যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রফেসর সৈয়দ জামাল গ্রেপ্তার

0

বিয়ানীবাজার ভিউ২৪ ডটকম, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮,

গত দুই সাপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রফেসর সৈয়দ আহমেদ জামাল (৫৫) তার বাচ্চাদের নিয়ে স্কুলের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হলে, তার বাসার সামনে থেকেই তাকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন এন্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বিভাগ। আটকের পর পরই তাকে হ্যান্ডকাপ পড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। খবর দ্যা ওয়াশিংটন পোস্ট।

আহমেদ জামাল গ্রেপ্তার হওয়ার পর লরেন্সে সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তিনি একজন বিজ্ঞানী এবং কমিউনিটি নেতা ছিলেন। তিনি বিগত ত্রিশ বছর আগে আনবিক বিজ্ঞান এবং ফার্সাসিটিকাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রি অর্জন করতে যুক্তরাষ্ট্রে লরেন্স এ স্টুডেন্ট ভিসায় আসেন বলে জানান তার পরিবার।

তার পরিবার জানান, তিনি পার্ক ইউনিভার্সিটিতে রসায়ন বিভাগের অস্থায়ী প্রফেসর হিসেবে শিক্ষকতা করেন এবং বিভিন্ন হাসপাতালে গভেষণা পরিচালনা করেন।

ওয়াশিংটন পোস্টের বিবৃতিতে আইসিই’র পরিচালক টমাস হোমান তার গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তা, পাবলিক নিরাপত্তা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যহত করার হুমকি দিচ্ছে এমন ব্যক্তিদের উপর নজর রাখতে আমরা যথেষ্ট প্রস্তুত রয়েছি।’

জামাল কী এ নিরাপত্তা ব্যহত করার হুমকির মধ্যে পড়ে কি-না? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন’ ‘আইসিই কোন ধরনের সম্মানসূচক শ্রেণির ব্যক্তি হলে, তাকেও অব্যাহতি দেয় না। যদি সে দোষী হয়। আর সে একজন অপসারণযোগ্য বিদেশি’

জামালকে আটক, এটি আইসিই’র জন্য একটি উদাহরণ। দেশে অনেক নাগরিক আছে যারা তাদের ইতিবাচক কর্মকান্ড দেখিয়েে এখানে অবৈধভাবে টিকে রয়েছে। যারা অতীতে টিকে থাকার অনুমোদন পায়। আইনজীবী জেফরি ই এসব কথা বলেন। গত শুক্রবার তার জামিন আবেদনও বাতিল করা হয়।

সংবাদে বলা হয়, গত ডিসেম্বর, ২০১৬ সালে ডোনাল ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়ার পর ঘোষণা দেন যে, অনিভুক্ত প্রবাসীদের খুব দ্রুত অপসারণ করা হবে। তিনি আরও বলেন. প্রায় ২ থেকে ৩ বিলিয়ন প্রবাসী অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছে এবং তারা সবাই ফৌজদারি অপরাধে দন্ডিত হবে।

২০১১ সালে জামালের ভিসা অবৈধ সনাক্ত হওয়ার পর তাকে ‘স্বেচ্ছাসেবী প্রস্থান’ এর মাধ্যমে তাকে দেশে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। তিনি নিয়মিত আইসিই’র সাথে যোগাযোগও রাখছিলেন বলে জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জামাল এটা বিশ্বাস করতেন যে, ওই অনুমতি তাকে সহায়তা করবে। তার তিন সন্তান যাদের বয়স ১৪, ১২ এবং ৭ বছর। তারা সবাই মার্কিন নাগরিক। এই সুবাধে তিনি তার নাগরিকত্ব নিয়ে তেমন চিন্তিত ছিলেন না। তার পাঁচ ভাইও রয়েছে সেখানে, যারা প্রত্যেকেই মার্কিন নাগরিকত্ব নিয়ে বসবাস করে আসছেন। তার স্ত্রীর নাম অ্যাঞ্জেলা জয়নব চৌধুরী। তিনি গত বছর একটি কিডনি দান করেন। যা খুব আলোচিত হয়েছে। এ ঘটনা জামালকে অনেক জনপ্রিয় করে তোলে। তার স্ত্রী লরেন্সের পাবলিকস্কুলগুলোতে সেচ্ছাসেবক হিসেবেও কাজ করেন।

শুধু জামাল বা তার স্ত্রী নয়, তার সন্তানরাও সামাজিক কর্মকান্ডে অগ্রহণী ভূমিকা পালন করে আসছেন। তিনি এই সুবাধে নাগরিকত্ব প্রসঙ্গ এড়িয়ে যেতেন । তাকে অপসারণ করার জন্য তৈরিকৃত নথি থেকে এমন তথ্য প্রকাশ হয়।

এ ঘটনায়, তার পরিবার, বন্ধু এবং প্রতিবেশীরা তার পক্ষে মতামত দিচ্ছেন। তারা মনে করেন, এ ধরনের গুণী ব্যক্তিদের দেশে নাগরিকত্ব দেওয়া উচিত। এ প্রসঙ্গে একমত পোষণ করে স্থানীয়সহ প্রায় ১৫ হাজার বিভিন্ন দেশের নাগরিক জামালের পক্ষে স্বাক্ষর করেন। তারা চান যে তিনি এ দেশেই থাকুক এবং তাকে নাগরিকত্ব দেওয়া উচিত।

প্রায় দুই সাপ্তাহ আটকের পর তাকে মরগান কারাগারে রাখা হয়েছে।

তার স্বজনদের মতে, তাকে গ্রেপ্তারের পর তার পরিবার অনিশ্চিয়তার মধ্যে জীবন-যাপন করছে। এমনকি তার স্ত্রীকে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে তাকেও আটক করা হতে পারে। যার ফলশ্রুতিতে তার স্ত্রী রোববার একটি মিডিয়াতে সাক্ষাৎকার দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

জামালের ছেলে তাহসিন তার বাবাকে ফেরত পেতে একটি চিঠি লিখেন। সেটি পরিবর্তন ছাড়াই ছবি আকারে তুলে ধরা হলো-

তার ভাই সৈয়দ হোসেন জামাল বলেন, আমার ভাই যেটা পারতেন সেটা করে ফেলতেন। কিন্তু গ্রিন কার্ড এ দেশে কোন সহজলভ্য বিষয় না। তবে তার একটি জব রয়েছে এবং এইচ ওয়ার ভি ভিসা রয়েছে, যেটা সবাই জানেন।

অ্যাটর্নি জানান, তার মামলা বর্তমানে হোল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট এর কাছে।

তারা জনান, এ ধরনের মামলায় ইতিবাচক ফলাফল পাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। তবে এটি মনে হয় একমাত্র মামলা, যে মামলাটি হয় তো তার পক্ষে থাকবে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.