Thursday, April 9, 2026
Home Blog Page 45

হোয়াটসঅ্যাপের ব্যবহার নিষিদ্ধ করল বিমান বাংলাদেশ

সাইবার নিরাপত্তা ও কর্পোরেট তথ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে দাপ্তরিক কাজে হোয়াটসঅ্যাপের ব্যবহার নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এর পরিবর্তে কর্মীদের মাইক্রোসফট টিমস ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির আইটি বিভাগের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কর্পোরেট নেটওয়ার্কের সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্য সুরক্ষার স্বার্থে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। এর পরিবর্তে কর্পোরেট যোগাযোগের জন্য মাইক্রোসফট টিমস প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যা নিরাপদ ও পেশাগত যোগাযোগের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি মাধ্যম।

ব্যক্তিগত ইমেইল ও মোবাইল নম্বর দিয়ে মাইক্রোসফট টিমসে সহজে অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। এই প্ল্যাটফর্মে টেক্সট মেসেজ, ভয়েস ও ভিডিও কল, ফাইল শেয়ারিংসহ বিভিন্ন কর্পোরেট সুবিধা পাওয়া যায়, যা দৈনন্দিন দাপ্তরিক যোগাযোগকে আরও কার্যকর ও সুরক্ষিত করে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

বিশ্বের বিভিন্ন নামীদামী প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থা এরই মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপকে দাপ্তরিক কাজ থেকে বাদ দিয়েছে উল্লেখ করে এর কারণ হিসেবে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এটি একটি থার্ড-পার্টি অ্যাপ এবং অনেক ক্ষেত্রেই তথ্য নিরাপত্তার প্রশ্নে ঝুঁকিপূর্ণ।

এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক এ বি এম রওশন কবীর বলেন, মাইক্রোসফটের প্লাটফর্ম ব্যবহার করতে আনুষ্ঠানিক চুক্তি করেছে বিমান। এ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অনলাইনে বৈঠক বা যোগাযোগের ব্যবস্থা রয়েছে। কয়েক মাস আগেই দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত বিমানের ডেস্কটপ কম্পিউটারগুলোতে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বিমানের এই সিদ্ধান্ত সাইবার ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি কর্মীদের মধ্যে দাপ্তরিক যোগাযোগের আরও পেশাদার সংস্কৃতি গড়ে তুলবে বলে মনে করেন এ বি এম রওশন কবীর।

বিমানের টয়লেটের ‘ফ্লাশ’ কাজ না করায় ঢাকায় ফিরলো আবুধাবিগামী ফ্লাইট

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ২৩ মিনিটে আবুধাবির উদ্দেশে উড্ডয়ন করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৩২৭ ফ্লাইট। তবে আকাশে ওঠার প্রায় এক ঘণ্টা পর উড়োজাহাজটি ফিরিয়ে আনা হয় ঢাকায়।

উড়োজাহাজটির তিনটি টয়লেটের ফ্লাশ কাজ না করায় যাত্রীরা পড়েন চরম অস্বস্তিতে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ঢাকায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেন পাইলট। রাত ১টা ৩১ মিনিটে বিমানটি শাহজালালে নিরাপদে অবতরণ করে।

পরে রাত ৩টা ৩৮ মিনিটে যাত্রীদের আরেকটি উড়োজাহাজে করে আবুধাবি পাঠানো হয়। তবে সেই বিকল্প উড়োজাহাজটি মূলত ব্যাংককগামী বিজি-৩৮৮ ফ্লাইটের জন্য নির্ধারিত ছিল, যার ফলে ওই ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে যেতে পারেনি। বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ব্যাংককগামী ফ্লাইটটি শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাবে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জনসংযোগ বিভাগের ব্যবস্থাপক তাহের আল মাসুদ খান জানিয়েছেন, ফেরত আসা উড়োজাহাজটির ত্রুটি সারানো হয়েছে এবং যাত্রীরা নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছেছেন।

এর আগেও বিমানের ফ্লাইটে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটেছে। ৬ আগস্ট ব্যাংককগামী একটি ফ্লাইট উড্ডয়নের এক ঘণ্টা পর ইঞ্জিনে অস্বাভাবিক কম্পন শনাক্ত হলে সেটিও ঢাকায় ফিরে আসে। তখনও যাত্রীদের অন্য উড়োজাহাজে গন্তব্যে পাঠানো হয়।

এ ছাড়া, ২৮ জুলাই দাম্মামগামী একটি বোয়িং ৭৭৭-ইআর উড়োজাহাজও একই ধরনের সমস্যার মুখে পড়ে। আকাশে এক ঘণ্টা ওড়ার পর সেটিও ফিরে আসে শাহজালালে।

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৬ কোটি টাকা বৃত্তির অফার পেলেন মীম

মুমতাহিনা করিম মীম চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা বড়বাড়ির মেয়ে। ছোটবেলা থেকেই বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। আজ তার সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষার জন্য অফার পেয়েছেন।

এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের হেনড্রিক্স কলেজ থেকে বিশ্ববিখ্যাত ‘হেইস মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ অর্জন করেছেন তিনি। এটি একটি ফুল-রাইড স্কলারশিপ।

বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর মাত্র চারজন শিক্ষার্থী এই স্কলারশিপের জন্য নির্বাচিত হন। এবার যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে একমাত্র সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থী মীম। যার এই অর্জন বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য অনন্য অনুপ্রেরণা।

মীমের কাছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ থেকে প্রস্তাবিত স্কলারশিপের মোট মূল্য প্রায় ৩৬ কোটি টাকা। তবে তিনি হেনড্রিক্স কলেজে কম্পিউটার সায়েন্স (ডুয়েল-ইঞ্জিনিয়ারিং) প্রোগ্রামে স্নাতক সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

জানা গেছে, আগামী ৫ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রে রওনা দিচ্ছেন মীম, তার বহুদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে।

শৈশব থেকেই প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের প্রতি ঝোঁক ছিল মীমের। সপ্তম শ্রেণিতে নিজের হাতে তৈরি করেন একটি ওয়েবসাইট, নবম শ্রেণিতে প্রতিষ্ঠা করেন ৬৫ সদস্যের প্রোগ্রামিং ক্লাব।

করোনা মহামারির সময়, ঘরে বসেই গড়ে তোলেন একটি মিনি রোবটিক্স ল্যাব এবং নির্মাণ করেন ‘কিবো’ নামে একটি রোবট, যা খাবার পরিবেশন করতে সক্ষম।

মীম চট্টগ্রাম শহরের অংকুর সোসাইটি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং কাপাসগোলা মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ছোটবেলায় একবার বাবা-মার সঙ্গে বিদেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থেকেই তার মধ্যে বিদেশে উচ্চশিক্ষার আগ্রহ জন্মায়।

মীমের এই অসাধারণ অর্জনে শুক্রবার (১ আগস্ট) বিকেলে তার নিজ এলাকা সরফভাটা বড়বাড়িতে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বক্তব্য দেন স্থানীয় বিশিষ্টজনরা, যারা মীমের এই সাফল্যে গর্ব প্রকাশ করেন।

নিজের যাত্রাপথ সম্পর্কে মীম বলেন, সহশিক্ষা কার্যক্রম আমার পরিচয়ের বড় অংশ। বিতর্ক, চিত্রাঙ্কন, গান, বিজ্ঞান মেলা—সবখানেই সক্রিয় থেকেছি। এসব থেকেই অনুপ্রেরণা পেয়েছি। বিদেশে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার স্বপ্ন ছিল, সেটার জন্য ধাপে ধাপে নিজেকে তৈরি করেছি। মা-বাবা আর শিক্ষকদের সহায়তায় আজ এই জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছি।

সিলেটী যাত্রী মাঝ আকাশে অসুস্থ, লন্ডনগামী বিমান নামলো ইস্তাম্বুলে

মাঝ আকাশে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সিলেট থেকে লন্ডনগামী ফ্লাইটের একজন যাত্রী। এতে জরুরি ভিত্তিতে ফ্লাইটটিকে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অবতরণ করানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) বিকালে এ ঘটনা ঘটে। তবে বর্তমান অবস্থার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আর বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

ওই যাত্রীর নাম শাহ শামসুন নেহার রহমান। তার সম্পর্কে বিমান আর বিস্তারিত কিছু না জানালেও জানিয়েছে, তার সঙ্গে আরও দু’জন যাত্রী আছেন এবং তারা ইস্তাম্বলে অবতরণ করেছেন।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সূত্র জানায়, বিমানের বিজি-২০১ ফ্লাইটটি বৃহস্পতিবার সকালে সিলেট থেকে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করে। মাঝপথে এক যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে পাইলট ইস্তাম্বুলে জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন। ফ্লাইটটি পরিচালনা করছিলেন বিমানের চিফ অব ফ্লাইট ট্রেনিং ক্যাপ্টেন সাজ্জাদুল হক।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছে, ফ্লাইটটি বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে সিলেট থেকে উড়াল দিয়ে লন্ডনে স্থানীয় সময় বিকাল ৪টা ৫ মিনিটে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে ইস্তাম্বুল সময় বিকাল ৫টা ৫০ মিনিটে এটি লন্ডনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উপ-মহাব্যবস্থাপক (আইন এবং জনসংযোগ বিভাগ) মো. আল মাসুদ খান জানান, মাঝ আকাশে শাহ শামসুন নেহার রহমান নামে ফ্লাইটের একজন যাত্রী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার অবস্থা বিবেচনা করে ফ্লাইটের পাইলট-ইন-কমান্ড মেডিকেল এমারজেন্সি ঘোষণা করেন এবং দ্রুত ফ্লাইটটি লন্ডনের পরিবর্তে ইস্তাম্বুলে জরুরি অবতরণ করেন। ইস্তাম্বুলে সেই অসুস্থ যাত্রী এবং তার সঙ্গে থাকা অপর দু’জন সম্মানিত যাত্রী ফ্লাইট থেকে অবতরণ করেন।

বিকেলে চাঁদাবাজি নিয়ে লাইভ, রাতে প্রকাশ্যে সাংবাদিককে কুপিয়ে হত্যা

গাজীপুরে চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় এক সাংবাদিককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে চৌরাস্তা এলাকার মসজিদ মার্কেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহত আসাদুজ্জামান তুহিন (৩৮) দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের গাজীপুরের স্টাফ রিপোর্টার ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় ফুটপাত ও দোকানপাট থেকে চাঁদাবাজি নিয়ে বিকেলে লাইভ করেন। এরপর রাত ৮টার দিকে নিজ ফেসবুকে একটি ভিডিও পোষ্ট করে লিখেন ‘যেমন খুশি তেমন রাস্তা পার হওয়ার দৃশ্য। গাজীপুর চৌরাস্তা’। এর পর তিনি মসজিদ মার্কেটের সামনে একটি চায়ের দোকানে বসে চা পান করছিলেন। এ সময় হঠাৎ কয়েকজন সন্ত্রাসী তাকে ঘিরে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে লোকজনের সামনেই এলাপাতাড়ি কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। জানতে চাইলে ওসি শাহীন খান বলেন, ‘এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

ঘটনাস্থলে যাওয়া বাসন থানার এসআই জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘নিহত তুহিন একজন গণমাধ্যমকর্মী। তার মরদেহ উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

ব্যাংককগামী বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি, ১ ঘণ্টা উড়ে ফের ঢাকায় অবতরণ

আবারও যান্ত্রিক ত্রুটির কবলে পড়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট। ত্রুটি বুঝতে পেরে মাঝ আকাশ থেকে উড়োজাহাজ নিয়ে ফিরে এসেছেন পাইলট। ওই উড়োজাহাজে ১৪৬ জন যাত্রী ছিলেন। উড়োজাহাজটি ব্যাংককের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছিল।

বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার দুপুর ১২টা ৬ মিনিটে বিজি-৩৮৮ ফ্লাইটটি ব্যাংককের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়ে যায়। বোয়িং ৭৩৭-৮০০ মডেলের উড়োজাহাজটি যখন মিয়ানমারের আকাশে প্রবেশ করে, তখন এর এক ইঞ্জিনে অস্বাভাবিক কম্পনের সংকেত পান পাইলট। নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় তিনি আবারও ঢাকায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।

পরে দুপুর ১টা ২১ মিনিটে উড়োজাহাজটি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। উড়োজাহাজের যাত্রীদের বিকল্প ব্যবস্থায় সন্ধ্যা ৬টা ২ মিনিটে ব্যাংককে পাঠানো হয় বলে জানান বিমানের এক কর্মকর্তা।

ফ্লাইট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বিমানের একাধিক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, উড়োজাহাজটিতে আগে থেকেই ইঞ্জিনে সমস্যা ছিল। দীর্ঘদিন সেটি হ্যাংগারে মেরামতের জন্য রাখা ছিল। গত সোমবার এটি পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকা-সিলেট-ঢাকা রুটে চালানো হয়। ওই ফ্লাইটটি সফল হওয়ায় ব্যাংকক রুটে ব্যবহার করা হয় সেটি। তবে উড়োজাহাজটিকে আবারও পুরোনো সমস্যায় পড়তে হয়।

বিষয়টি নিয়ে বিমানের প্রকৌশল বিভাগ তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, ব্যাংককগামী ফ্লাইটটি উড্ডয়নের এক ঘণ্টা পর ঢাকায় ফিরে আসে। যান্ত্রিক ত্রুটির বিস্তারিত কারণ প্রকৌশল বিভাগ জানাবে।

এর আগে, গত ২৮ জুলাই দাম্মামগামী বিমানের বিজি-৩৪৯ ফ্লাইটটিও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ঢাকায় ফিরে এসেছিল। সেবারও বোয়িং ৭৭৭-ইআর মডেলের উড়োজাহাজটি আকাশে এক ঘণ্টা ওড়ার পর পাইলট ত্রুটি শনাক্ত করেন এবং বিকেল ৪টা ৩৩ মিনিটে সেটি ঢাকায় অবতরণ করে।

সিলেটে দলবেঁধে বিজিবির উপর হা ম লা : আ ট ক ১ চোরাকারবারী, উদ্ধার ২ কোটি টাকার গরু

সিলেট সীমান্তে অভিযানকালে বিজিবি সদস্যদের উপর দলবেঁধে হামলা চালিয়েছে চোরাকারবারীরা। এতে এক সদস্য আহত হয়েছেন। পরে বিজিবি র‌্যাব ও পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালয়ে একজনকে আটক করে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ও গতকাল বুধবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিলেট সীমান্তবর্তী বাংলাবাজার, লাফার্জ ও উৎমা বিওপি এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। এসময় জব্দ করা হয় প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ ভারতীয় গরু ও মহিষ।

বিজিবি জানায়, সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি) এর দায়িত্বাধীন সিলেট সীমান্তবর্তী এলাকায় বাংলাবাজার, লাফার্জ এবং উৎমা বিওপি কর্তৃক অভিযান পরিচালনা করে দুটি গ্রুপে বিপুল পরিমানে ভারতীয় মহিষ এবং গরু আটক করে। এসময় চোরাকারবারীর একটি সংঘবন্ধ দল বিজিবি টহলদলের উপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। এতে এক বিজিবি সদস্য আহত হনে। পরে র‍্যাব, পুলিশ ও বিজিবির সমন্বয়ে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে বিজিবির উপর হামলায় জড়িত ১ চোরাকারবারীকে আটক করা হয়।

এ বিষয়ে সিলেট ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক বলেন, “উর্ধ্বতন সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে অব্যাহত রয়েছে।” এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ গবাদিপশু জব্দ করা সম্ভব হয়েছে।

এক দুর্ঘটনায় মা-স্ত্রী-সন্তানসহ ৭ স্বজনকে হারালেন প্রবাসী বাহার

ফেসবুকে ‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি আমার’ স্ট্যাটাস দিয়ে আড়াই বছর পর ওমান থেকে দেশে ফিরছিলেন বাহার উদ্দিন। তবে তার সেই আনন্দ এখন বিষাদে পরিণত হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনায় পরিবারের সাত সদস্যকে হারিয়েছেন তিনি।

বাহার উদ্দিন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের চৌপল্লী গ্রামের কাশারি বাড়ির বাসিন্দা। সড়ক দুর্ঘটনায় মা, নানি, স্ত্রী, সন্তানসহ বাহারের সাত স্বজন মারা গেছেন।

বুধবার (৬ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বাহার উদ্দিনকে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে আনার পথে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ পূর্ববাজারের জগদিশপুর এলাকায় মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খালে পড়ে তারা মারা যান। এতে বাহার উদ্দিন বাড়ি ফিরলেন ঠিকই, কিন্তু সঙ্গে নিলেন দুঃস্বপ্নের ভয়াবহ স্মৃতি।

দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন ওমান প্রবাসী বাহারের স্ত্রী কবিতা আক্তার (২৪), মেয়ে মীম আক্তার (২), মা মুরশিদা বেগম (৫০), নানি ফয়জুন নেছা (৭০), ভাতিজি রেশমা আক্তার (৯) ও লামিয়া আক্তার (৮) এবং বড় ভাইয়ের স্ত্রী লাবনী আক্তার (২৫)।

ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় বেঁচে যান বাহার উদ্দিন, তার বাবা আব্দুর রহিম, শ্বশুর ইস্কান্দার মির্জা, ভাবি সুইটি ও শ্যালক রিয়াজ।

বুধবার দুপুরে বাহার উদ্দিনের চৌপল্লি গ্রামের বাড়িতে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্য দেখা যায়। একসঙ্গে সাতটি মরদেহ দেখে বাড়ির লোকজন, পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজনরা শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েন। বাড়ির অদুরে একসঙ্গে খোঁড়া হচ্ছে সাতটি কবর।

প্রতিবেশী মো. গোফরান জাগো নিউজকে বলেন, ‌‘বাহার উদ্দিন খুবই ভালো ছেলে। সবার সঙ্গে হাসিখুশি নিয়ে চলাচল করে। সে পরিবারের প্রতি খুবই যত্নশীল। তার আগমনকে উপলক্ষ করে পরিবারের সবাই ঢাকা গেলো। তার বাড়িতে আজ আনন্দের পরিবর্তে কঠিন শোকাচ্ছন্ন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। এটা সত্যিই কষ্টের।’

বেঁচে ফেরা প্রবাসী বাহার উদ্দিন ও তার বাবা আব্দুর রহিম জাগো নিউজকে জানান, ঘুম চোখে মাইক্রোবাস চালাচ্ছিলেন রাসেল। বারবার বলা সত্ত্বেও গাড়ি থামিয়ে সামান্যও বিশ্রাম নেননি তিনি। এর আগে কুমিল্লায় দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে আসেন। কিন্তু বাড়ি থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার আগেই ঘুমন্ত চালক গাড়িটি সড়কের পাশে খালে ফেলে দেন। গাড়ি তাৎক্ষণিকভাবে ডোবেনি, ধীরে ধীরে ডুবছিল। তখন চালককে গাড়ির লক খুলতে বললেও খুলে দেননি। তবে তিনি নিজে গাড়ির কাচ নামিয়ে বের হয়ে পালিয়ে যান। কাউকে বাঁচানোর চেষ্টাও করেননি।
এক দুর্ঘটনায় মা-স্ত্রী-সন্তানসহ ৭ স্বজনকে হারালেন প্রবাসী বাহার
বাহার উদ্দিনের আত্মীয় মো. সুমন জাগো নিউজকে বলেন, ‘আড়াই বছর পর বাহার উদ্দিন দেশে আসছেন। এই আনন্দে পরিবারের সবাই খুব আশা নিয়ে তাকে বরণ করে আনতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান। কিন্তু সেখান থেকে সাতজন ফিরেছেন নিথর দেহে। কীভাবে এ শোক সহ্য করবো জানি না। পুরো পরিবারটা শেষ হয়ে গেলো।’

বেগমগঞ্জের জগদিশপুর এলাকার বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম। তিনি জাগো নিউজকে জানান, ভোর ৫টা ১৫ মিনিটের দিকে হঠাৎ দ্রুতগতিতে মাইক্রোবাসটি খালের পানিতে নেমে যায়। এর পরপরই চালক খালের পানি থেকে বের হয়ে পালিয়ে যান। বাহার উদ্দিনসহ পাঁচজন গ্লাস ভেঙে বের হয়ে আসতে পারলেও বাকি সাতজন গাড়ির ভেতরে আটকা পড়েন। তারা প্রায় দুই ঘণ্টা পানির নিচে ছিলেন।

এক দুর্ঘটনায় মা-স্ত্রী-সন্তানসহ ৭ স্বজনকে হারালেন প্রবাসী বাহার

শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ফায়ার সার্ভিসের কাছে ডুবুরি চাইলে তারা জানান, এখানে ডুবুরি নেই। বেগমগঞ্জ ও মাইজদী থেকে দুটি ইউনিট এলেও তারা কাউকে উদ্ধার করতে পারেননি। পরে হাইওয়ে পুলিশের রেকার দিয়ে গাড়িটি ওঠানোর পর মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।’

চন্দ্রগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোবারক হোসেন ভূঁইয়া জাগো নিউজকে বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে চালক ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। তাই গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খালে পড়ে যায়।’

তিনি আরও জানান, চালকসহ গাড়িটিতে মোট ১৩ জন ছিলেন। চালক পালিয়ে গেলেও গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। মরদেহগুলো উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে স্বজনদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের নোয়াখালীর সহকারী পরিচালক মো. ফরিদ আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের মাইজদী ও চৌমুহনী স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। তারা ডুবুরি চেয়েছিলেন কিন্তু আমাদের নিজস্ব ডুবুরি নেই। আমরা চাঁদপুর থেকে ডুবুরি দল চেয়ে আনি। তবে তার আগেই উদ্ধারকাজ শেষ হয়ে যায়।’

বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান জাগো নিউজকে বলেন, সাতটি মরদেহসহ মাইক্রোবাসটি উদ্ধার করা হয়েছে। চন্দ্রগঞ্জ হাইওয়ে থানা থেকে দেওয়া অভিযোগ অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ছেলের লা*শ নিয়ে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করলেন মা : আ ট ক হোটেল মালিক

সিলেটে সন্তানের লাশ নিয়ে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন মা। খুনের বিচার দাবিতে আজ মঙ্গলবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওসমানীনগর থানার সামনে ছেলের লাশ নিয়ে বসে থাকেন তিনি।

জানা যায়, সিলেটের ওসমানীনগরের কিশোর রবিউল ইসলাম নাঈম ২৬ জুলাই নিখোঁজ হয়। রোববার মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল এলাকার রেলস্টেশনের পার্শ্ববর্তী ডোবা তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

মঙ্গলবার সন্তানের হত্যাকারীর ফাঁসির দাবিতে রবিউল ইসলাম নাঈমের লাশ নিয়ে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেন মা পারুল বেগম (৫৫) ও তাদের স্বজন এবং এলাকাবাসী।

বিকাল সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত প্রায় দেড় ঘণ্টা ওসমানীনগর থানার সামনে এলাকার শত শত মানুষ সহ নিহত রবিউলের পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা হত্যাকারীর ফাঁসি ও মামলা দায়েরের দাবিতে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ সময় সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। ওসমানীনগর থানার সামনের দুই দিকে মহাসড়কে শত শত যাত্রীবাহী যানবাহন আটকা পরে এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন দূরপাল্লার শত শত যাত্রী সাধারণ।

বিষয়টি আইনানুগভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসে প্রশাসন ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে সন্ধ্যা ৭টার দিকে অবরোধ তুলে নেন তারা।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত রেস্টুরেন্ট মালিক বুলবুলকে ওসমানীনগর তানা পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে বলে ওসমানীনগর থানার ওসি মো. মোনায়েম মিয়া নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার গোয়ালাবাজার ইউপির গদিয়াচর গ্রামের কনাই মিয়া ও পারুল বেগমের দ্বিতীয় ছেলে কিশোর রবিউল ইসলাম নাঈম উপজেলার সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ব্রাহ্মণগ্রাম সুপ্রিম ফিলিং স্টেশন মার্কেটে বগুড়া রেস্টুরেন্টে নাইট শিফটে কাজ করত। গত ২৬ জুলাই রেস্টুরেন্ট থেকে নিখোঁজ হয় রবিউল। রবিউলের স্বজনরা সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে ওসমানীনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। গত ৩ আগস্ট মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল এলাকার রেলস্টেশনের পার্শ্ববর্তী ডোবা থেকে অজ্ঞাতনামা এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করে কুলাউড়া থানা পুলিশ। খবর পেয়ে রবিউলের পরিবার ও ওসমানীনগর থানা পুলিশ কুলাউড়ায় উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতনামা লাশটি নিখোঁজ রবিউলের বলে সনাক্ত করেন তার স্বজনরা।

রবিউলের পরিবারের দাবি রেস্টুরেন্ট মালিক বুলবুল মিয়া হত্যা করে রবিউলের লাশ কুলাউড়ায় ফেলে আসে।

নিহত রবিউলের বড় ভাই কাইয়ুম বলেন, আমার ভাইকে বুলবুল খুন করেছে। আমরা বুলবুলের ফাঁসি চাই।

ওসমানীনগর থানার ওসি মো. মোনায়েম মিয়া বলেন, বুলবুলকে আসামি করে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্ত রেস্টুরেন্ট মালিক বুলবুল পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

ওসি আরো জানান, বুলবুলকে কুলাউড়া থানায় পাঠানো হয়েছে, তাকে শ্যোন এরেস্ট দেখানো হবে।

এ ব্যাপারে রাত সাড়ে ১১টায় কুলাউড়া থানার ওসি মো. ওমর ফারুক বলেন, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। এখনো নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ আমরা পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সিলেটে ৪ ডাকাত গ্রেফতার : উদ্ধার হলো লুণ্ঠিত মালামাল

সিলেটের জকিগঞ্জে থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি প্রাইভেটকার, ১১ দিন আগে সংগঠিত ডাকাতির লুণ্ঠিত বিপুল পরিমাণ মালামাল, নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান জিনিসপত্রসহ আন্তঃজেলা ডাকাতচক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন— সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার ভুরুঙ্গাপুর পূর্ব তিলাপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রশীদের ছেলে ছোয়াবির আহমেদ প্রকাশিত ছাব্বির (৩৯), গোলাপগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর নোয়াপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে সুমন মিয়া (৩৬), সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার উত্তর কালনিরচর গ্রামের মৃত আরজদ্দ উল্লার ছেলে সোহেল মিয়া (৪২), সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বাঘবের গ্রামের সুমন মিয়ার ছেলে রুহুল আমিন (২৫)।

জানা যায়, গত ২২ জুলাই গভীর রাতে জকিগঞ্জ উপজেলার বারহাল ইউনিয়নের খিলোগ্রাম এলাকায় এক বসতবাড়িতে সংঘবদ্ধ ডাকাতদল হানা দেয়। এ ঘটনায় জকিগঞ্জ থানায় মামলা হলে, ডাকাতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে মাঠে নামে পুলিশের একাধিক টিম। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩ ও ৪ আগস্ট সিলেটের গোলাপগঞ্জ, ওসমানীনগর, সিলেট মেট্রোপলিটন এলাকা (এসএমপি), এবং সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর ও বিশ্বম্ভরপুর থানাধীন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা ডাকাতচক্রের চার সক্রিয় সদস্যকে আটক করে পুলিশ।

ডাকাতদেরকে গ্রেফতারের পর তাদের দেওয়া তথ্যমতে, পুলিশ একটি প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-খ-১১-৬৫৮২), পূর্বে উদ্ধার করা আরেকটি প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-গ-১১-৪৯৫৪), নগদ ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা, নেপালি মুদ্রা ৭ হাজার ৮৯০ রুপি, ৩৪টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, ৭টি আইফোন, ২৬টি বাটন ফোন, ৫টি বিদেশি হাতঘড়ি, ৫টি ট্যাব, ২টি ল্যাপটপ, ১টি ভিডিও ক্যামেরা, ৫টি শাড়ি, ৪টি ছাতা, ১টি বড় ল্যাগেজ, ৩টি হ্যান্ডব্যাগ, কিবোর্ড, চার্জার, খেলনা পিস্তল, লোহার সুচালো সাবল, হাতুরি, সুইস চাকু, স্ক্রুড্রাইভার, প্লাস ও গোল্ড প্লেটের বিভিন্ন অলংকার উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত ডাকাতদের বিরুদ্ধে সিলেট রেঞ্জের বিভিন্ন থানায় একাধিক ডাকাতি, অস্ত্র ও চুরি মামলার রেকর্ড রয়েছে। এ চক্রের আরও দুই সদস্যকে আগেই গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। সর্বশেষ গ্রেফতার চারজনকেও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, ‘ডাকাতির ঘটনার পরপরই আমরা একাধিক টিমে বিভক্ত হয়ে ডাকাতদের গ্রেফতারে অভিযান চালাই। দীর্ঘ অনুসন্ধান ও প্রযুক্তির সহায়তায় আন্তঃজেলা এই চক্রের চারজনকে আটক করে তাদের হেফাজত থেকে বিপুল পরিমাণ লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করেছি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চক্রের আরও সদস্যদের নাম পাওয়া গেছে, তাদেরও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’