প্রবাস

সৌদিতে বিনা অপরাধে তিন বছর কারাগারে প্রবাসী বাংলাদেশি, দূতাবাসের কাছে পরিবারের সহযোগিতা কামনা







চাঁদপুর শাহরাস্তি উপজেলার সূচীপাড়া উত্তর ইউনিয়নের পাড়ানগর গ্রামের মৃত-আব্দুল খালেকের বড় ছেলে আহমেদ রুবেল ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে বিনা অপরাধে সৌদি প্রবাসী তিন বছর যাবৎ জিজান হিযিলাম কারাগারে রয়েছেন। এ বিষয়ে সৌদি বাংলাদেশ দূতাবাসের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তার পরিবার।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সূত্রে জানা যায়, পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ভিটেমাটি বিক্রি করে ১৬ বছর পূর্বে পাড়ি জমান সৌদি আরবে। যাওয়ারপর থেকে মোটামুটি চলছে তাদের সাংসারিক জীবন।



২০১৫ সালে আহমেদ রুবেল ছুটিতে আসেন। বাড়িতে প্রবাসে থাকা অবস্থায় একই উপজেলার হাড়াইপাড়া গ্রামের ফখরুল ইসলমের ছেলে দ্বীন ইসলাম সৌদি আরবে আহমেদ রুবেলের (আকামা) আইডি কার্ড ওই দেশে অবৈধভাবে হুন্ডি ব্যবসা করে। আহমেদ রুবেল ছুটি শেষে কর্মের প্রয়োজনে ছুটে যান সৌদি আরবে। আড়াই মাস পর তার নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে সৌদি সিআইডি পুলিশ তাকে আটক করেন।

এ বিষয়ে সৌদি আরব সিআইডি আহমেদ রুবেল কে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সৌদি আদালত আহমেদ রুবেল অবৈধ হুন্ডি ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার কোন প্রমাণ পায়নি। তাকে নির্দোষ হিসেবে আদালত রায় প্রদান করেন।



তিন বছর কারাগারে থাকার পর আদালতের রায় সাড়ে ৩ মাস অতিবাহিত হলেও আহমেদ রুবেলের মালিকের সহযোগিতা না পাওয়া বের হতে পারছে রুবেল। তার মালিক ফতেমা হাদী আলি নেছারি। ফাইল নাম্বার ৭৩৩২ ৪৪ ৩৩৪,পাসপোর্ট নম্বর (অঊ) ৫৫৮৮ ৫৩৪।

এ বিষয়ে আহমেদ রুবেলের স্ত্রী রুজিনা বেগম জানান, একমাত্র উপার্জনকারী কারাগারে থাকায় সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনেক কষ্টে সংসার চলছে। আমার দুই পুত্র আব্দুল কাদের (১৬) (এসএসসির ফলপ্রাথী) ও ছোট ছেলে ফিরোজ আহমেদ বিজয় (৯) ৩য় শ্রেনীতে পড়ছে। আমার স্বামী অত্যন্ত সহজ সরল প্রকৃতির একজন মানুষ।



সে আরো জানান,হাড়াইপাড়া গ্রামের দ্বীন ইসলাম আমার স্বামীর আইডি কার্ড দিয়ে ওই দেশে হুন্ডির ব্যবসা করে, যা আমার স্বামী জানতো না ।সিআইডি পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদে তার কোনো সম্পৃক্ততা পায়নি। আমার স্বামী নির্দোষ। দ্বীন ইসলাম ওই দেশ থেকে ১৮ সালে পালানোর সময় দাম্মাম বিমান বন্দরে সৌদি পুলিশ তাকে আটক করেন।

বর্তমানে এক বছর যাবৎ দিন মহাম্মদ দাম্মাম কারাগারে রয়েছেন। আমি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সৌদি বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি আমার স্বামীকে সৌদি কারাগারকে মুক্তির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষেল সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।



এ বিষয়ে আহমেদ রবেলের মা সাবিনা জানান, কান্না জড়িত কন্ঠে আমার বড় ছেলে অনেক কষ্ট করে জায়গা বিক্রি করে তাকে প্রবাসে পাঠিয়েছি। আমার সন্তানকে ষড়যন্ত্র করে দ্বীন ইসলাম তার আকামার কার্ড দিয়ে হুন্ডি ব্যবসা করে। যার কারণে সন্তান বিনা অপরাধে তিন বছর সৌদি কারাগারে রয়েছেন । আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আমার সন্তানের মুক্তির জন্য সরকার ও দূতাবাসের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করি।



এ বিষয়ে আহমেদ রুবেল এর ছোট বোন কুলসুম আক্তার কান্না জড়িত কন্ঠে চাঁদপুর টাইমসকে জানান, পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী আমার বড় ভাই সংসার পরিচালনার জন্য আপন জনদের কে ছেড়ে সৌদি আরব পাড়ি জমিয়েছেন। তিন বছর কারাগারে থাকায় আপনজন ছাড়া আমাদের কষ্ট অন্য কেউ বুঝবে না। আমার ভাইয়ের সন্তানদের পড়া লেখা সহ পরিবারটি আজ অনেক কষ্টে জীবন যাপন করছে। আমার বড় ভাই আহমেদ রুবেলের মুক্তির জন্য আমরা সৌদি বাংলাদেশ দূতাবাস ও প্রবাসী মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সহযোগিতা কামনা করি।














Related Articles

Close