সিলেট

মেয়ের নাগরিকত্ব বাতিল না করতে ব্রিটিশ সরকারকে সিলেটের আহমদ আলীর অনুরোধ (ভিডিও)







মেয়ের নাগরিকত্ব বাতিল না করার অনুরোধ জানিয়েছেন আইএস বধূ শামীমার বাবা আহমদ আলী। সোমবার ব্রিটিশ টিভি চ্যানেল আইটিভিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে ব্রিটিশ সরকারের প্রতি এই অনুরোধ জানান তিনি।

বাংলাদেশের সুনামগন্জ জেলার জগন্নাথপুর থানার ধাওরাই গ্রামের নিজ বাড়ীতে বসে আইটিভিকে দেয়া এই সাক্ষাতকারে আহমেদ আলী বলেন, ব্রিটেন সরকারের উচিত মেয়েটিকে ফিরিয়ে নেয়া। কারন ব্রিটিশ ছাড়াতো তার আর কোন নাগরিকত্ব নেই।



সিরিয়া যাওয়ার সময় শামিমা ছোট্ট বাচ্চা ছিলো এমন মন্তব্য করে শামিমার বাবা বলেন, ঐসময়ের ছোট্ট বাচ্চা না বুঝে দোষ করেছে। তিনি বলেন, আমি ব্রিটিশ সরকারের প্রতি অনুরোধ করছি শামিমার নাগরিকত্বটা যেন বাতিল করা না হয়। শামিমার নাগরিকত্ব বাতিলের হোম সেক্রেটারীর সিদ্ধান্ত সঠিক হয়নি মন্তব্য করে শামিমার বাবা বলেন, ‘ব্রিটিশ নাগরিক সে যদি দোষ করে তাহলে তাকে ইংল্যান্ড এনে শাস্তি দেয়া উচিত। কারন সেতো এই দেশেরই সন্তান।’

সিরিয়ার শরণার্থী শিবিরে নবাগত পুত্রসন্তানকে কূলে নিয়ে আইটিভি সাংবাদিকের সাথে কথা বলছেন শামিমা



এর আগে শনিবার ব্রিটেনের জাতীয় দৈনিক ডেইলী মেইলকে দেয়া সাক্ষাতকারে অবশ্য ভিন্ন কথা বলেছিলেন আহমেদ আলী। শামিমার নাগরিকত্ব বাতিলের ব্রিটিশ হোম সেক্রেটারী সাজিদ জাবিদের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে ঐ সাক্ষাতকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি জানি ব্রিটিশ সরকার তাকে ফিরিয়ে আনতে চায় না। আমার তাতে কোনো সমস্যা নেই। আমি জানি সে সিরিয়াতে আটকে পড়েছে। কিন্তু সে তার কর্মের কারণেই সেখানে এখন আটকে রয়েছে।’

ডেইলী মেইলকে ঐসময় তিনি আরও বলেন, ‘আমি সরকারের পক্ষে। আমি জানিনা এটা ভুল না সঠিক। তবে ব্রিটেনের আইন যদি তার নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়াকে সঠিক বলে মনে করে তবে আমিও তাতে রাজি।’



ঐ সাক্ষাতকারে নিজের ভুল স্বীকার না করায় কন্যার সমালোচনাও করেন আহমেদ আলী। বলেন, ‘যদি সে অন্তত তার ভুলের জন্য ক্ষমা চাইতো তাহলে আমি তার জন্য দুঃখবোধ করতাম। জনগণ তার জন্য দুঃখবোধ করতো। কিন্তু সে তার ভুল স্বীকার করেনি।’

১৯৭৫ সালে যুক্তরাজ্যে আসার সাত বছর পর এখানে আসমা বেগমকে বিয়ে করেন আহমেদ আলী। চার কন্যা সন্তানের জনক জনাব আলী পূর্ব লন্ডনের বেথনালগ্রীনে পরিবার নিয়ে বসবাস করলেও পরবর্তীতে মধ্য ৯০ দশকে বাংলাদেশে গিয়ে তিনি আরেকটি বিয়ে করেন। এরপর থেকেই তিনি নিয়মিত ব্রিটেন-বাংলাদেশ যাতায়াত করতেন।



২০১৫ সালে সিরিয়া পালিয়ে যাবার মাস দুয়েক আগে সর্বশেষ কন্যা শামিমার সাথে দেখা হয় আহমেদ আলীর।

মাত্র ১৫ বছর বয়সে বাংলাদেশি অধ্যুষিত পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রীন এলাকা থেকে আরও দুজন বান্ধবীসহ আইএসে যোগ দিতে সিরিয়ায় পালিয়ে গিয়েছিলেন শামীমা বেগম।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি লন্ডনের দৈনিক দ্য টাইমসের একজন সাংবাদিক সিরিয়ার একটি শরণার্থী শিবিরে শামীমা বেগমের খোঁজ পান।তার বয়স এখন ১৯ এবং তিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। ওই সাংবাদিকের মাধ্যমে তিনি ব্রিটিশ সরকারের কাছে আবেদন করেন যে তার আগত শিশু সন্তানের কথা বিবেচনা করে তাকে যেন ব্রিটেনে ফেরত আসতে দেয়া হয়।



এরপর থেকে ব্রিটেনে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয় যে, নিষিদ্ধ একটি জঙ্গি সংগঠনের যোগ দিতে যাওয়া এই তরুণীকে ফেরত আসতে দেয়া উচিৎ কিনা। এরই মধ্যে শামীমার পরিবারের আইনজীবী মোহাম্মদ তাসনিম আখুঞ্জি জানান,তারা জানতে পেরেছেন শামীমা একটি শিশুর জন্ম দিয়েছেন। শিশুটি সুস্থ আছে।
ভিডিওটি দেখতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন…














Related Articles

Close