স্বাস্থ্যকর উপায়ে রান্না করুন মাংস

0

রিপোর্ট : বিয়ানীবাজার ভিউ২৪ ডটকম ডেস্ক, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫,

গরুর মাংস স্বাদে অতুলনীয়। প্রথম শ্রেণির এই প্রোটিন রেড মিটের অন্তর্ভুক্ত। এক টুকরো গরুর মাংস থেকে একগুচ্ছ পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। তাই এর পুষ্টি উপাদানগুলো যেন শরীরের উপকারে আসে, সে বিষয়টি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। গরুর মাংস স্বাস্থ্যকর উপায়ে রান্না ও সঠিক প্রক্রিয়াকরণ ইত্যাদি বিষয় তাই অনেক গুরুত্বপূর্ণ।গরুর মাংস দিয়ে হাজারো রকম রান্না সম্ভব। স্বাস্থ্যের বিষয়গুলো এই রান্নার পদ্ধতির ওপর অনেক প্রভাব ফেলে। তাই চলুন, জেনে নিই বিভিন্ন রান্নার স্বাস্থ্যগত দিক সম্পর্কে :

ক) গ্রিল বিফ

গ্রিলিং রান্নার পদ্ধতির মধ্যে অনেক উন্নত। বিফ গ্রিল করে খেলে এতে চর্বি অনেকাংশ কমে যায়। পাতলা মাংস হলে এটি আরো স্বাস্থ্যকর হয়। গ্রিল করার ক্ষেত্রে কয়লার ব্যবহার না করা ভালো। কেননা, কয়লা ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।

খ) স্টেকগরুর মাংসের সব রকম প্রস্তুত প্রণালির মধ্যে স্টেক অপেক্ষাকৃত স্বাস্থ্যকর। তবে পুরোপুরি তৈরি স্টেক বেশি ভালো। অনেকেই অর্ধসেদ্ধ বা মধ্যমমানের ফোটানো খায়, যা থেকে স্বাস্থ্যঝুঁকি হতে পারে। বিশেষ করে হালকা মসলার ব্যবহার ও অল্প জলপাইয়ের তেল বা অলিভ অয়েল দিয়ে স্টেক করলে তা আরো স্বাস্থ্যকর হয়।  পুরো করে মাংস না কেটে একটু পাতলা করে কাটলে পরিমাণের দিকটা বজায় রাখা যায়। বিফ স্টেককে আরো স্বাস্থ্যকরভাবে উপভোগ করার জন্য এর সঙ্গে সবজি সেদ্ধ খেলে অনেক ভালো। তাতে সোডিয়াম অনেকটা কমে আসে। সসের ব্যবহার একটু কম করলেও ভালো। যদিও এতে স্বাদের কিছু হেরফের হতে পারে।

গ) বিফ কারি ও ভুনাএ ধরনের রান্নার ক্ষেত্রে মাংস ছোট করে কাটা ভালো এবং কাটা মাংস রান্নার আগে একটু সেদ্ধ করে পানি ফেলে নিলে তাতে অনেকটা চর্বি কমানো যায়। মসলার মধ্যে লাল মরিচ কম ব্যবহার করা উচিত। এ ছাড়া কারি তৈরির সময় সবজি ব্যবহার করলে ভালো হয়। যেমন : বাঁধাকপি, পেঁপে, ক্যাপসিকাম ইত্যাদি। তাতে গরুর মাংস খাওয়া কিছুটা কম হয়। যেকোনো প্রকার কারি বা ভুনার ঝোল যত এড়িয়ে চলা যায়, তত ভালো। মনে রাখবেন, ঝোলে সব চর্বি জমে থাকে। রান্নার তেল হিসেবে সরিষা ও সয়াবিনের মিক্স বা সূর্যমুখী তেল বা জলপাইয়ের তেল ব্যবহার করলে ভালো।

ঘ) গরুর কাবাবগরু দিয়ে অনেক রকম কাবাব করা হয়। যেমন : ছেঁচা কাবাব। এই জাতীয় কাবাব মাংস পাতলা করে কেটে হালকা থেঁতলে নিয়ে তার পর করা হয়। কচি গরুর মাংসের ক্ষেত্রে বেশি স্বাদ হয়। মসলা ও তেল একত্রে মাখিয়ে রাখতে হয়। এ ধরনের কাবাবে কম তেল দিলেও কাবাব অনেক স্বাদ হয়। হাঁড়ি কাবাব যেন একেবারে শুষ্ক হয়ে না যায়, সে ব্যাপারে লক্ষ রাখতে হবে।শিক কাবাবেও তুলনামূলকভাবে মাংসের চর্বি কম থাকে। তবে ঝলসা হয় বলে মাংস পুড়ে যায়, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, তাই অনুষ্ঠান ছাড়া শিক কাবাব না খাওয়াই ভালো। শিক কাবাবের সঙ্গে দইয়ের সালাদ খেলে অনেক উপকার হয়।

ঙ) বিফ কিমা রান্নাকিমা করা মাংসে চর্বি অনেক কম থাকে। কচি মাংসের কিমায় চর্বি একেবারেই কমে যায়। কিমা মটরশুটি বা আলু দিয়ে অল্প তেলে রান্না করলে ভালো। তবে রোলের মধ্যে কিমা ভরা হলে ওই রোল ভেজে খেলে চর্বির মাত্রা বেড়ে যায়। তাই লাল আটার পাতলা রুটি দিয়ে কিমা খেলে বেশি ভালো। আলুর চপে কিমা থাকলে অপেক্ষাকৃত কম গ্রহণ করা হয়। তাই শ্যালো ফ্রাই করা আলুর চপ শসা বা টমেটো সস দিয়ে খাওয়ায় ভালো।

চ) বিফ বিরিয়ানিগরুর মাংস দিয়ে তৈরি বিরিয়ানি, খাসির মাংসের বিরিয়ানির তুলনায় অনেকটা স্বাস্থ্যকর। কেননা, খাসির বিরিয়ানিতে গরুর বিরিয়ানির তুলনায় বেশি চর্বি থাকে। গরুর বিরিয়ানি তৈরির আগে মাংস একটু সেদ্ধ করে পানি ফেলে নিলে আরো চর্বি কমানো যায়। এ ছাড়া চালের তুলনায় মাংসের অনুপাত কম হলে তা আরো স্বাস্থ্যসম্মত হয়। ছোট করে কাটা মাংসে উদ্ভিজ তেল ও ঘি বা বাটার মিশ্রণ করে নিলে সম্পৃক্ত চর্বি অনেকাংশে কমানো যায়।

ছ) চিলি বিফএটি অনেক স্বাস্থ্যসম্মত রেসিপি। কেননা, চিকন ও পাতলা করে চর্বি ছাড়ানো মাংস দিয়ে এটি তৈরি করা হয়। এ ছাড়া ক্যাপসিকাম দেওয়া হয় বলে এই রেসিপি স্বাস্থ্যের জন্য বেশ ভালো হয়। এই রেসিপি করতে অনেক কম তেলের প্রয়োজন হয়। তবে মাংস সেদ্ধ করে (Saulte Style এ) করলে বেশি ভালো। অনেকে অ্যারারট দিয়ে মাংস হালকা ভেজে নেয়, যা ঠিক নয়। উপরোক্ত বিষয়গুলো জেনে নেওয়ার পাশাপাশি আরো কিছু বিষয় মেনে চললে ভালো, যেমন—

  • মাংস সেদ্ধ করে পানি ফেলে রান্না করা।
  • রোস্ট ও গ্রিল করার ক্ষেত্রে একেবারে শুকিয়ে না ফেলে একটু ভেজা ভেজা রাখা।
  • অতিরিক্ত সয়াসস ব্যবহার না করা।
  • লবণ সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করা।
  • মাংস যতটা সম্ভব পাতলা করে ও ছোট করে কাটা।
  • অতিরিক্ত তেল বা ঘি/বাটার ব্যবহার থেকে বিরত থাকা।
  • একই খাবার অনেকবার জ্বাল দিয়ে না যাওয়া।
  • যেকোনো প্রকার কমার্শিয়াল সস কম ব্যবহার করা।
  • টেস্টিং সল্ট ব্যবহারে না করা।
  • রান্না মাংস ঠান্ডা করে ফ্রিজে বা রেফ্রিজারেটরে রাখা।
  • গরুর মাংস রান্নায় রসুন/আদা/সিরকা/টমেটো/টক দই ইত্যাদি ব্যবহার করা।
Share.

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.