বিয়ানীবাজারে রোগীদের কাছ থেকে গলাকাটা ফি আদায়, চরম ক্ষোভ

0

বিয়ানীবাজার ভিউ২৪ ডটকম, ১১ এপ্রিল ২০১৮,

বিয়ানীবাজারে প্রাইভেট ডাক্তাররা রোগীদের কাছ থেকে গলাকাটা ফি আদায় করছেন। উপায়ান্তর না থাকায় রোগীরাও ডাক্তারদের চাহিদামতো ফি পরিশোধ করছেন। এখানে এফসিপিএস, এফআরসিএস, এমবিবিএস, পল্লী চিকিৎসক-এসব কোন বিষয় নয়। নামের আগে ডাক্তার লাগালেই গলাকাটা ফি দেয়া ছাড়া উপায় নেই রোগীদের। এসব যেন নিয়মে পরিনত হয়েছে। অথচ এটি নিয়ম বহির্ভূত। ফি’আদায়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা থাকলেও ডাক্তাররা এসব মানেন না।

হাসপাতালের এমএলএসএস ও নার্সরাও এখন ডাক্তারের দায়িত্ব পালন করছেন। এ নিয়ে উপজেলার সাধারণ মানুষের মনে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, এসব দেখার যেনো কেউ নেই।

জানা যায়, আড়াই লাখ জনঅধ্যুষিত বিয়ানীবাজার উপজেলায় ডাক্তাররা আসলে আর বদলী হতে চান না। কোন কোন ডাক্তার বদলী হয়ে গেলেও ‘অফ ডে’ তে বিয়ানীবাজারে নিয়মিত রোগী দেখেন। ডাক্তারদের ৩ বছর পর পর বদলির নিয়ম থাকলেও বেশীরভাগ ডাক্তার ঘুরে ফিরে একই উপজেলায় কর্মরত রয়েছেন। এখানে প্রাইভেট প্রতি রোগীর জন্য ৫০০ টাকা হারে ফি ধার্য্য করা হয়েছে। যা দেশের অনেক জেলা শহরের তুলনায় দ্বিগুন বলে রোগীদের দাবী।

তবে সিলেট থেকে আসা কথিত অভিজ্ঞ ডাক্তারদের ফি ৫শ’ থেকে ৭শ’ টাকা। প্রতি শুক্র ও শনিবার বিয়ানীবাজার পৌরশহরে কথিত অভিজ্ঞ ডাক্তারদের যেন হাট বসে।

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ, চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এসব চটকদার বিজ্ঞাপন সম্বলিত সাইনবোর্ড ব্যবহার করেন ডাক্তাররা। তাদের কাছে যাওয়ার পরই হাতে ধরিয়ে দেয়া হয় একাধিক টেষ্টের কাগজ। তাও আবার ডাক্তারদের পছন্দসই প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষা করে নিয়ে আসতে হয়। টেষ্ট ছাড়া যেন চিকিৎসাই হয় না।

পৌরশহরের নিমতলা, হাসপাতাল এলাকা এবং দক্ষিণ বাজারে ডাক্তারদের আনাগোনা বেশী। বিশেষ করে শুক্রবার হলে বিয়ানীবাজার শহর যেন হয়ে উঠে ডাক্তার পাড়া। একেকটি চেম্বারে শুক্রবার ছুটির দিনে রোগীর সংখ্যা একশত ছাড়িয়ে যায়। সপ্তাহের অন্যান্য দিনে এমবিবিএস ডাক্তারদের চেম্বারও রোগীতে ভরপুর থাকে। ডাক্তারের শরনাপন্ন হওয়ার আগে রীতিমত টিকেট নিয়ে বিব্রত হতে হয় রোগীদের। প্রাইভেট ডাক্তারদের চেম্বার দেখলে মনে হয় যেন পুরো বিয়ানীবাজারের মানুষই রোগী। এসব ডাক্তারদের অনেকের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণে রোগীদের অনেকেই অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন।

ডাক্তারদের চেম্বার সরেজমিন পরিদর্শনে গেলে দেখা যায়, রোগীদের অনেকেই অপেক্ষা করছেন সিরিয়ালের জন্য। বিয়ানীবাজার ছাড়াও কেউ কেউ এসেছেন পার্শ্ববর্তী বড়লেখা উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে।

কিন্তু টিকেট না পাওয়ায় বসে থাকতে হচ্ছে ঘন্টার পর ঘন্টা। যার জন্য ডাক্তারের কাছে নিয়ে আসা শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে পড়তে হয় বিড়ম্বনায়। ঘন্টার পর ঘন্টা বসে ডাক্তার দেখিয়েই শেষমেষ দূর হয় তাদের বিড়ম্বনা। ডাক্তারদের এরকম অবস্থা আর রোগীর হাহাকার দেখে মনে হয়, এসব দেখার যেন কেউ নেই।

সার্বিক বিষয় নিয়ে সিলেটের সিভিল সার্জন ডাঃ হিমাংশু রায় বলেন, ‘ডাক্তারদের ভিজেটের ব্যাপারে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। এফসিপিএস, এফআরসিএস, এমবিবিএস, পল্লী চিকিৎসক- কে কত টাকা ফি নিবেন তাও ধার্য্য করা দেয়া আছে। বেশী ফি নিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার বিধান রয়েছে। আমরা অচিরেই বিষয়টি সম্পর্কে খোজ খবর নেবো।’

 – সুফিয়ান আহমদ

Ads

Share.

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.