অভিবাসন প্রত্যাশীদের জাহাজেই রাখার প্রস্তাব অস্ট্রিয়ার

0

অভিবাসী প্রত্যাশীদের আশ্রয় আবেদন তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের সমুদ্রে জাহাজেই রাখার প্রস্তাব দিয়েছে ইতালি ও অস্ট্রিয়া।
শুক্রবার দু’দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচিত অভিবাসী হতে ইচ্ছুক আশ্রয়প্রার্থীদের প্রাথমিকভাবে সাগরে জাহাজে রাখা।

অস্ট্রিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হারবার্ট কিকের তোলা এ প্রস্তাবটিতে সম্মতি দিয়েছেন ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তিও সালভিনি। অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় ইইউ অভিবাসন সম্মেলনে এ প্রস্তাব তোলেন তারা।

রয়টার্স জানিয়েছে, গত মাসে ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধারকৃত আশ্রয়প্রার্থীদের বন্দরে নামতে দিতে অস্বীকৃতির কথা জানায় ইতালি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্তের আদেশ দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত।

ইতালি অনেকদিন ধরেই শরণার্থীদের নিয়ে আলোচনায় রয়েছে। ভূমধ্যসাগরের এক পাড়ে ইতালি ও অপর পাড়ে লিবিয়াসহ অন্যান্য আফ্রিকান দেশ।

সেখান থেকে ইউরোপে অভিবাসী হতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা সাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিতে এসে উঠছে।

এমন পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন দেশটির চরম ডানপন্থী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ইতালি ও অস্ট্রিয়ার চরম ডানপন্থী দলগুলো বহু আগে থেকেই দাবি জানিয়ে আসছিল এমন একটি ব্যবস্থা কার্যকরের যাতে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিতে আশ্রয় নেয়া ব্যক্তিদের আফ্রিকাতে ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হয়।

তারপর যেন তাদের অভিবাসনের অনুমতির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশ আবেদন বাছাইয়ের কাজ করার সুযোগ পায়।

শুক্রবার যৌথ সংবাদ সম্মেলনে হারবার্ট কিক ও সালভিনি বলেন, ‘যাদেরকে ইউরোপীয় জলসীমা থেকে উদ্ধারকারী জাহাজ উঠিয়ে নিয়ে আসে, ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করার আগ পর্যন্ত তাদেরকে জাহাজেই রাখা উচিত।’ ইতালির মতো অস্ট্রিয়াতেও অভিবাসী সমস্যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

গত নির্বাচনের প্রধান আলোচ্য বিষয়ই অভিবাসী। অস্ট্রিয়া অবশ্য তার মোট জনসংখ্যা এক শতাংশেরও বেশি আশ্রয়প্রার্থীকে ইতিমধ্যেই অভিবাসী হিসেবে গ্রহণ করেছে। কিক যে আশ্রয়প্রার্থীদের জাহাজেই রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন তা প্রকৃতপক্ষে অপর একটি প্রস্তাবের বিকল্প হিসেবে উত্থাপন করেছেন তিনি।

‘রিজিওনাল ডিসেএমবারকেশন প্ল্যাটফরমস’ নামের ওই পরিকল্পনার প্রস্তাবনায় বলা হয়েছিল, অভিবাসনের জন্য যারা আসবে তাদেরকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ভাগ করে দেয়া হবে। রয়টার্স লিখেছে, এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।

Comments are closed.