বিয়ানীবাজার

বিয়ানীবাজারে আব্দুল্লাহপুর অস্থায়ী মাছবাজার উচ্ছেদে কার্যক্রম শুরু করেছে প্রশাসন







বিয়ানীবাজার পৌরশহরের অদূরে খশির এলাকায় অবৈধভাবে স্থাপিত মাছবাজার উচ্ছেদের কার্যক্রম শুরু করেছে প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট কারো অনুমতি না নিয়ে এরকম বাজার স্থাপন করা বে-আইনী। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসন অস্থায়ী এবং অবৈধ এই মাছবাজার উচ্ছেদে চিঠি-চালাচালি শুরু করেছে। আগামী ১৫দিনের মধ্যে এই বাজারটি উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে বলে জানা গেছে।

এদিকে অবৈধ-অনুমতিবিহীন বাজারের বিদ্যুৎ সংযোগ গত শুক্রবার বিচ্ছিন্ন করে দেয় পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। উপরিমহলের নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা জানান। এই বাজারের মাছ ব্যবসায়ীদের অনুকুলে বরাদ্দ দেয়া ট্রেড লাইসেন্সও অচিরেই বাতিল করা হবে। কুড়ারবাজার ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহের জানান, আমি মাত্র ১০-১২জন মাছ ব্যবসায়ীকে ট্রেড লাইসেন্স প্রদান করেছি। প্রশাসন চাইলে এটি যেকোন সময় বাতিল করা হবে। তাছাড়া এই বাজারে আর কোন ব্যবসায়ীকে ট্রেড লাইসেন্স প্রদান করা হবেনা।

উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার সাথে একাধিক বৈঠকে মাছ ব্যবসায়ীরা বসলেও সমাধান হয়নি। ব্যবসায়ীরা পৌরশহর ও শহরতলী এলাকায় স্থায়ীভাবে মাছ বাজারের দাবি জানিয়ে আসছেন। এ নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে উভয় পক্ষ কিচেন মার্কেটের পূর্বপাশের ব্যক্তি মালিকানাদীন জায়গা যেতে সম্মত হলেও চুক্তিতে কিছু বিষয় উল্লেক না থাকায় চুক্তিতে স্বাক্ষর করেননি ব্যবসায়ীরা। তবে এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করার কথা জানিয়েছেন পৌরমেয়র আব্দুস শুকুর। গত বৃহস্পতিবার পৌরসভার হলরুমে বিয়ানীবাজারের ব্যবসায়ী ও সুধী সমাজকে নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে মাছ ব্যবসায়ীরা চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর না করার বিষয়টি অবহিত করেছেন। এ সময় তিনি বক্তব্যে অবৈধ ও অস্থায়ী বাজার নিয়ে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সে আভাসও দিয়েছিলেন।

মাছ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মারুফ আহমদ বলেন, চুক্তিতে আমরা কতদিন ভাড়া করা জায়গা থাকবো সেটি উল্লেখ ছিল না। কত দিনের মধ্যে আমরা স্থায়ী জায়গা পাব তারও কোন উল্লেখ ছিল না চুক্তিপত্রে। যার কারণে এ চুক্তি আমরা স্বাক্ষর করিনী। তিনি বলেন, পৌরশহর ও শহরের কাছাকাছি এলাকায় বেশ কিছু সরকারি জায়গা রয়েছে। এরকম সাতটি জায়গা এরই মধ্যে চিহ্নিত করার কথা বলেছিলেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। আমরা আশ্বস্থ হয়েছিলাম হয়তো স্থায়ী জায়গা আমাদের জন্য হচ্ছে। কিন্তু গত ছয় মাসে আমাদের জন্য উল্লেখ করার মতো কোন অগ্রগতি হয়নি।
মারুফ জানান, আব্দুল্লাহপুরে টিনের শেড তৈরী করার পরের দিন গত রবিবার স্থানীয় পল্লীবিদ্যুৎ বাজারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। আমরা যোগাযোগ করলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশের বিষয়টি জানানো হয়।

গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর বিয়ানীবাজার পৌরশহরের প্রধান সড়ক থেকে অস্থায়ী মাছ বাজার উচ্ছেদ করা হয়। এর আগে ২০১৫ সালে কিচেন মার্কেট নির্মাণ করতে মাছ বাজার মূল জায়গা থেকে সরানো হয়। ২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কুড়ারবাজার ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর এলাকায় অস্থায়ী বাজার বসান মাছ ব্যবসায়ীরা। সেখানে বাজার এখন চলমান রয়েছে।

এদিকে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে কিচেন মার্কেটের পূর্ব দিকে ভাড়া স্থানে মাছ বাজার বসানোর পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসন উদ্যোগ ব্যস্তে গেছে। মাছ ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনার পর উভয় পক্ষ সমাদানে আসে। এ নিয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে দুই পক্ষ একটি চুক্তিতে আসতে সম্মত হয়। পৌরসভার মেয়র আব্দুস শুকুর চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেও মৎস্য ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিরা স্বাক্ষর করেননি। পৌরসভা গত দুই মাস থেকে ওই জায়গার ভাড়া বহন করছে বলে মেয়র জানিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আরিফুর রহমান বলেন, মাছবাজার নিয়ে সৃষ্ট সংকট নিরসন করতে প্রশাসন কাজ করছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ দায়িত্বশীলদের সাথে েএখনো আলোচনা চলছে। একই সাথে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রশাসন থেকে অবহিত করা হয়েছে। আলোচনা ফলপ্রশু না হলে প্রশাসন বিকল্প ব্যবস্থা নেবে। আপাতত আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।
সূত্রঃ বিয়ানীবাজার নিউজ২৪ ডটকম।

Related Articles

Close