বড়লেখার বিজ্ঞানী ভাসমান চুম্বক ট্রেন আবিষ্কার করলেন

0

রিপোর্ট : বিয়ানীবাজার ভিউ২৪ ডটকম ডেস্ক, ২৩ অক্টোবর ২০১৫,

ট্রেন চলার সময় ভূমি স্পর্শ না করে ভেসে ভেসে চলবে এমন ট্রেন আবিষ্কার করে গোটা দুনিয়াকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশি এক গবেষক। এই গবেষকের নাম  ড. আতাউল করিম। তিনি এমন একটি ট্রেনের নকশা এঁকেছেন যেটা চলার সময় ভূমিই স্পর্শ করবে না! ফলে তার এ অভিনব আবিষ্কার পৃথিবী জুড়ে রীতিমত সাড়া ফেলে দিয়েছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দেশে এ ট্রেন বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের চিন্তা ভাবনা চলছে।

জানা গিয়েছে, ২০০৪ সালে এ ভাসমান ট্রেনের প্রকল্পটি হাতে নেন তিনি। দেড় বছরের মাথায় ট্রেনটির প্রোটোটাইপ তৈরি করতে সক্ষম হন। যেখানে ওল্ড ড্যামিয়ান ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা ৭ বছর চেষ্টা করেও সফলতা পায়নি। পরের সময়টায় নাম করা বিজ্ঞানীরা এ মডেলটি পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখেছে। কিন্তু কোন খুঁত খুঁজে না পাওয়ায় এটা বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে বরাত দিয়ে জানা গেছে, ট্রেনের প্রচলিত ধারাকে পেছনে ফেলে ড. আতাউল করিম সম্পূর্ণ নতুন এক পদ্ধতিতে এই ট্রেনের ডিজাইন করেছেন। এ ট্রেনের গঠনশৈলীও খুবই আকর্ষণীয়। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য, এটা চলার সময় ভূমিই স্পর্শ করবে না। ট্রেনটি চুম্বক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সাবলীলভাবে চলবে। এর গতিও অনেক বেশি হবে। অনেকটা বুলেট ট্রেনের মত! জার্মানি, চীন ও জাপানে ১৫০ মাইলের বেশি গতির ট্রেন আবিষ্কৃত হয়েছে। তবে এগুলির সঙ্গে আতাউল করিমের ভাসমান ট্রেনের পার্থক্য হচ্ছে, ওই ট্রেনে প্রতি মাইল ট্র্যাক বসানোর জন্য গড়ে খরচ পড়ে ১১ কোটি ডলার। আর সে জায়গায় আতাউল করিমের আবিষ্কৃত এই ট্রেনে খরচ হবে মাত্র ১ কোটি ২০ লাখ থেকে ৩০ লাখ ডলার।

আতাউল করিমের জন্ম বড়লেখা পৌর শহরের বারইগ্রাম গ্রামে। বাবা মোহাম্মদ আবদুস শুকুর পেশায় ডাক্তার ছিলেন। তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু হয় বড়লেখার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এরপর বড়লেখার ঐতিহ্যবাহী পিসি হাইস্কুলে পড়ালেখা করেন। পরবর্তী সময়ে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ থেকে ১৯৬৯ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় চট্টগ্রাম বোর্ডে প্রথম শ্রেণীতে ৪র্থ স্থান অধিকার করেন। ১৯৭২ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় সিলেট এম সি কলেজ থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৬ সালে পদার্থবিজ্ঞানে বিএসসি (অনার্স) ডিগ্রি লাভের পর উচ্চ শিক্ষা লাভের উদ্দেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গমন করেন। পদার্থবিজ্ঞানে মাস্টার অব সায়েন্স, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার অব সায়েন্স এবং পিএইচডি করেন ইউনিভার্সিটি অব আলাবামা থেকে যথাক্রমে ১৯৭৮, ১৯৭৯ এবং ১৯৮১ সালে।

বর্তমানে আতাউল করিম বাংলাদেশি-মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী। যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার নরফোকে অবস্থিত ওল্ড ডোমিনিয়ান ইউনিভার্সিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট (গবেষণা) হিসেবে কর্মরত এই বিজ্ঞানী ইলেকট্রো-অপটিক্সের গবেষণায় অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে গণ্য।

Share.

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.