আন্তর্জাতিকধর্ম

বোমা আর গুলির শব্দে ঈদ আসে ওদের ঘরে!







চার সন্তানের বাবা আবু ওবায়েদের মনটা ভীষণ খারাপ। এবারই প্রথম কুরবানীর ঈদে কোন পশু কুরবানী দিতে পারেননি তিনি। ছেলে-মেয়েগুলো বেশ অবাক হয়েছিল, প্রতিবার ঈদের দুই-তিনদিন আগেই পশু কেনা হয়ে যেত তাদের। কিন্ত এই বছরটা ব্যতিক্রম।

মাসকয়েক আগেই ইয়েমেনের এডেনে বোমা ফেলেছিল সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট, যে মার্কেটের ওপর বোমাটা পড়েছিল, সেখানেই ছিল আবু ওবায়েদের দোকান। ভাগ্যিস, বোমাটা রাতে ফেলা হয়েছিল, নইলে দোকানের সঙ্গে সঙ্গে জীবনটাও যেত ওবায়েদের। ব্যবসা গুটিয়ে ফেলতে হয়েছে, কয়েকমাস আগেও মধ্যববিত্ত জীবনযাপন করা আবু ওবায়েদের এখন উপার্জনের একমাত্র উপায় কায়িক শ্রম। সেই কাজও কোনদিন মেলে, কোনদিন মেলে না। এবারের ঈদ তাই অজস্র বিষাদের ঘনঘটা হয়েই এসেছে তার ঘরে।



আবু ওবায়েদ বা তার পরিবারের সদস্যেরা তবু বেঁচে আছেন সবাই। তার ছোট ভাই ইসমাইলের ভাগ্যটা তার মতো ভালো ছিল না। এইতো কয়েকদিন আগেই ইসমাইলের বড় ছেলেটা মারা গেল সৌদি আরবের বিমান হামলায়।

হুতি অধ্যুষিত সাদা প্রদেশে থাকে ইসমাইল, বড় ছেলেটাকে স্কুলে ভর্তি করিয়েছিল সে। স্কুলবাসের ওপর বোমা নিক্ষেপ করেছিল সৌদি বিমান, জনাকীর্ণ স্থানে সেই হামলায় ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছিল প্রায় পঞ্চাশ জন, এদের মধ্যে ২৯ জনই শিশু। এই শিশুদের একজন ছিল ইসমাইলের ছেলে।



গত তিন বছর ধরেই ইয়েমেনে ঈদের দিনটাও আর দশটা দিনের মতোই কাটে, উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায়। এখানকার মানুষগুলো এখন হাসতে ভুলে গেছে প্রায়। একসময় ঈদ পালন করা হতো মহা ধুমধামের সাথে, চারদিকে থাকতো উৎসবের ভাব, যেমনটা বিশ্বের অন্য সব মুসলমান প্রধান দেশে হয়।



কিন্ত ২০১৫ সালে ইয়েমেনে সৌদি আরবের হামলা শুরুর পর থেকে ঈদের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে ধীরে ধীরে, এখন তো ঈদের দিনে উল্টো ভয় হয়, এই বুঝি ঈদের জামাতে হামলা চালানো হলো! ২০১৫ সালে রাজধানী সানায় ঈদ জামাতে এরকমই এক হামলায় প্রাণ গিয়েছিল ২৯ মুসল্লীর!



গত কয়েক বছর ধরেই লাগাতার হামলা চালিয়ে ইয়েমেনকে ধ্বংসস্তুপে পরিণত করেছে সৌদি আরব। হুতি বিদ্রোহীরা সেদেশের প্রেসিডেন্ট মনসুর হাদীকে উৎখাত করার পর থেকেই অন্যায়ভাবে সেখানে নাক গলানো শুরু করে সৌদি আরব। মনসুর আল হাদী দেশ থেকে পালিয়ে চলে গিয়েছিলেন সৌদিতে, আর তাকে পুনরায় ইয়েমেনের ক্ষমতায় বসানোর লক্ষ্য নিয়েই ২০১৫ সালের মার্চ থেকে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল সৌদি আরব।



এ পর্যন্ত হাজার হাজার নিরপরাধ ইয়েমেনী নাগরিক নিহত হয়েছে সৌদি আগ্রাসনে। কিন্ত আশ্চর্য্যের ব্যাপার হচ্ছে, এটা নিয়ে পশ্চিমা দুনিয়ার খুব একটা মাথাব্যথা নেই। এমনকি ওআইসি বা মুসলিম বিশ্বেরও কোন তাগাদা নেই এই হত্যাকান্ড থামানোর ব্যাপারে! মুসলিম বিশ্বের নেতৃস্থানীয় দেশ সৌদি আরব এই গণহত্যা চালাচ্ছে দেখেই ওআইসির এমন নীরবতা কিনা, কে জানে!














Related Articles

Close