আন্তর্জাতিকআলোচিত খবর

যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ভারত-পাকিস্তান!







ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় ঘটে যাওয়া জঙ্গী হামলা নিয়ে ভারত-পাকিস্থান দুই দেশই উত্তাল। একে অপরকে ক্রমাগত হুমকি দিয়েই চলেছে তারা। এরই মধ্যে নিজেদের সীমান্ত এলাকায় আরো বেশি নিরাপত্তা জোরদার করেছে দুই দেশ।

শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে মোদি বলেন, “পুলওয়ামা জঙ্গি হামলার কঠোর জবাব দেবে ভারত। এজন্য সেনাবাহিনীকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।” শুধু তা-ই নয়, পাকিস্তানকে কূটনৈতিকভাবে একঘরে করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের মন্ত্রিসভা।

বিবিসির তথ্য মতে, ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অরুন জেটলি বলেছেন, আন্তর্জাতিক মহল থেকে পাকিস্তানকে বিছিন্ন করে ফেলতে ‘সম্ভাব্য সকল কূটনৈতিক পদক্ষেপ’ গ্রহণ করা হবে।



যে জঙ্গি দলটি হামলার দায় স্বীকার করেছে তার বিরুদ্ধে পাকিস্তান পদক্ষেপ গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ভারত। ওই বিতর্কিত এলাকায় গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা এটি।

এদিকে কাশ্মীরে ভাতীয় জওয়ানদের ওপর হামলা বিষয়ে শুক্রবার সকালে নিরাপত্তার জরুরি বৈঠক ডাকেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তখনই ইঙ্গিত মিলেছিল যে, ভারত সরকার সহজ ভাবে নিচ্ছে না পুলওয়ামার হামলাকে। জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। সেই ইঙ্গিত মতোই প্রধানমন্ত্রী জানিয়ে দিলেন, পুলওয়ামার ঘটনা নিয়ে দেশের ১৩০ কোটি মানুষের মনে আক্রোশ তৈরি হয়েছে। আমি অনুধাবন করতে পারছি। চিন্তা নেই। কবে, কোথায়, কীভাবে প্রত্যাঘাত হবে, তার অনুমতি দিয়ে দিয়েছি সেনাবাহিনীকে। নিতি ভারতীয় সেনাদের পাকিস্তানের সার্জিকাল স্ট্রাইকের অনুমিত দিয়েছেন বলেই জল্পনা চলছে ভারতজুড়ে।



শুক্রবার মন্ত্রিসভার নিরপত্তা বিষয়ক কমিটির বৈঠকের পরে মধ্যপ্রদেশের ঝাঁসিতে যান মোদী। সেখানেই খোলা মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত জবাব দেবেই। সেই মতো নির্দেশও সেনাবাহিনীকে দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৬ সালে কাশ্মীরের উরি সেনা ছাউনিতে হামলা করেছিল সন্ত্রাসবাদী সংগঠন জইশ-ই-মুহম্মদের চার জঙ্গি। ওই ঘটনায় প্রাণ হারায় ১৭ ভারতীয় জওয়ান। সেই ভয়াবহ ঘটনার ১১ দিন পরে ভারত-পাক নিয়ন্ত্রণ রেখা টপকে সার্জিক্যাল অপারেশন চালিয়ে পাক মাটিতে থাকা জঙ্গি শিবির ধ্বংস করেছিল ভারতীয় সেনা।

এবার পুলওয়ামার ঘটনার বিজেপি ও সঙ্ঘ পরিবারের থেকেও চাপ বাড়ছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপরেও। চাপের পাশাপাশি দেশবাসীর ভাবাবেগ আঁচ করেই মোদীও পদক্ষেপ শুরু করলেন বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই শনিবার সর্বদল বৈঠক ডেকেছে মোদী সরকার।



ভারত ও পাকিস্তান উভয়ই মুসলিম প্রধান কাশ্মীরের পুরোটাই তাদের বলে দাবি করে কিন্তু, নিয়ন্ত্রণ করে এর অংশবিশেষ।

ভারত বলেছে, হামলাকারী জইশ-ই-মোহাম্মদ দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানে আশ্রয় পাচ্ছে এবং পাকিস্তান তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

ভারত জইশ-ই-মোহাম্মদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে দলটির নেতা মাসুদ আজহারকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক সন্ত্রাসী হিসেবে ঘোষণা করারও আহ্বান জানিয়েছে ভারত।

অতীতেও ভারত কয়েকবার এগুলো করার চেষ্টা করলেও পাকিস্তানের মিত্র চীনের কারণে তা ব্যর্থ হয়েছিল। জেটলি শুক্রবার এই হামলার জন্য পাকিস্তানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ভারতের দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা ব্যক্ত করেন সাংবাদিকদের কাছে।



তিনি আরও বলেন, ১৯৯৬ সালের পাকিস্তানকে দেয়া ‘সবচেয়ে সুবিধাপ্রাপ্ত দেশের’ মর্যাদা বাতিল করা হবে। তবে ভারত যে দেশটির বিরুদ্ধে এত অভিযোগ তুলছে, সেই পাকিস্তান এই হামলার জন্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং এই হামলার সঙ্গে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে জানিয়েছে।



বৃহস্পতিবার ভোরে হামলাকারী শ্রীনগর-জম্মু মহাসড়কে বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি নিয়ে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর একটি গাড়ি বহরে ঢুকে পড়ে। ‘একটা কার গাড়ি বহরকে ওভারটেক করে বাসের গায়ে জোরে ধাক্কা মারে’ জ্যেষ্ঠ এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান বিবিসি উর্দুকে।

ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী এবং জম্মু ও কাশ্মীরের দুই সাবেক মুখ্যমন্ত্রীসহ বিভিন্ন নেতারা এই হামলায় গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের মহাসচিবসহ বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে এই হামলার নিন্দা জানানো হয়েছে।














Related Articles

Close