যে লাউ সেই কদু…বিয়ানীবাজারে বিদ্যুৎ

0

বিয়ানীবাজার ভিউ২৪ ডটকম, ১৫ জুলাই ২০১৮,

সাত্তার আজাদ: ১৩ জুলাই ২০১৮। সকাল ১১টার দিকে খালেদ জাফরী ভাই ফেসবুকে একটি পোষ্ট দেন। তিনি লিখেছেন— গত রাত ১২টা থেকে বিদ্যুতহীন। তিনি শিক্ষক ও সাংবাদিক। বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজারের মাথিউরা। তাঁর কথার উপর বিশ্বাস রেখে বলতে হচ্ছে তা হলে ঘটা করে চারখাই ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গ্রিড স্টেশন করা হল কি কারণে। নাকি এটা শো-পিস। এর আগে বিয়ানীবাজারের সুপাতলায় বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র করে গ্রাহকদের আশ্বস্থ করা হয়েছিল— বিয়ানীবাজারে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ থাকবে। কিন্তু যেই সেই অবস্থা। যে লাউ সে-ই কদু।

চারখাই ৮০ মেগাওয়াট গ্রিড স্টেশন করে তা সংযুক্ত করা হয় সুপাতলা উপকেন্দ্রের সাথে। চারখাই গ্রিড স্টেশন থেকে বিয়ানীবাজার ছাড়াও শুরুতে কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ, দক্ষিণ সুরমার একাংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার কথা। সুষ্ঠুভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সিলেটের ১৩ উপজেলায় আরো ১১টি সাবস্টেশন স্থাপন করা হয়েছে।

বিয়ানীবাজার পল্লীবিদ্যুতের ডিজিএম ইছহাক আলী তখন বলেছিলেন, চারখাই স্টেশন চালু হলে বিয়ানীবাজারে লোডশেডিং একেবারেই হবে না। বাড়বে বিদ্যুতের ভোল্টেজও। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। সিস্টেম লস ১.৫ পয়েন্টে নেমে আসবে। বর্তমানে যা ১১ পয়েন্টে রয়েছে। নতুন স্টেশনের অধীনে প্রাথমিকভাবে প্রায় দেড় লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎ সেবা পাবেন।

কিন্তু তাদের কথার সাথে কাজের মিল কোথায়। খালেদ জাফরী ভাইয়ের কথায় ১২ জুলাই রাত ১২টা থেকে ১৩ জুলাই সকাল ১১টা পর্যন্ত ১১ ঘন্টা বিদ্যুৎ নেই। অথচ সিলেটে ওই সময়ের মধ্যে কোনো লোড শেডিং হয়নি। ১০ মিনিটের জন্যও না। সিলেট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। আর বিয়ানীবাজারসহ মফস্বলে পল্লী বিদ্যুৎ। এই পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকের গলার কাটা হয়ে আছে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মতো।

বিয়ানীবাজারের বহু লোক প্রবাসে থাকে। ফুসরত পেলেই তারা পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়িতে আসে। এসেই প্রথমে দুরাবস্থার বিয়ানীবাজারী রাস্তার অবস্থায় পড়ে। গায়ে ব্যথায় প্যারাসিটামল সেবন করে। পরে যখন বিদ্যুতহীন গরমে পড়ে, তখন স্বস্তি পেতে গায়ে জল ঢালে। আর তখনই তাদের নাভিশ্বাস অবস্থা। আর উন্নত দেশে বড় হওয়া তাদের সন্তানরা প্রবাসে ফিরতে মা-মরা কান্না শুরু করে।

আমার বন্ধু সুপাতলা গ্রামের খলিলুর রহমান স্বপরিবারে বাংলাদেশে বেড়াতে আসে কয়েক বছর পর। ১২ জুলাই তার সাথে দেখা করতে গেলে খলিল জানান— সাত্তার ভাই, শখ করে বাড়িতে এসেছিলাম। কিন্তু বাড়ির পথে রওয়ানা হয়েই ঝাঁকুনির শিকার হই। বাড়িতে গিয়ে বিদ্যুতের সমস্যায় সন্তানদের কাছে লজ্জায় পড়ি। তারা প্রশ্ন করে বাবা এ কোন আদিমরাজ্যে নিয়ে আসলেন। পরে অল্পদিন বাড়িতে থেকে আত্মীয়স্বজনদের ডেকে এনে দেখা করে দ্রুত সিলেটে চলে আসি। ১৩ জুলাই আমেরিকা ফিরে যাচ্ছি।

খলিলের দুঃখ— বিয়ানীবাজার ছেড়ে বড়লেখার চান্দগ্রাম বা গোলাপগঞ্জ যেতেই ভালো রাস্তা চোখে পড়ল। বিদ্যুতেরও এত সমস্যা নেই। এতে মনে হল যেন কেউ পরিকল্পিতভাবে বিয়ানীবাজারের রাস্তা বা বিদ্যুতের সমস্যা সৃষ্টি করে রেখেছে। এটা আমাদের প্রবাসী তথা বিয়ানীবাজারীর বড় লজ্জার।

ফেসবুক থেকে নেওয়া

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.