারী অধিকারকর্মী মানবাধিকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন বলে তাদের ৯ মাস খেয়ালখুশিমতো আটকে রাখা হয়েছে। তাদের সুস্থতা নিয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

সৌদি আরব বার বার বন্দিদের সঙ্গে বাজে ব্যবহার করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।





Related Articles

Close