প্রবাসমতামত

নিউইয়র্কে প্রবাস জীবন, যেখানে বাংলাদেশিদের অবাধ বিচরণ!







নিউইয়র্ক এক বিশাল শহর। একে পৃথিবীর রাজধানী বলা হয়। যদিও নিউইয়র্কের রাজধানী এখান থেকে ১৫০ মাইল দূরে আলবেনী শহরে। নিউইয়র্ক শহর যত হৈ চৈ ওয়ালা রঙ্গিন ততটাই নীরব, উচ্ছ্বাসহীন। কথায় আছে নিউইয়র্ক কখনো ঘুমায়না। কিন্তু আলবেনী সন্ধ্যা ৭-৮ টায় ঝিমুতে থাকে।

ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও স্থানের জন্য আলবেনী নিউইয়র্কের রাজধানী। কিংস কাউন্টি ( ব্রুকলিন), কুইন্স কাউন্টি, ব্রংক্স , ম্যানহাটন ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ড – এই পাঁচটি বরো নিয়ে নিউইয়র্ক সিটি।



সব বরোতেই বাংলাদেশীরা রয়েছে। খুব অপরাধ প্রবন এলাকাতেও বাঙ্গালীদের সহজ বিচরণ। কারণ জীবিকার জন্য মানুষ যেভাবে পারছে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে, ভিন দেশের পরিবেশ, ভাষা ও জীবিকার সাথে। তবে কুইন্সের জ্যাকসন হাইট্স ( রুজভেল্ট এভিনিউ) হলো বাঙ্গালীদের প্রাণ কেন্দ্র ।



এখানে বাংলাদেশী, পাকিস্তানী, ভারতীয় , নেপালী, ভুটানীদের মিলন মেলা। মনে হয় এটা আর একটা মিনি সাব কন্টিনেন্ট। এখানে বেশীর ভাগ ব্যবসা কেন্দ্রগুলোর মালিক বাংলাদেশী, ভারতীয় ও পাকিস্তানী।

কোন বাংলাদেশি নিউইয়র্কে বেড়াতে এসেছে অথচ একবার জ্যাকসন হাইটসে আসেনি এমনটা বোধ হয় সম্ভব নয়। রয়েছে বিরাট গহনার দোকান, শাড়ী , পান্জাবী, সালোয়ার কামিজের দোকান, খিলি পানের দোকান, বাংলাদেশী তরি-তরকারীর দোকান দেখে বিশ্বাস হতে কষ্ট হয় যে এটা বাংলাদেশ নয়, নিউইয়র্ক। জ্যাকসন হাইটে এসে কেউ না কেউ অপ্রত্যাশিতভাবে পরিচিত কাউকে পেয়ে যায়।



হয়তো পুরানো প্রেমিক-প্রেমিকা, ছেলেবেলায় ছেড়ে আসা বন্ধু, কলেজের কোন স্যার বা ম্যাডাম।এখানে বাংলাদেশী রেস্টুরেন্টগুলোতে ঘন্টার পর ঘন্টা দেশীয় স্টাইলে আড্ডা চলে। দেশের রাজনীতি, সাহিত্য, সিনেমা, পরচর্চা কি না থাকে সেই আড্ডায়? যাকে বলে চায়ের কাপে ঝড় তোলা।



আবার বিশেষ দিনগুলো যেমন, ২১শে ফেব্রুয়ারী, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, পহেলা বৈশাখের মতো আয়োজনের শুরুটা হয় এখান থেকেই। দিনে দিনে বাংলাদেশীদের সংখ্যা এখানে বেড়েই চলেছে। তাই ব্রুকলীনের চার্চ ম্যাকডোনাল্ড, কুইন্সের এস্টোরিয়া, জ্যামাইকা, ওজোন পার্কে বিশাল বাঙ্গালী বসতি গড়ে উঠেছে। সেই সাথে দেশীয় স্টাইলে দোকান-পাট। রোজার দিনে রেস্টুরেন্ট গুলোতে ইফতারী কেনার জন্য উপচে পরা ভীড় থাকে।



আর ঈদের জামাত এত বিশাল হয় যে ভুলে যেতে হয় আমরা তের হাজার মাইল দূরে অন্য এক মহাদেশে আছি। তাই নিউইয়র্ক আমার পছন্দের। এই জায়গাগুলো বিশাল নিউইয়র্ক সিটির ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। তারপরও চাইলেই দেশীয় আমেজ পাওয়া যায়। কিন্ত তবুও সময়ে অসময়ে বুকের গভীরে নিজের মাতৃভূমির জন্য কোথায় একটা চিনচিনে কষ্ট জানান দেয়।
-নীলুফার লাকি, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র














Related Articles

Close