লন্ডনে দারুল উলুম স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বাসা থেকে নগদ ৪শ হাজার পাউন্ড উদ্ধার

0

বিয়ানীবাজার ভিউ২৪ ডটকম, ২৩ জুন ২০১৮,

সাউথ ইস্ট লন্ডনের ব্রোমলি এলাকার চিলসহার্স্টের একটি বেসরকারী ইসলামিক স্কুলের প্রধান শিক্ষকের ফ্ল্যাট থেকে নগদ ৪শ হাজার পাউন্ড এবং ব্লেড জাতীয় অস্ত্র উদ্ধারের পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি স্থায়ীভাবে বন্ধের হুমকির মুখে পড়েছে। মে মাসের শেষ দিকে বিশেষ অভিযান চালিয়ে পুলিশ এসব উদ্ধার করে। শুক্রবার ওয়েস্টমিনষ্টার কোর্টের শুনানিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

আদালত সুত্রে জানা গেছে, গত ৩০শে মে সাউথ ইস্ট লন্ডনের ব্রোমলি এবং বেক্সলি বারার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত চিলসহার্স্টের বেসরকারী ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম স্কুলে একজন অস্ত্র নিয়ে খেলা করছে বলে পুলিশে রিপোর্ট করা হয়। সশস্ত্র পুলিশ এসে এই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের ছেলে ইউসুফ মুসাকে গ্রেফতার করে। মুসা স্কুলের নিরাপত্তা বিষয়ক স্টাফ ছিলেন। এরপর মুসাদের ঘরে অভিযান চালিয়ে পুলিশ একটি খেলনা অস্ত্র, ব্লেড এবং নগদ ৪শ হাজার পাউন্ড উদ্ধার করে। উদ্ধার অভিযানের পরদিনই অর্থ পাচার বা মানি লন্ডারিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোস্তাফা মুসাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। একই সঙ্গে স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে জরুরী ভিত্তিতে স্কুলটি বন্ধ রাখার জন্যে এডুকেশন ডিপার্টমেন্টে আবেদন করে পুলিশ। স্কুলে প্রায় ১৫৫জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। তবে আদালতের শুনানিতে মোস্তাফা মুসা এবং তার ছেলে স্কুল পরিচালনার কোনো কাজে নিজেদের আর জড়িত রাখবেন না বলে ওয়াদা করার পর স্কুল বন্ধের আবেদনটি আপতত স্থগিত রাখা হয়। স্কুল গ্রাউন্ড এবং ওই ফ্ল্যাটে যেতে মোস্তাফা মুসা এবং তার ছেলের প্রতি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আদালত।

স্কুলে প্রায় ১৫৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। যারা বছরে তিন হাজার পাউন্ড ফি পরিশোধ করে স্কুলের হোস্টেলে থেকে পড়ালেখা করেন। স্কুলের হোস্টেলে প্রবেশের ক্ষেত্রে মোস্তাফা মুসা ও তার ছেলের উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আদালত। যদিও আদালতে তাদের বিরুদ্ধে অপরাধ বিষয়ক কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। তাবে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশী তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

আদালতের শুনানিতে বলা হয়েছে, সরকার অনুমোদিত ট্রাস্টি বোর্ড নিয়োগের পূর্ব পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখা হবে। এর আগে ইনডিপেনডেন্ট অডিট কমিশনের মাধ্যমে স্কুলের নিরাপত্তার বিষয়টি অডিট করা হবে এবং স্কুলের পক্ষ থেকে অবশ্যই অডিট কমিশনের সুপারিশ মানতে হবে বলে শুনানিতে উল্লেখ করা হয়।

শুনানিতে চীফ ম্যাজিস্ট্রেট এ্যামা আরবান্টন বলেন, স্কুলের প্যারেন্টসদের প্রেরিত প্রায় ৪শ হাজার পাউন্ড ক্যাশ হ্যান্ডল করায় তিনি হতবাক হয়েছেন। এ জন্য অবশ্যই একটি ব্যাঙ্ক একাউন্ট থাকা উচিত ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আদালতের শুনানিতে জানানো হয়, স্কুলের নিরাপত্তা এবং লিডারশীপের ক্ষেত্রে গত দুই বছর ধরে এই স্কুলটি অফস্টেডের রিপোর্টে ফেইল করে আসছে। তবে স্কুলের পক্ষের আইনজীবি আদালতকে জানিয়েছেন, গত কয়েক সপ্তাহ যাবত স্কুল নিরাপত্তা ও পরিচালনার ক্ষেত্রে বিশেষ উন্নতি সাধন করে আসছে। তবে তা বেশ ধীরগতিতে হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.