বোরকা পরতে হবে না সৌদি নারীদের

0

বিয়ানীবাজার ভিউ২৪ ডটকম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮,

সৌদি আরবের একজন শীর্ষ ধর্মীয় নেতা বলেছেন, সেদেশে মেয়েদের ‘আবায়া’ বা বোরকা পরতেই হবে এমন কোন ব্যাপার নেই। মেয়েদের আব্রু বজায় রেখে পোশাক পরতে হবে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে তাদের আবায়া পরতে হবে।

গত শুক্রবার শেখ আবদুল্লাহ আল মুতলাক বলেন, ‘মুসলিম বিশ্বের ৯০ শতাংশ নারীই আবা পরেন না। কাজেই আমাদেরও উচিত হবে না মেয়েদের এটা পরতে বাধ্য করা।’

সৌদি আরবে মেয়েরা মাথা থেকে পা পর্যন্ত পুরো শরীর ঢাকতে ঢিলেঢালা একধরনের পোশাক পরেন, যাকে আবা বলা হয়। এটি পরা সৌদি আরবে আইনত বাধ্যতামূলক।

বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরবের কাউন্সিল অব সিনিয়র স্কলারসের জ্যেষ্ঠ সদস্য শেখ আবদুল্লাহ আল মুতলেক বলেছেন, ‘এটি পরার কোনো দরকার নেই।’

সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি সমাজে সংস্কার শুরু হয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে। চলতি বছরের মার্চে সেখানে প্রথম সিনেমা হল খুলবে। গত ডিসেম্বরে গানের কনসার্টে অংশ নেন প্রথম কোনো নারী সংগীতশিল্পী। সম্প্রতি স্টেডিয়ামে গিয়ে মেয়েদের খেলার দেখারও অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এত সব সংস্কারের মধ্যে এবার আবা নিয়ে ধর্মীয় ব্যাখ্যা দিলেন দেশটির শীর্ষ ধর্মীয় নেতা।

তবে শেখ আবদুল্লাহ আল মুতলাকের এ মন্তব্য ঘিরে এরই মধ্যে পক্ষে-বিপেক্ষ আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়ে গেছে। এরই মধ্যে অনলাইনে তীব্র বিতর্ক এবং আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই তাঁর সমর্থনে কথা বলছেন। বিরোধিতাও করছেন অনেকে। আবার টুইটারে মাশারি ঘামদি নামে একজন লিখেছেন, ‘এই পোশাক আমাদের অঞ্চলের একটা ঐতিহ্য। এর মধ্যে কোনো ধর্মীয় ব্যাপার নেই।’

২০১৬ সালে রিয়াদের রাস্তায় এক নারী তাঁর বোরকা খুলে ফেলার পর পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরবে মেয়েদের কেবল কালো রঙের পরিবর্তে উজ্জ্বল রঙের বোরকা পরতে দেখা যায়।

লম্বা স্কার্ট বা জিন্সের সঙ্গে খোলা আবায়া পরাও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে আধুনিক তরুণীদের মধ্যে।

Share.

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.