সুইডেনে বসবাসরত এবং ভবিষ্যতে বসবাসের অনুমতি প্রত্যাশী অভিবাসীদের জন্য বেশ কিছু আইন পাস করেছে দেশটির পার্লামেন্ট। নতুন এই আইনের ফলে অভিবাসীদের দৈনন্দিন আচরণ ও আইনি অবস্থানের ওপর নজরদারি আরও বাড়বে।
এখন থেকে সুইডেনে রেসিডেন্সি পারমিট বা বসবাসের অনুমতি ধরে রাখতে অভিবাসীদের কঠোরভাবে ‘গুড বিহেভিয়ার’ বা ভালো আচরণবিধি মেনে চলতে হবে। এই শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে পারমিট বাতিল হতে পারে।
যেসব কারণে পারমিট বাতিল হতে পারে: সরকার নির্দিষ্ট করে কিছু বিষয় উল্লেখ করেছে। যেমন- সময়মতো ঋণ পরিশোধ না করা, কর (ট্যাক্স) ফাঁকি দেওয়া, যে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা কিংবা উগ্রপন্থি কোনো সংগঠনের সাথে যুক্ত থাকা।
কাদের ওপর প্রযোজ্য: এই আইনটি শুধু নতুন আবেদনকারীদের জন্যই নয়, বরং বর্তমানে যারা সুইডেনে বৈধভাবে বসবাস করছেন, তাদের জন্যও সমভাবে প্রযোজ্য হবে।
বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বসবাসকারী অনিয়মিত অভিবাসীদের শনাক্ত করতে একটি নতুন আইন পাস হয়েছে, যা সমালোচকদের কাছে ‘স্নিচ ল’ নামে পরিচিত।
নিয়মটি কী: অনেক সরকারি কর্মচারীর ওপর বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে যে, তারা যদি বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কোনো অভিবাসীকে সন্দেহ করেন, তবে তা পুলিশ বা কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।
কারা তথ্য দেবেন: মূলত কর কর্তৃপক্ষ, কর্মসংস্থান সংস্থা এবং সামাজিক বীমা সংস্থার কর্মীদের জন্য এই নিয়ম মানা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর ব্যাপক সমালোচনার পর বেশ কিছু পেশাজীবীকে এই বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষক, চিকিৎসক এবং সমাজকর্মীদের অনিয়মিত অভিবাসীদের তথ্য পুলিশকে জানানোর কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। ফলে অভিবাসীরা চিকিৎসা ও শিক্ষাসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে পূর্বের মতোই গোপনীয়তা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
কারো আচরণ ‘অগ্রহণযোগ্য’ কি না বা রেসিডেন্সি পারমিট বাতিল করা হবে কি না- এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব থাকবে সুইডিশ মাইগ্রেশন এজেন্সির ওপর। তবে, মাইগ্রেশন এজেন্সি যদি কারও পারমিট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়, তবে ওই অভিবাসী চাইলে সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি আপিল করার সুযোগ পাবেন।
মানবাধিকারকর্মী এবং অভিবাসন নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো এই আইনের তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, ‘ভালো আচরণের’ মাপকাঠি বেশ অস্পষ্ট, যার ফলে ইচ্ছামতো এর অপব্যবহার হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
অনেকেই একে যুক্তরাজ্যের বিতর্কিত ‘হোস্টাইল এনভায়রনমেন্ট’ নীতির সাথে তুলনা করছেন, যেখানে দেখা গিয়েছিল এ ধরনের নীতির কারণে অনেক বৈধ অভিবাসীও অকারণে হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হয়েছিলেন।
আগামী সেপ্টেম্বরে সুইডেনের পার্লামেন্ট নির্বাচনের আগেই এই কঠোর পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। অভিবাসীদের তাই দৈনন্দিন আইনি ও অর্থনৈতিক বিষয়গুলোতে (যেমন: নিয়মিত কর ও ঋণ পরিশোধ) এখন থেকে আরও বেশি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


