সিলেট
Trending

’হাত-পা কেটে ফেলো আমার চোখগুলো নষ্ট করো না’ :সিলেটে যুবকের আর্তনাদ (ভিডিও)







সেলিম হাসান কাওছার: শনিবার ৯ ফেব্রুয়ারী সন্ধা ৭টায় বাঘা ইউপির দৌলতপুর গ্রামের সহির উদ্দিনের ছেলে জুবায়ের আহমদ (২২) আমাকে ফোন দিয়ে জানায় রুস্তমপুরের ছানু ভাই বলছেন উনার বাড়ীতে যাওয়ার জন্য। তখন আমি তাকে জানাই আমার একটি খেলা আছে পরে বলিছ দেখা করবো।



এসময় জুবায়ের বলে তুমি ছানো ভাইকে ফোন দিয়ে বলো। এসময় আমি ছানু ভাইর মোবাইলে কল দেই। তখন তিনি বলেন তোমাকে এখনই আসতে হবে। কারণ অনেক লোকজন সিলেট মিরাবাজার থেকে আসতেছে। পরে জুবায়েরসহ আমি ছানু মিয়ার বাড়ীতে গিয়ে ছোফায় বসি। এসময় ঘরে থাকা ছানু মিয়া বলেন তুমি বসো সিলেট থেকে যারা আসছে আমি তাদের এগিয়ে নিয়ে আসি। কিছুক্ষণ পর ছানু মিয়াসহ ৬/৭জন অজ্ঞাত লোক ছানু মিয়ার ঘরে ডুকে আমার হাত-পা চোখ বেঁধে ফেলে। সবকিছু বাধার পর ছানু মিয়া অজ্ঞাত লোকদের বলে ওকে নিয়ে গাড়ীতে তুলো। গাড়ীতে তোলার কথা বলে তারা আমাকে ছানু মিয়ার বাড়ীর পিছনে সুরমা নদীর পারে নিয়ে যায়।



সেখানে পৌছার পর আমার উপর নির্যাতন শুরু করা হয়। এক পর্যায়ে আমি মাঠিতে লুটিয়ে পড়লে ছানু মিয়াসহ দুইজন আমার বুকে উপর উঠে। আর দুইজন পা ধরে রাখে। নির্যাতনের এক পর্যায়ে আমি তাদের কাছে পানি চাইলে তারা আমাকে পানির বদলে চুন গুলা পানি খাওয়ায়। এসময় তারা বলে আমার দুটি চোখে চুন দিয়ে নষ্ট করে দেবে। না হয় স্বীকার করে নেয়।



তখন আমার হাত,পা ও চোখ বাঁধা অবস্থায় আমি তাদের হাতে পায়ে ধরি এবং বলি আপনারা আমার হাত-পা কেটে ফেলুন,প্রয়োজনে আমাকে মেরে ফেলুন আমার চোখে চুন দিবেন না। আমি আপনাদের টাকা নেইনি। আপনার এখানে দেড় বছর থেকে চাকরী করছি। কখনো বেইমানি করিনি। তার পরও তারা আমার কথা রাখেনি। এসময় তারা দাতের পাজর দিয়ে রশি দিয়ে বেঁেধ আমার দুটি চোখে চুন লাগিয়ে নির্যাতন শুরু করে। চুন লাগানোর সময় তারা আমাকে বলে তুই ভিক্ষা করে খাবি। আমি এরপরও বলি আমাকে কষ্ট দিয়ে মারবেন না। আমার চোখ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রায় ৩ ঘন্টা নদী পারে আমার উপর এমন নির্যাতন চালানো হয়।



এক পর্যায়ে তারা আমাকে মুমুর্ষূ অবস্থায় একটি গাছের সাথে বেঁধে চলে যায়। তারা চলে যাওয়ার পর আমার কান্নাকাটি শোনে স্থানীয়রা আমাকে ওখান থেকে উদ্ধার করেন। জাহিদ বলে আমার আর্তনাথ শোনেও তাদের একটু দয়া মায়া হয়নি। এই কথাগুলো বলছিল সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীর অবস্থায় থাকা বাঘা ইউপির দৌলতপুর গ্রামের বাছই মিয়ার ছেলে আহত জাহেদ আহমদ (২৩)।



তারা তোমার উপর এমন নির্যাতন করলো কেনো জানতে চাইলে সে বলে আমি ও আমাদের গ্রামের সহির উদ্দিনের ছেলে জুবায়ের আহমদ উন্ডি ব্যবসায়ী ছানু মিয়ার দলে চাকরী করি। প্রায় দেড় বছর থেকে উনার এখানে চাকরী করছি। এক জেলা থেকে আরেক জেলা,এক উপজেলা থেকে আরেক উপজেলায় ছানু মিয়ার কথা মতো টাকা পৌছানোই কাজ ছিল। প্রায় সাড়ে ৩মাস আগে উনার টাকা নিয়ে যাওয়ার সময় সিলেটে ছিনতাই হয়। আমি সাথে সাথে উনাকে বিষয়টি জানাই। উনি এখনও আমাকে বিশ^াস করতে পারছেন না। নির্যাতনের শিকার জাহেদ একটি দরিদ্র পরিবারের ছেলে। জ্ঞান ফেরার পর থেকে কোন কিছু না দেখতে পারায় শুধু হাউ-মাউ করে কাঁদছে।



তাছাড়া স্থানীয় ভাল একজন ফুডবলারও সে। তবে জুবায়ের ছানু মিয়ার আত্মীয় হয় এজন্য তাকে সে নির্যাতন করেনি।

উল্লেখ্য গত (৯ফেব্রুয়ারী) গভীর রাতে জাহেদকে স্থানীয়রা মুমুর্ষূ অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। ভর্তির কয়েক ঘন্টা পর তার জ্ঞান ফিরলেও দু’চোখের আলো আর ফিরেনি। আটক উন্ডি ব্যবসায়ী রাইয়ুম উরফে ছানু উপজেলার বাঘা ইউপির রস্তমপুর গ্রামের ইছাক আলীর ছেলে। ওই ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) দেলোয়ার হোসেনের সাথে আলাপ করা হলে তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃত রাইয়ুম উরফে ছানুর ৪ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে আদালতে।



এ ব্যাপারে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ওসি একেএম ফজলুল হক শিবলীর সাথে আলাপ করা হলে তিনি বলেন,অন্যান্য অভিযুক্তদের আটক করতে চেষ্টা চলছে। এদিকে এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার জাহিদের গ্রামে দফায় দফায় জরুরী বৈঠক হচ্ছে।



গতকাল সোমবার সন্ধা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত এ বৈঠক চলে। বৈঠকে ৩টি গ্রামের কয়েক শতাধিক লোক উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয়রা জানান,নির্যাতনকারী ছানু একসময় গরু রাখাল ছিল।
ভিডিওটি দেখতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন…
সূত্র-দৈনিক কাজিরবাজার





Related Articles

Close