মতামতসোশ্যাল মিডিয়া

‘যতই নির্যাতন হবে মুসলমানদের উপর, ততই শক্তিশালী হবে মুসলমানদের মনোবল’







সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্নসময় জনসচেতনামুলক ভিডিও ও ফেসবুক লাইভ করে আসছেন হবিগঞ্জের ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুর হক সুমন। যা বেশিরভাগ সময় ভাইরাল হতে দেখা যায় এবং সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসে কর্তৃপক্ষ।

সচারচর বিভিন্য স্মসাময়িক বিষয় নিয়ে লাইভ করতে দেখা যায় হবিগঞ্জের ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুর হক সুমনকে। কিন্তু এবার তার লাইভে তিনি ভিন্ন বার্তা দিলেন।



গতকাল নিউজিল্যান্ডের মসজিদে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে গোলাগুলির ঘটনায় অন্তত ৪৯ জন নিহত হয়েছে। ৪১ জন নিহত হয়েছেন আল নূর মসজিদে এবং ৭ জন মারা গেছেন লিনউড মসজিদের ঘটনায়। আরেকজন হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার সময় মারা যান।

নিহতদের মধ্যে অন্তত ৩ জন বাংলাদেশী নাগরিক বলে নিশ্চিত করেছে সেখানকার বাংলাদেশ দূতাবাস। আরো কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।



এই ঘটনার প্রতি ঘৃণা প্রকাশের জন্য তিনি আমেরিকা শহরের জামাইকাতে অবস্থিত আল-মামুর মসজিদের সামনে দাঁড়িয়ে লাইভ করেন।
এ সময় ব্যারিস্টার সুমন বলেন, আজকে আমি জামাইকার এই মসজিদের সামনে লাইভে এসেছি ধর্মের নামে যারা মুসলিমদের হত্যা করে তাদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করতে। নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে গোলাগুলির ঘটনায় নিহত সকল মুসলিমদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।



তিনি আরও বলেন,মুসলমানদের উপর যতো আঘাতই আসুকনা কেনো মুসলমানদের মনোবল কখনো কমবে না বড়ং বাড়বে।আমরা মুসলমান জাতি এক নবীর অনুসারী চলুন আমরা একত্রিত হই।আমরা মুসলমানরা যদি একত্র হই তাহলে সারা পৃঠিবী ব্যাপী মুসল্মানদের রাজত্ব আরও শক্তিশালী হবে।

তিনি আরও বলেন, আজকে জুম্মার নামাজ আদায়ের মাধ্যমে আমি সবাইকে আহবান জানাতে চাই আসুন আমরা সবাইকে জানাই মুসলমানরা কখনই ভয় পেতে পারে না,হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর উম্মতরা শান্তি চায়,আসুন আমরা সবাই মিলে মুসলমানঅদ্র স্বার্থে কাজ করি।



এর আগে শুক্রবার (১৫ মার্চ) জুমার নামাজের সময় এই গোলাগুলি শুরু হয়। এক বন্দুকধারী জুম্মার আযানের পর স্থানীয় আল নুর মসজিদে হামলা চালায়। হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। ৩ বাংলাদেশিসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে।

বাংলাদেশ দলের বাস তখন মসজিদের সামনে। ক্রিকেটাররা বাস থেকে নেমে মসজিদে ঢুকবেন, এমন সময় রক্তাক্ত শরীরের একজন মহিলা ভেতর থেকে টলোমলো পায়ে বেরিয়ে এসে হুমড়ি খেয়ে পড়ে যান।

ক্রিকেটাররা তখনো বুঝতে পারেননি ঘটনা কী। তাঁরা হয়তো মসজিদে ঢুকেই যেতেন, যদি না বাসের পাশের একটা গাড়ি থেকে এক ভদ্রমহিলা বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের বলতেন, ‘ভেতরে গোলাগুলি হয়েছে। আমার গাড়িতেও গুলি লেগেছে। তোমরা ভেতরে ঢোকো না।’



ক্রিকেটাররা তখন বাসেই অবরুদ্ধ হয়ে আটকা পড়ে থাকেন বেশ কিছুক্ষণ। কারণ পুলিশ ততক্ষণে রাস্তায় গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। বাসে বসেই তাঁরা দেখতে পান, মসজিদের সামনে অনেকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। অনেকে রক্তাক্ত শরীর নিয়ে বেরিয়ে আসছেন মসজিদ থেকে। যা দেখে আতঙ্কে অস্থির হয়ে পড়েন ক্রিকেটাররা। কারণ বাসে কোনো নিরাপত্তাকর্মী দূরে থাক, স্থানীয় লিয়াজোঁ অফিসারও ছিলেন না।

বাংলাদেশ দলের মসজিদে ঢোকার কথা ছিল দুপুর দেড়টায়। সংবাদ সম্মেলন শেষ করে যেতে যেতে ১টা ৪০ বেজে যায়। বাংলাদেশ দলের বাস আর ২ মিনিট আগে মসজিদে পৌঁছে গেলে ক্রিকেটাররা সন্ত্রাসী হামলার সময় মসজিদের ভেতরেই থাকতেন। তাহলে কী হতে পারত, আর যা দেখেছেন-দুটি মিলিয়ে মুশফিকুর রহিম হাঁটতে হাঁটতেই অঝোরে কাঁদতে শুরু করেন।














Related Articles

Close