বিয়ানীবাজারে একটি সেতুর অভাবে দূর্ভোগে লক্ষাধিক মানুষ!

0

বিয়ানীবাজার ভিউ২৪ ডটকম,০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮,

বিয়ানীবাজারের তিলপাড়া ইউনিয়নের সুনাই নদী সংলগ্ন বিবিরাই গ্রামসহ বিয়ানীবাজার ও পার্শ্ববর্তী বড়লেখা উপজেলার প্রায় ১০টি এলাকার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ চরম দূর্ভোগে আছেন একটি মাত্র সেতুর অভাবে। বিশেষ করে সেতু না থাকায় নদীর উপর নির্মিত বাঁশের সাঁকো দিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয় এলাকার ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের। যার কারণে তাদের নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় থাকে তাদের পরিবার। এছাড়া যাতায়াতের উন্নত ব্যবস্থা না থাকায় ওই এলাকা এখনো রয়েছে অন্ধকারে।

উপজেলার অন্যান্য এলাকার বাসিন্দাদের চেয়ে অনেকটা পিছিঁয়ে রয়েছে তারা। তাই এলাকাবাসীর এখন একটাই দাবী, সুনাই নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণ করে অবহেলিত ওই এলাকার যাতে সামগ্রীক উন্নয়ন করা হয় এবং এলাকাবাসীর দূর্ভোগ লাগব করা হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিয়ানীবাজার উপজেলার শেষ সীমান্তঘেষা তিলপাড়া ইউনিয়নের বিবিরাই বাজার সংলগ্ন সুনাই নদীর উপর নির্মিত একটি বাঁশের সাঁকো। ওই সাঁকো দিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে যাচ্ছে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা। তাদের অনেকের সাথে আবার রয়েছেন তাদের অভিভাবকও। সন্তানের নিরাপদ যাতায়াতের জন্যই অভিভাবকরা তাদের সাথে থাকেন।

এছাড়া নদী তীরবর্তী বিস্তৃর্ণ এলাকা বিয়ানীবাজার উপজেলা ও পাশর্^বর্তী বড়লেখা উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম হওয়ায় ওইসব এলাকার সাধারণ মানুষেরা যাতায়াত করেন এই সাকোঁ দিয়ে। তাছাড়া জেলা শহর সিলেট যাওয়ার অন্যতম সহজ মাধ্যম হওয়ায় এই সড়ক দিয়ে সাধারণ মানুষের যাতায়াত বেশি। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে নিমিষেই ওই এলাকা নিমিষেই তলিয়ে যাওয়ার কারণে ভেঙ্গে পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা। বর্তমান সরকার ক্ষমতার আসার পর বিয়ানীবাজারের বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়নের ছোয়া লাগলেও বিবিরাইসহ আশপাশ এলাকায় তেমন উন্নয়ন না হওয়ায় ক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী।

জানা যায়, সুনাই নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণের দাবীতে দীর্ঘদিন থেকে আন্দোলন করে আসছেন এলাকাবাসী। কিন্তু তাদের সেই আন্দোলন এখনো আলোর মুখ দেখেনি। যার ফলে তারা আজো রয়ে গেছেন অবহেলিত।

অবহেলিত এ অঞ্চলের লোকজনের দাবি, সুনাই নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ হলে শুধু এই এলাকার মানুষ নয়, পার্শ্ববর্তী বড়লেখা, জুড়ি ও গোলাপগঞ্জ থানার মানুষও উপকৃত হবে। এসব অঞ্চলের মানুষ বিভাগীয় শহর সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে সহজে যোগাযোগের পাশাপাশি শিক্ষা, কৃষি, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুযোগ সুবিধা পাবে। সহজ হবে যাতায়াত ব্যবস্থা এবং উন্নত হবে মানুষের জীবনযাত্রার মান। শিক্ষার্র্থীরাও নিরাপদে যাতায়াত করতে পারবে বিদ্যালয়ে। তাদের আর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হবে না। বিদ্যালয়ে নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানিয়ে বিবিরাই নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারহানা আক্তার ও মাসুম আহমদ জানায়, লেখাপড়া করতে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই বাঁশের তৈরী সাঁকো দিয়ে নদী পার হতে হয় তাদের। বর্ষাকালে নৌকা দিয়ে নদী পারাপার হওয়ার সময় প্রায়ই দূর্ঘটনা ঘটে। তারা ঝুঁকি নিয়ে নয়, নিরাপদে বিদ্যালয়ে যেতে চায় বলে জানায়। শুধু বিবিরাই নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ই নয়, বিবিরাই প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদরাসার শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত বাশেঁর সাকোঁ দিয়ে পাড়াপাড় হন বলে জানান প্রবীণ মুরুব্বী ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ফারুক আহমদ।

তিনি জানান, সীমান্তঘেষা আমাদের মানুষদের ভাগ্যের উন্নয়ন আজো ঘটলো না। সেতু না থাকায় আমাদের গ্রামের শিশুরা শিক্ষার আলো হতে বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, সুনাই নদীর পূর্বপাশে বিবিরাই গ্রামের একটি বৃহৎ অংশ এবং পাশে বড়লেখা উপজেলা। বিবিরাইসহ বড়লেখা ও জুড়ি উপজেলার বাসিন্দাদের ওই নদী পার হয়েই বিয়ানীবাজার উপজেলা সদর ও জেলা শহর সিলেটে যেতে হয়। কারণ মহাসড়কের চেয়ে এই সড়কেই সহজে ও কম সময়ে সিলেট যাওয়ায় যায়। যার ফলে তাদের অর্থ ও সময় দুটোই বাঁচে। কিন্তু সেখানে একটি সেতু না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন হাজার হাজার পেশাজীবি মানুষ বাঁশের তৈরী সাঁকো দিয়ে সুনাই নদী পার হয়ে তাদের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছেন। যা আমাদের সকলের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। তিনি সরকারের নিকট দাবী জানিয়ে বলেন, সুনাই নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণ করে দিলে সীমান্তঘেষা অবহেলিত মানুষগুলো উন্নয়নের মুখ দেখবে। মানুষের জীবনযাত্রা উন্নত হবে এবং শিক্ষার্থীরাও নিরাপদে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে পারবে।

তিলপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ নুরুল আমিন মেম্বার জানান, বিবিরাই বাজার সংলগ্ন সুনাই নদীর উপর একটি সেতুই বদলে দিতে পারে এই অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য। সেতু হলে বড়লেখা-জুড়ি ও সিলেটের সাথে যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। তিনি বলেন, সেতু হলে এলাকার মানুষের বড় উপকার হতো। সহজে ও কম খরচে পরিবহন করা যেত। সেতুটি হলে এলাকার শিক্ষা বিস্তার ও ব্যবসা-বাণিজ্যে অবদান রাখবে। তিনি বলেন, আমরা এখানে একটি সেতুর জন্য অনেকবার সংসদ সদস্য শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদসহ অনেকের কাছে ধরণা দিয়েছি, বারবার দরখাস্থও করেছি। কিন্তু এখনো কোন ফল না পাওয়ায় আমরা হতাশ।

এবিষয়ে তিলপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান বলেন, “ বিবিরাই বাজার সংলগ্ন সুনাই নদীর উপর একটি সেতু এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবী। এলাকাবাসী ওই জায়গায় একটি সেতু নির্মাণ করার জন্য আমার সাথেও যোগযোগ করেছেন। তিনি জানান, এই জায়গায় একটি সেতু করে দেয়া হলে এলাকাবাসীর যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ হবে। বিশেষ করে, তিলপাড়া ইউনিয়নের অন্তর্গত নদীর ওপারে বসবাসকারী এলাকাবাসীসহ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়, স্কুল কিংবা মাদ্রাসায় আসা সহজ হবে। এছাড়াও সহজ হবে পাশর্^বর্তী বড়লেখা ও জুড়ি উপজেলার যাতায়াত ব্যবস্থা। এর সাথে উন্নত হবে এলাকাবাসী , দুর্ভোগ দূর হবে সাধারণ মানুষের।

-সুফিয়ান আহমদ

Comments are closed.