সিলেটে মা-ছেলে হত্যা, ইয়াবাকন্যার স্বীকারোক্তিতে ফেঁসে যাচ্ছেন হাই প্রোফাইল কয়েক ব্যাক্তি

0

বিয়ানীবাজার ভিউ২৪ ডটকম, ১৩ এপ্রিল ২০১৮,

তানিয়া আক্তার দুই বছর আগে সিলেটে হজরত শাহজালাল (র.)-এর মাজারে আসেন। এখানেই পরিচয় হয় রোকেয়া বেগমের সাথে। পাশাপাশি দেখা হয় মামুনের সাথেও। পরে রোকেয়া বেগম কুমিল্লা থেকে আসা তানিয়াকে বোন বানিয়ে সিলেটে রেখে দেন। এদিকে, মামুনের সাথেও তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এর কয়েক দিন পরই মামুনের সাথে তানিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পরও স্বামী-স্ত্রী আলাদা আলাদা বসবাস করতেন ২০ বছরের তরুণী তানিয়া আক্তার। এরপর ধীরেধীরে বেরিয়ে আসে রোকেয়া বেগমের আসল চেহারা, তানিয়াকে বাধ্য করা হয় অন্ধকার জগতে নামতে। রোকেয়ার কথা না শুনলে তানিয়ার ওপর চলত অমানুষিক নির্যাতন।

ভয়ে তানিয়া রোকেয়ার কথামত চলত। তানিয়াকে অন্ধকার জগতে নামিয়ে গোপনে ভিডিও এবং আপত্তিকর ছবি সংগ্রহ করে রেখেছিলেন রোকেয়া। তানিয়া রোকেয়া বেগমকে চলে যাওয়ার কথা বললেই রোকেয়া সেই সংগ্রহ করা ছবি ও অশ্লীল ভিডিও দেখিয়ে তাকে আবারও জিম্মী করে রাখতেন।

আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি এবং পিবিআই এর কাছে তানিয়া আক্তার এভাবেই তার অন্ধকার জগতের কথা জানায়। এমনকি সে রোকেয়া বেগমের বাসায় কাদের আসা যাওয়া ছিল এবং নারীদেরকে নিয়ে সিলেটের হাই প্রোফাইল ব্যক্তিরা কোথায় যেত সেই সব তথ্যও পিবিআইকে দিয়েছে তানিয়া। পিবিআইও তার দেয়া তথ্য সংগ্রহ করে ডাটা তৈরী করে রেখেছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পেলেই পিবিআই অভিযানে নামবে। ইতিমধ্যে সব ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছে পিবিআই।

পিবিআই’র বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল করীম মল্লিক বলেন-তানিয়া ছিলো নিহত রোকেয়া বেগমের আয়ের অন্যতম উৎস। রোকেয়া তানিয়াকে সিলেটের হাই প্রোফাইল ব্যক্তিদের কাছে প্রায় প্রতিদিনই অধিক টাকার বিনীময়ে ভাড়া দিতেন। তানিয়াকে অনেকটা অন্ধকার জগতে রাখার জন্য জিম্মী করে রাখে নিহত রোকেয়া। নারী ব্যবসার সাথে রোকেয়া মাদক ব্যবসায়ও জড়িত ছিলেন এবং নিজেও ছিলেন মাদকসেবী। রোকেয়াও ছিলেন অন্ধকার জগতের একজন পুরাতন বাসিন্দা।

তিনি আরও জানান, হত্যাকান্ডের ঘটনার পূর্বে বেশী টাকার বিনীময়ে তানিয়াকে সিলেটের নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজের ছেলেদের কাছে ৫দিনের জন্য ভাড়া দেন রোকেয়া বেগম। কারা তাকে রোকেয়া বেগমের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে গিয়েছিল এবং কিভাবে তাকে রাখা হয়েছিল সবকিছুর তথ্যই পিবিআইকে জানায় গ্রেফতারকৃত তানিয়া।

প্রায় দেড় বছর পূর্বে ভালোবেসে তানিয়া আক্তারকে বিয়ে করেছিলে বিশ্বনাথের রামপাশা গ্রামের ইউসুফ মামুন। বিয়ের পর তানিয়া তার অন্ধকার জগত থেকে ফেরার কথা বলে মামুনকে। মামুনও বেশ কয়েকবার তানিয়ার রক্ষক রোকেয়া বেগমের সাথে যোগাযোগ করে। এরপরও ব্যর্থ হয় সে। তানিয়া যাতে ভালো পথে না ফেরে সেজন্য নিহত রোকেয়া বেগম তানিয়ার অন্ধকার জগতের বিভিন্ন তথ্য ও ছবি নিজের কাছে সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন। অনেকটা বাধ্য করা হয় তানিয়া অন্ধকার জগতে থাকতে। রোকেয়ার কারণে স্ত্রীকে ভালো পথে ফেরাতে না পেরে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন মামুন।

নিজেরা বাঁচতে মামুন ও তানিয়া দুজনই মিলে পরিকল্পনা নেয় রোকেয়া বেগমকে স্বপরিবারে হত্যা করার। সেই আক্রোশের বশবর্তী হয়েই গত ৩০শে মার্চ খাবারের সাথে ঘুমের ঔষধ দিয়ে অচেতন করা হয় রোকেয়া বেগম, তার ছেলে এসএসসি ফল প্রত্যাশী রবিউল ইসলাম রোকন ও পাঁচ বছরের শিশু রাইসাকে। এরপর ঘুমন্ত অবস্থায় শ্বাসরোধ করার পর তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য তানিয়ার স্বামী মামুন ছোরা দিয়ে মা ও ছেলের শরীর ছিন্নভিন্ন করে পালিয়ে যায়। এদিকে তানিয়া ও মামুনের দেয়া তথ্যে যাদের নাম এসেছে তাদেরকে মনিটরিংয়ে রেখেছে পিবিআই। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পেলেই সেইসব হাই প্রোফাইল ব্যক্তিদেরকে গ্রেপ্তার করার অভিযানে নামবে পিবিআই।

আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বরাত দিয়ে সিলেট পিবিআই’র বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল করীম মল্লিক জানান, প্রায় এক বছর পূর্বে তানিয়া ও মামুন রোকেয়ার অগোচরে দুজনই কোর্ট ম্যারেজ (বিয়ে) করেন। বিয়ের পর তানিয়া সম্পর্কে জানতে শুরু করলেন মামুন। তাকে অনেকবার ফেরানোর চেষ্টা করলেও রোকেয়া বেগমের কারণে তাকে ফেরানো সম্ভব হয়নি। তানিয়াকে অনেকটা বাধ্য করেই দেহও ইয়াবা ব্যাবসা করাতেন রোকেয়া। তার বাসায় প্রতিদিন বিকেল থেকে কৌশলে গিয়ে পুরুষ ও নারীরা যাতায়াত করতেন।

শুধু তাই নয় মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তানিয়াকে সিলেটের বিভিন্ন উচ্চ বিলাসী আবসিক হোটেলে ভাড়াও দিতেন রোকেয়া বেগম। তানিয়া ও মামুন দুজনই দুজনকে খুব বেশী ভালোবাসত। তানিয়াকে অন্ধকার জগত থেকে না ফেরাতে পারার আক্রোশ থেকেই মূলত এহত্যার পরিকল্পনা নেয়া হয়।
Ads

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.