লন্ডনে সিলেটি দুই বিষময় বালকের কৃতিত্ব (ভিডিও)

0

বিয়ানীবাজার ভিউ২৪ ডটকম, ১২ আগস্ট ২০১৮,

ইস্ট লন্ডনের দুই সিলেটি ভাই মার্শাল আর্টের রেসলিং এবং ব্রাজিলিয়ান জ্যু জ্যুতসুতে ব্রিটিশ, ইউরোপিয়ান এবং বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। গত তিন বছরে অন্তত ১৫টি গোল্ড মেডেল জয় করেন তারা। এর মধ্যে একজন টিম জিবিতে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। টিম জিবির হয়ে আগামী অলিম্পিকের রেসলিংয়ে অংশ নিতে যাচ্ছেন তিনি। পড়া লেখার পাশাপাশি নিজের একাগ্রতা এবং বাবা-মার প্রেরণা ও সহযোগিতায় একের পর এক সাফল্য অর্জন করেন বলে জানান জানা।
সফল এই দুই মেধাবী কিশোর হলেন ইস্ট লন্ডনের নিউহ্যাম বারার বাসিন্দা শ্যামল মিয়া এবং রুমি বেগমের ছেলে আব্দুর রাহমান মিয়া ও ইব্রাহিম মিয়া।

আব্দুর রাহমান মিয়া শুরু করেন মাত্র ৯ বছর বয়সে। রেসলিং এবং অনুর্ব্ধ ১৮ বছর বয়সের ৬৫ কেজি ব্রাজিলিয়ান জ্যু-জ্যুতসুতে ব্রিটিশ, ইউরোপিয়ানের পর চলতি বছর জুনিয়র ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়ান হয়েছেন তিনি।

বড়ভাইকে অনুরসণ করে মাত্র ৪ থেকে ৫ বছর বয়স থেকে একই পথ ধরেন ছোট ভাই ইব্রাহিম মিয়া। ১৪ বছর বয়সের ইব্রাহিম মিয়াও আন্ডার ৬০কেজিতে ব্রিটিশ ইউরোপিয়ানের এবং বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। দুই ভাই মিলে গত তিন বছরে অন্তত ১৫টি গোল্ড মেডেল জয় করেন।

এই সাফল্যের জন্যে দিনে দেড় থকে দু ঘন্টা কওে সপ্তাহে অন্তত চারদিন ক্লাবে গিয়ে প্রেক্টিস করতে হয়। সময় পেলে প্রেক্টিস করেন ঘরেও। খেলাধুলার পাশাপাশি লেখাপড়ায়ও সাফল্য কম নয়। আব্দুর রাহমান মিয়া গত বছর নিউহ্যামের ল্যাঙডন একাডেমী থেকে ৭টি এ স্টার এবং ৫টি এ পেয়ে জিসিএসই পাশ করেন। এখন পড়ছেন এ লেভেলে। আর ইব্রাহিম মিয়া সেপ্টেম্বর থেকে একই একামেডীতে ইয়ার টেন শুরু করবেন।

আব্দুর রাহমান মিয়া এবং ইব্রাহিম মিয়া চার ভাই এবং এক বোন। তাদের তিন নম্বর ভাইও রেসলিং শুরু করেছে। একমাত্র বোন আগামী বছর জিসিএসই পরীক্ষা দেবে। সেও বাবার কাছ থেকে রেসলিং শিখেছে। তাদের বাবা সরকারী চাকুরীজীবি। তিনি নিজেও কুংফু করেন। আর ঘরে মা সদা ব্যস্ত থাকেন তাদের দৈনন্দিন রুটিন এবং হেলদি খাবার নিয়ে। আব্দুর রাহমান এবং ইব্রাহিম জানালেন, তাদের বাবা রীতিমতো তাদের কোচ, প্র্যাক্টিস পার্টনার আবার কখনো কখনো গাড়ি ড্রাইভার। প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে বা প্রেক্টিসের জন্যে ইউকের যেখানে যেতে হয় সেখানেই নিয়ে যান তিনি। আবার সপ্তাহে পাঁচদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নিয়মিত কাজও করেন। অন্যদিকে ঘরে সব কিছুর প্রেরণা হলেন মা। তাদের স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের প্রতি সর্বদা সজাগ থাকেন মা রুমি বেগম। এছাড়া প্রেক্টিস, টেলিভিশন বা গেইম খেলতে বসে সময় নস্ট করার সুযাগ দেন না তিনি, এসব কথা জানান আব্দুর রাহমান মিয়া এবং ইব্রাহিম মিয়া।

অলসতা কাটিয়ে উঠা এবং বিপথগামীতা থেকে রক্ষায় উদাহরণ হতে পারেন এই দুই ভাই। তারা মনে করেন, জীবনের নিয়মানুবর্তিতা শেখায় মার্শাল আর্ট। শুধু মার্শাল আর্ট নয়, পড়ালেখার পাশাপাশি যে কোনো খেলাধুলার প্রতি লেগে থাকার পরামর্শ দেন এই দুই ভাই।
উল্লেখ্য আব্দুর রাহমান মিয়া এবং ইব্রাহিম মিয়ার দাদার বাড়ি সুনামগঞ্জের পাটলিগ্রামে।

ভিডিওটি দেখতে চাইলে এখানেই ক্লিক করুন

Comments are closed.