আন্তর্জাতিক

বিদেশি স্বামী খুঁজছেন সৌদির কোটিপতি নারীরা!







বিদেশি স্বামী এবং তাদের সন্তানদের সৌদি নাগরিকত্ব পাবার আইন সংস্কার হওয়ার পর থেকে স্বামী খুঁজছে সৌদির কোটিপতি নারীরা। ২০১২ সালে সৌদি সাময়িকী রোয়া এক প্রতিবেদনে জানায়, এক নারী ভালো স্বামীর খোঁজে ৫০ লাখ সৌদি রিয়াল নিয়ে অপেক্ষা করছেন, যিনি বিবাহিত জীবন ও দায়িত্বকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন।

২০১৪ সালে আমিরাতের একটি নিউজ সাইট জানায়, অনেক সৌদি কোটিপতি নারী টুইটারে বিয়ের আগ্রহের কথা জানান।

এমন একটি পোস্টে সৌদি এক নারী জানান, তিনি তালাকপ্রাপ্তা ও নিঃসন্তান। তিনি এমন একজন স্বামী খুঁজছেন যিনি তাকে ভালোবাসবেন। উত্তরাধিকার সূত্রে তিনি ১০০ মিলিয়ন রিয়াল পেয়েছেন। তিনি তার পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। তার বয়স ৩৯ বছর।



সৌদিতে কোনো বিদেশি অভিবাসী যদি কোনো নারীকে বিয়ে করেন তবে তিনি মাসিক বেতনসহ পেনশন সুবিধা পাবেন। সৌদি সরকার বাংলাদেশিসহ বিদেশিদের বিয়ে করার ক্ষেত্রে নতুন শর্ত বেঁধে দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে তাদের নতুন কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের খবরে বলা হয়, বিয়ের ক্ষেত্রে একজন সৌদি পুরুষ ও একজন বিদেশি স্ত্রীর মধ্যে অনুমোদিত বয়সের পার্থক্য হলো অর্ধেক।

তবে সৌদি নারীদের মধ্যে যারা বিদেশিদের বিয়ে করতে চায় তাদের জন্য বয়স সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কমানো হয়েছে। ২০১৬ সালে বিদেশিদের সঙ্গে সৌদি নাগরিকদের বিয়ের ক্ষেত্রে করা ১৭টি পয়েন্ট তালিকায় সংশোধনী আনা হয়েছে।



সংশোধনীতে বলা হয়েছে, দম্পতিদের বয়সের পার্থক্য ১৫ বছরের বেশি হওয়া যাবে না। এর আগে ছিল ৩০ বছর। সৌদি ডেইলি ওকাজের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়, সৌদি নারীদের মধ্যে যিনি বিদেশি স্বামী নিতে চান তার বয়স কখনোই ৫০ বছরের বেশি হওয়া যাবে না।

এর আগে সর্বোচ্চ ৫৫ বছরের কথা উল্লেখ ছিল। সৌদি আরবের আইন মন্ত্রণালয়ের মতে, বিবাহিত সৌদি নারীদের শতকরা ১০ ভাগ তথা প্রায় ৭ লাখের মতো সৌদি নারী বিদেশিদের বিয়ে করেন। তবে ঠিক কতজন সৌদি পুরুষ বিদেশিদের বিয়ে করেন তার প্রকৃত তথ্য জানা যায়নি।



সৌদি পরিবারগুলোর কল্যাণের জন্য চ্যারিটেবল সোসাইটির আওসিরের প্রধান তৌফিক আল সোয়ায়লেম বলেন, গত ২০ বছরে অ-সৌদি নারীদের সঙ্গে বিয়ে একটি সাধারণ ঘটনা হয়ে উঠেছে।

যৌতুকের উচ্চ হার, বিয়ের খরচ, কম আয় এবং পারিবারিক জ্ঞানের অভাব প্রভৃতি কারণেই সৌদি পুরুষরা বিদেশিদের স্ত্রী রূপে গ্রহণ করছেন।

সংশোধনীর নিয়ম অনুসারে, একজন সৌদি পুরুষের বয়স ৪০ থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে হলে তিনি বিদেশি কোনো নারীকে বিয়ে করতে পারবেন। অন্যদিকে এক সৌদি নারী বিদেশি কোনো পুরুষকে বিয়ে করতে চাইলে তার বয়স হতে হবে ৩০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে।



যদি পাত্রী ডিভোর্সী হয় তাহলে বিচ্ছেদের পর কমপক্ষে দুই বছর অপেক্ষা করতে হবে। তারপর তিনি বিয়ে করার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

আবার তিনি নিজে যদি সৌদি কোনো নারীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ থাকার পরও কোনো বিদেশিকে দ্বিতীয় বিয়ে হিসেবে গ্রহণ করতে চান তাহলে এর জন্য সরকারি একটি সার্টিফিকেট দাখিল করতে হবে।

তাকে প্রমাণ করতে হবে যে, বিয়ে সংক্রান্ত সব দায়িত্ব পালনে প্রথম স্ত্রী অক্ষম। সার্টিফিকেটটা অবশ্যই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদিত হতে হবে। আবেদনকারীকে একটি ডকুমেন্টেও স্বাক্ষর করতে হবে; যা দ্বারা বোঝায়, বিবাহের অনুমোদনের অর্থ এ নয় যে- তার বিদেশি স্ত্রীকে সৌদি নাগরিকত্ব দেয়া হবে।



বিদেশি পাত্র যদি কোনো সৌদি নারীকে বিয়ে করতে চান তাহলে তার নিজ দেশ এবং সৌদিতে তিনি অপরাধের সঙ্গে জড়িত না এমন প্রমাণ দিতে হবে।

আবার তিনি সংক্রামক বা জেনেটিক রোগে ভুগছেন কি না তারও প্রমাণ দিতে হবে। তাকে অন্য কোনো দেশের সামরিক সদস্য হওয়া যাবে না। সৌদি আরবে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাদের তালিকায়ও থাকা যাবে না তাকে।

বিদেশি স্বামীকে কমপক্ষে পাঁচ হাজার সৌদি রিয়াল আয় করতে হবে এবং একটি বৈধ বাসস্থানের অনুমতি থাকতে হবে। বিদেশিদের সব তথ্য অনুসন্ধান করার জন্য একটি কমিটি গঠনের কথাও বলা হয়েছে নতুন সংশোধনীতে।

পরে আবেদনকারীর আবেদন গ্রহণের এক মাসের মধ্যে তথ্য যাচাই বাছাই শেষে কমিটির সদস্যরা তাদের অভিমত জানাবেন। সৌদিতে তিন কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশই বিদেশি, যারা কাজের জন্য দেশটিতে এসেছেন।














Related Articles

Close