সিলেট

সিলেটে ছেলে ট্রেনে তুলে দেয়নি, অভিমান করেই ঘর ছেড়েছিলেন বৃদ্ধ !








‘অসহায় পঙ্গু বাবাকে ট্রেনে তুলে দিয়ে ব্যারিস্টার ছেলে লাপাত্তা!’ এমন শিরোনামে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে রিতিমত হইছই পড়ে সর্বত্র। দেশ-বিদেশে তড়িৎ বেগে ভাইরাল হয়ে যায় নিউজটি। সর্বমহলের পাঠক বিবেকের তাড়নায় আর আবেগের বশীভূত হয়ে ধিক্কার দিতে থাকেন সেই ছেলেকে। এ নিয়ে আত্বীয়-স্বজন আর বন্ধু মহলে বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে হচ্ছে ছেলেকে। তবে মূল রহস্যই বা কে জানে। সত্যিকার অর্থেই কি জন্মদাতা বাবাকে ট্রেনে তুলে দিয়েছিল ছেলে ?



প্রকৃত ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে গিয়ে দেখা যায় এমন কোন ঘটনাই ঘটেনি সেই বৃদ্ধের সাথে। নাইবা ছেলে ট্রেনে উঠিয়ে দিয়েছে, না সেই বৃদ্ধের কোন ছেলে ব্যারিস্টারি পড়েছে। মূলত নিজ ইচ্ছায় অভিমান করে ঘর ছেড়ে ছিলেন ৫৫ বছর বয়সী সে বৃদ্ধ। তবে রহস্যজনক কারণে পরিবারের পক্ষ থেকে আইব বকস খান বাদী হয়ে নিখোঁজের ৫দিন পর (২১ নভেম্বর) সিলেট কোতয়ালী মডেল থানায় জিডি করা হয় (জিডি নং-১৩৬২)। যদিও পরে জিডি প্রত্যাহার করেন বাদী নিজেই। এ বিষয়ে বিব্রত বৃদ্ধের ছেলে।



খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, সিলেটের আম্বরখানায় খান ভিলা বি-৯৩ বাসার বাসিন্দা বৃদ্ধ জামিল বকস খান (৫৫)। এক সময় বেসরকারি চাকরি করতেন তিনি। অসুস্থতার কারনে পা কেটে ফেলায় হুইল চেয়ারই একমাত্র ভরসা বৃদ্ধ জামিল বকসের। এ বৃদ্ধের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে আমেরিকায়। সম্প্রতি ছেলে নাসির বকস খান (রাজিব) দেশে এসেছে। ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ১৪ নভেম্বর সকালে।



বৃদ্ধের ছেলে নাসির বকস খান (রাজিব) বলেন-‘ওই দিন হঠাৎ ব্যাগ ভর্তি কাপড় নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে চাইলে বড়চাচা-চাচি বাধা দিয়ে বেগ রেখে হাত খরছের জন্য ১ হাজার টাকা দেন বাবাকে। পরে বাবা বাসার বাইরে রাস্তায় হুইল চেয়ার নিয়ে চলতে চাইলে আমি সেখানে দিয়ে আসি। অনেক সময় বাবা একা একা হুইল চেয়ারে সময় কাটাতে ভালোবাসেন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলে বাবাকে না পেয়ে আশপাশ খোজ করে সন্ধান পাইনি। বাবা একটি বাগানে গিয়ে সময় কাটান, সেখানে গিয়েও পাইনি। ১৬ নভেম্বর এক ট্রাক ড্রাইভারের মাধ্যমে খবর পাই বাবা ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে অবস্থান করছেন। ওইদিন রাতেই আমি বাস যোগে ঢাকার উদ্দ্যেশ্যে রওয়ানা দেই।’



নাসির বকস খান আরও বলেন-‘বাবাকে স্টেশন থেকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাই। বেশ কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থেকে ২১ নভেম্বর সিলেটে ফিরি। ’

এ প্রসঙ্গে সরাসরি কথা হয় বৃদ্ধ জামিল বকস খানের সাথে। স্পষ্ট কথাও বলতে পারনে না এ বৃদ্ধ। আমতা আমতা করে তিনি জানান -অভিমান করে বাসা ছেড়েছিলেন। ১৪ নভেম্বর সকালে গেইটের সামনে যাওয়ার কিছু সময় পর একটি সিএনজি ভাড়া করে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছান তিনি। সেখানে এক কুলিকে ৫০ টাকা দিয়ে হুইল চেয়ারসহ আন্ত:নগর পারাবত ট্রেনে উঠেন। পরে যাত্রীদের সহায়তায় ঢাকায় ট্রেন থেকে নামেন তিনি।



এদিকে এ বিষয়টি নিয়ে বৃদ্ধের ছেলে নাসির বকস খান রাজিব সামাজিকভাবে খুবি হেয় প্রতিপন্নের শিকার হচ্ছেন। ভিত্তিহীন তথ্যের উপর সংবাদ প্রকাশের কারণে দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার মূখে পড়তে হয়েছে তাকে।














Related Articles

Close