আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী প্রত্যাশীদের মেক্সিকোতেই থাকবে হবে








যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যতদিন পর্যন্ত অভিবাসনের আবেদন যাচাই শেষ না হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত অভিবাসী হতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের মেক্সিকোতেই রাখা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সীমানার মধ্যে ঢুকতে দেয়া হবে না। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে মেক্সিকো। মানবাধিকার কর্মীরাও মনে করন, এ সিদ্ধান্তকে আদালতে গেলে অবৈধ সাব্যস্ত হবে।



সম্প্রতি ট্রাম্প এক টুইটার বার্তায় বলেছেন, মেক্সিকো পাড়ি দিয়ে অভিবাসী হতে ইচ্ছুক যেসব ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে উপস্থিত হয়েছে তাদেরকে অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত মেক্সিকোর সীমান্তের মধ্যেই থাকতে হবে। মেক্সিকোতে ক্ষমতা গ্রহণ করতে যাওয়া ভবিষ্যৎ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনও সমঝোতা হয়নি।



তিনি বলেন, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া আন্দ্রেজ ম্যানুয়েল লোপেজ ওবরাডোরের শীর্ষ পরামর্শকদের একজন ওলগা সানচেজ কোরডেরো বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলমান। কিন্তু যেহেতু মেক্সিকোর নির্বাচিতরা সরকার গঠন করেননি সেহেতু এখনই এমন কোনও সিদ্ধান্তের বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।



যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের অনুমোদন পাওয়ার আগ পর্যন্ত মেক্সিকোতে রাখার বিষয়ে সানচেজ স্পষ্টভাবে দ্বিমত পোষণ করেন রয়টার্সের কাছে। কিন্তু এ বিষয়ে মার্কিন সংবাদ মাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টে একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, এ রকম একটি পরিকল্পনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে যেখানে সানচেজ একে ‘স্বল্পমেয়াদি সমাধান’ আখ্যা দিয়েছিলেন। এখন সানচেজ এমন পরিকল্পনার অনুমোদন দেয়ার বিষয়টিকে সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য আখ্যা দিচ্ছেন।



বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের জন্য অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য যদি মেক্সিকোতেই আশ্রয় দিতে হয় তাহলে আগে ওই ব্যক্তিদের জন্য মেক্সিকোকে অভিবাসনের অনুমতি দিতে হবে।

‘হিউম্যান রাইটস ফার্স্ট’ নামের মানবাধিকার সংস্থার সঙ্গে যুক্ত আইনজীবী জিনা গিলবার্ট মনে করেন ট্রাম্পের প্রত্যাশা ‘পুরোপুরি অবৈধ।’ ট্র্যাম্পের এমন সিদ্ধান্তের জন্য ‘ট্রাম্প প্রশাসনকে আবার আদালতে যেতে হবে।’ মধ্য আমেরিকার দেশগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হতে প্রায় দুই হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে মেক্সিকো-যুক্তরাষ্ট্র সীমান্ততে উপস্থিত হওয়া ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকা বন্ধ করার জন্য আগেও ট্রাম্প এমন আদেশ দিয়েছিলেন যা আদালতে অবৈধ সাব্যস্ত হয়েছে।



আগেরবার ট্রাম্প আদেশ জারি করেছিলেন, যারা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করবে, তাদেরকে আর যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের সুযোগ দেয়া হবে না।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ব্যবস্থাপনা পরিচালক’ অ্যালিসন লিল পার্কার বলেছেন, ট্রাম্পের পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে মধ্য আমেরিকার সহিংসতাপূর্ণ পরিবেশ ও দারিদ্র্য থেকে মুক্তিই পেতে ছুটে আসা মানুষগুলো একটু নিরাপত্তার জন্য আরও অনেক বড় ঝুঁকি নেবে। সুযোগ বাড়বে মানব পাচারকারীদের মতো অপরাধীদের।














Related Articles

Close