Saturday, April 4, 2026
Home Blog

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি নারীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ১

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট মায়ার্সে নিলুফার ইয়াসমিন (৪২) নামে বাংলাদেশি এক নারী দোকানকর্মীকে নৃশংসভাবে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত ইয়াসমিন লক্ষ্মীপুর জেলার কুশাখালী ইউনিয়নের গোরারবাগ গ্রামের বাসিন্দা।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের বাসিন্দা শাহিদুল ইসলাম ও নিহত ইয়াসমিনের ভাই কুশাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন মানিক এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। ইয়াসমিনের মৃত্যু প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল ৭টা ১৪ মিনিটে ফোর্ট মায়ার্সের একটি কনভিনিয়েন্স স্টোরের সামনে ইয়াসমিনের ওপর হামলা চালানো হয়। খবর পেয়ে ফোর্ট মায়ার্স ফায়ার ডিপার্টমেন্ট ও লি কাউন্টি ইএমএস গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে। পরে সকাল ৭টা ২৭ মিনিটে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ রোবার্ট জোয়াসিন (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এক ব্যক্তি দোকানের সামনে পার্ক করা একটি গাড়ির কাঁচ ভাঙচুর করেন। এরপর ইয়াসমিন বের হলে তিনি তার ঘাড়ে আঘাত করেন। ইয়াসমিন মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং হামলাকারী তার মাথায় একাধিক আঘাত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

ফোর্ট মায়ার্স পুলিশের বরাত দিয়ে শাহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ কে-৯ ইউনিট ও শেরিফের এভিয়েশন ইউনিট নিয়ে অভিযান চালায়। নিরাপত্তার স্বার্থে আশপাশের তিনটি স্কুল সাময়িকভাবে লকডাউন করা হয়। প্রথমে সন্দেহভাজন পালিয়ে গেলেও পরে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অভিযুক্ত পূর্বের একটি অমীমাংসিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িত থাকতে পারেন।

নিলুফার ইয়াসমিন স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর দুই মেয়েকে নিয়ে ফোর্ট মায়ার্সে থাকছিলেন। মাস ছয়েক আগে তিনি দোকানটিতে কাজে যোগ দেন। দোকান মালিক আরিফ বলেন, ভোরে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে ফজরের নামাজ পড়ছিলেন নিলুফার। তখন হামলাকারী দোকানের পার্কে থাকা একটি জিপের কাঁচ হাতুড়ি দিয়ে ভাঙা শুরু করেন। ইয়াসমিন বাইরে এসে হামলাকারীর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে তাকে ঘাড়ে ও মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়।

আরিফ আরও বলেন, ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে দোকান ভাড়া দিচ্ছি, আগে কখনো এমন নৃশংস ঘটনা ঘটেনি। এলাকার শান্তিপ্রিয় পরিবেশের মধ্যে ইয়াসমিনের হত্যাকাণ্ডে স্থানীয়রা হতবাক।

সিলেটের জকিগঞ্জে স্কুলে যাওয়ার পথে নিখোঁজ, খালে মিললো ব্যাগ

সিলেটের জকিগঞ্জে স্কুলে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হওয়া ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র জায়ান আরাফাতের কোনো সন্ধান এখনো মেলেনি। তবে নিখোঁজের দুই দিন পর বৃহস্পতিবার একটি খাল থেকে তার স্কুল ব্যাগ, বই ও ড্রেস উদ্ধার হওয়ায় ঘটনাটি ঘিরে রহস্যর সৃষ্টি হয়েছে।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জকিগঞ্জ সদর ইউনিয়নের রহিমখাঁরচক গ্রামের বাসিন্দা জসিম উদ্দিনের ছেলে জায়ান আরাফাত (১৩) গত মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে বাড়ি থেকে স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়। সে জকিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়-এর ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। কিন্তু প্রতিদিনের মতো সেদিন আর স্কুল শেষে বাড়ি ফেরেনি সে। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হলেও ছেলের কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না মেলায় নিখোঁজের ঘটনায় বাবা জসিম উদ্দিন জকিগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা জকিগঞ্জ-সিলেট সড়কের ছবড়িয়া এলাকার একটি খালে একটি স্কুল ব্যাগ ভাসতে দেখে সন্দেহ করেন। পরে ব্যাগটি উদ্ধার করে ভেতরে থাকা বই ও স্কুল ড্রেস দেখে বিষয়টি জানানো হয় পরিবারের সদস্যদের। ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা নিশ্চিত করেন, এটি নিখোঁজ জায়ান আরাফাতের ব্যাগ। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যাগ, বই ও ড্রেস উদ্ধার করে।

নিখোঁজের বিষয়ে জায়ানের চাচা ও সাবেক ইউপি সদস্য ফাহিম আহমেদ জানান, বিভিন্ন সূত্রে তারা জানতে পেরেছেন, জায়ান প্রতিদিন যে পথে স্কুলে যাতায়াত করত, ঘটনার দিন মঙ্গলবার সে সেই পথে যায়নি। বরং তাকে ভরন এলাকা হয়ে সাজ্জাদ মজুমদার স্কুল সংলগ্ন এলাকায় ওই স্কুলের শিক্ষার্থীরা দেখেছেন বলে জানা গেছে। তবে সে তখন একাই ছিল, সঙ্গে কেউ ছিলো না। এছাড়া ওইদিন জায়ান তার স্কুলেও উপস্থিত ছিল না বলে জানা গেছে।

তিনি আরও জানান, আশপাশের উপজেলা জকিগঞ্জ, বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে এবং আত্মীয়স্বজনদের মাধ্যমে খোঁজ চালানো হচ্ছে, কিন্তু এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জকিগঞ্জ থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক অরূপ সাগর গুপ্ত কমল জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে একটি খাল থেকে জায়ানের স্কুল ব্যাগ, বই ও ড্রেস উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

তিনি সিলেটভিউকে বলেন, জায়ান আরাফাত মোবাইল ফোন ব্যবহার করত না, তাই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তেমন কোনো অগ্রগতি পাওয়া যাচ্ছে না। এটি স্কুল ফাঁকি দেওয়ার ঘটনা, নাকি অন্য কিছু—সব দিক বিবেচনায় তদন্ত চলছে।

তিনি বলেন, জায়ান গত বছরে জকিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় সব বিষয়ে ফেল করেছে।

সিলেটে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা সত্ত্বেও বন্ধ সব পেট্রোল পাম্প

ধর্মঘট আহ্বানের কয়েক ঘন্টা পর প্রত্যাহারের ঘষেণা দিলেও সিলেটে এখন পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে সব পেট্রোল পাম্পের কার্যক্রম। বিক্রি হচ্ছে না রেকান ধরণের জ্বালানী তেল ও গ্যাস। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন চালক ও যাত্রীরা।

বৃহস্পতিবার সকালে সিলেটের সব পেট্রোল পাম্পে তেল গ্যাস বিক্রি বন্ধ থাকতে দেভা যায়।

এরআগে পাম্পে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা আদায়কে অযৌক্তিক দাবি করে বুধবার রাত ১০টার দিকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট আহ্বান করেন পেট্রোল পাম্প ও সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন মালিকরা।

তবে প্রশাসনের হয়রানি বন্ধের আশ্বাসে ভোররাত ৩ টার দিকে ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দেন সিলেট পেট্রোল পাম্প মালিক সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রিয়াসাদ আজিম আদনান। কিন্তু এমন আশ্বাস দিলেও ভোর থেকেই পাম্পগুলোতে তেল, গ্যাস বিক্রয় বন্ধ রয়েছে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আজ দুপুরে সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মালিক এসোসিয়েশনের এক সভা আহ্বান করা হয়েছে। সেই সভার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে পাম্পের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল হবে কি না।

ভোর থেকে পাম্প গুলোতে গিয়ে তেল, গ্যাস না পেয়ে হতাশ বাইকার ও চালকরা। তারা বলছেন,,বন্ধ ঘোষণার ব্যাপারে তারা জানেন না। দূরপাল্লায় যেতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে অনেকেরই। চাকুরিজীবীরাও চরম বিপাকে। তারা সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন৷

ফিলিং স্টেশন মালিকদের অভিযোগ, বুধবার বিকেলে আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে সিলেটের এক পাম্প মালিকের দু’টি পাম্পের একটিতে ট্যাগ কর্মকর্তা, র‍্যাবের ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ কর্তৃক হিসাব না রাখার ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অপরটিতে এক পাম্পের তেল আরেক পাম্পে নেওয়ার দায়ে জরিমানা করা হয়। এসময় মালিককে বিনা কারনে ৬ ঘন্টা পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে।

এছাড়াও ট্যাগ অফিসার বসানো, বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে অনবরত হিসাব নেওয়া, পাম্পে পুলিশ নিয়োগ, ছয়টি পাম্পে জরিমানা আদায়ের অভিযোগ করেন তারা।

ভোরে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস ডিস্ট্রিবিউশন অ্যাজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ব্যারিস্টার রিয়াসাদ আজিম আদনান জানান, ধর্মঘট চলাকালে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিলেটের পুলিশ কমিশনারের সাথে সংক্ষিপ্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে, আইন না বুঝে ফিলিং স্টেশনে হয়রানি করা হবেনা – এমন আশ্বাসের প্রেক্ষিতে আন্দোলন স্থগিত করেছেন তারা।

উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার সকালে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে পুনরায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে।

সিলেটগামী তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত, তেল লুট ঠেকাতে বিজিবি মোতায়েন

হবিগঞ্জের মাধবপুরে জ্বালানি তেলভর্তি ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ১৪ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়নি।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। লাইনচ্যুদ বগি উদ্ধারের কাজ চলছে।

এরআগে বুধবার রাত প্রায় ৯টার দিকে সিলেটগামী ট্রেনটি মাধবপুর উপজেলার মনতলা রেলওয়ে স্টেশনে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এসময় ট্র্রেনের অন্তত ৬টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে ছিটকে পড়ে। এতে বিপুল পরিমাণ তেল ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকা, সড়ক ও খালে।

দুর্ঘটনার পর থেকে উদ্ধার কাজে সহযোগিতা করছে সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি-৫৫) ও পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থা। তারা যৌথভাবে লাইনচ্যুত বগি সরানো এবং রেললাইন সচল করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

নোয়াপাড়া রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. মনির আহমেদ জানান, দুর্ঘটনার কারণে এখন পর্যন্ত তিনটি ট্রেনের সূচি বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকাগামী উপবন এক্সপ্রেস, চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস এবং সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস। যাত্রীদের টিকিট সংরক্ষণ করে ভাড়া ফেরত দেয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, উদ্ধার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে এবং রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।

এদিকে দীর্ঘ সময় রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকায় যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

মাধবপুর থানার ওসি সোহেল রানা জানান, এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার কারণে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

মনতলা স্টেশনের স্টেশন মাস্টার আতাউর রহমান গনি বলেন, রেলের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে এবং বিকেলের মধ্যে আংশিকভাবে লাইন চালুর চেষ্টা চলছে।

হবিগঞ্জ বিজিবির (৫৫ বিজিবি) কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজিলুর রহমান বলেন, তেলবাহী ট্রেনের লাইনচ্যুত হওয়া দুটি বগিকে ইতোমধ্যে ক্রেন দিয়ে সোজা করা হয়েছে। আরও দুটি বগিকে সোজা করার কাজ চলছে। আর একটি বগি পানিতে পড়ে আছে। সেটা উদ্ধার করতে সময় লাগবে।

তিনি আরও বলেন, রেল কর্তৃপক্ষ দ্রুত রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক করার জন্য কাজ করছে। রাত থেকেই ঘটনাস্থলেই বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে৷ বিজিবির সদস্যরা বেসামরিক প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরায় ঠিক না হওয়া পর্যন্ত বিজিবি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং উদ্ধার কাজে বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতা করবে।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজিলুর রহমান বলেন, ইতোমধ্যে বিজিবি বিপুল পরিমাণ তেল নিজস্ব জারিকেন ও ড্রামে করে উদ্ধার করে সংরক্ষণ করেছে৷

নিউ ইয়র্কে যে কারণে প্রাণ গেল সিলেটের তরুণীর

নিউইয়র্কের কুইন্সে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন বাংলাদেশি তরুণী নিশাত জান্নাত। রবিবার (২৯ মার্চ) উডসাইডে একটি গারবেজ ট্রাকের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। উনিশ বছর বয়সী নিশাত জ্যামাইকার একটি পার্কিং গ্যারেজে পার্ট-টাইম কাজ করতেন। ছোট বোনের জন্য কেক হাতে বাড়ি ফেরার পথে তার এই মর্মান্তিক মৃত্যু কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাদের বাড়ী সিলেটের গোলাপগঞ্জের ঢাকা দক্ষিণের রায়েরগড় এলাকায়।

নিহত নিশাতের বাবা হেলাল আহমেদ জানান ,নিশাতের জানাজার নামাজ স্থানীয় সময় মঙ্গলবার জোহরের নামাজের পর উডসাইডের বায়তুল জান্নাহ মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। পরে তাকে নিউজার্সির একটি মুসলিম কবরস্থানে দাফন করা হবে। তিনি সবার কাছে তার মেয়ের জন্য দোয়া কামনা করেন।

সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাতে উডসাইড এলাকার রুজভেল্ট অ্যাভিনিউ ও ৬২ স্ট্রিটের মোড়ে দুর্ঘটনা ঘটে। রাত তখন প্রায় ১২টায় কাজ শেষে ট্রেন থেকে নেমে ক্রসওয়াক দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন নিশাত। ঠিক সেই মুহূর্তে পশ্চিমমুখী একটি গারবেজ ট্রাক ডান দিকে মোড় নিতে গিয়ে তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করে ইমার্জেন্সি মেডিকেল সার্ভিস ।

নিহতের বাবা ইমাম হেলাল আহমেদ জানান, তিনি কুইন্সের উডসাইড এলাকার বায়তুল জান্নাহ মসজিদের ইমাম। তারা ২০১৭ সালে অভিবাসী ভিসায় সিলেট থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন।

কুলাউড়ায় খেলতে গিয়ে পানিতে ডুবে একই পরিবারের তিন শিশুর মৃত্যু

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া ক্ষেতের জমিতে খেলতে গিয়ে পানিতে ডুবে একই পরিবারের তিন শিশু মারা গেছে।

বুধবার দুপুরে উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের মধ্যে ফুটিকগুলি গ্রামে এ ঘটানা ঘটে। নিহত শিশুদের দুজন মাদ্রাসা ও একজন স্কুলের শিক্ষার্থী। তারা সবাই একই পরিবারের, সম্পর্কে চাচাতো ভাই বলে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জুনেদ আহমদ জুনুর জানান, বুধবার সকালে কালবৈশাখী ঝড় বৃষ্টি হলে স্থানীম ক্ষেতের জমি পানিতে টুইটুম্বর হয়ে যায়। ঝড়বৃষ্টি শেষে ওইদিন দুপুর দেড়টার টার দিকে কর্মধা ইউনিয়নের মধ্যে ফটিকগুলি গ্রামের শিপার আহমদের ছেলে জিসান আহমেদ (১২), আশিক আলীর ছেলে ইমাদ আহমেদ (৯) এবং শাহেব আলীর ছেলে লাবিব আহমেদ (৭) বাড়ির পাশে কৃষি জমির পানিতে খেলতে নামে।

তিনি জানান, খেলতে খেলতে সদ্য মাটি কেটে নিছু করা একটি জমিতে তারা নেমে পড়লে তিন শিশু শিক্ষার্থী পানিতে ডুবে যায়। এসময় এক পথচারী ঘটানাটি দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে শিশুদের উদ্ধার করে স্থানীয় রবির বাজারে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। এসময় চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মোল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। ময়নাতদন্তের জন্য বাড়ি থেকে লাশ গুলো উদ্ধার করে থানায় আনা হচ্ছে।

নিউইয়র্কে বোনের জন্য কেক কিনতে গিয়ে ট্রাকের ধাক্কায় সিলেটি তরুণীর মৃত্যু

নিউইয়র্কের কুইন্সে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন বাংলাদেশি তরুণী নিশাত জান্নাত। রবিবার (২৯ মার্চ) উডসাইডে একটি গারবেজ ট্রাকের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। উনিশ বছর বয়সী নিশাত জ্যামাইকার একটি পার্কিং গ্যারেজে পার্ট-টাইম কাজ করতেন। ছোট বোনের জন্য কেক হাতে বাড়ি ফেরার পথে তার এই মর্মান্তিক মৃত্যু কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাদের বাড়ী সিলেটের গোলাপগঞ্জের ঢাকা দক্ষিণের রায়েরগড় এলাকায়।

নিহত নিশাতের বাবা হেলাল আহমেদ জানান ,নিশাতের জানাজার নামাজ স্থানীয় সময় মঙ্গলবার জোহরের নামাজের পর উডসাইডের বায়তুল জান্নাহ মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। পরে তাকে নিউজার্সির একটি মুসলিম কবরস্থানে দাফন করা হবে। তিনি সবার কাছে তার মেয়ের জন্য দোয়া কামনা করেন।

সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাতে উডসাইড এলাকার রুজভেল্ট অ্যাভিনিউ ও ৬২ স্ট্রিটের মোড়ে দুর্ঘটনা ঘটে। রাত তখন প্রায় ১২টায় কাজ শেষে ট্রেন থেকে নেমে ক্রসওয়াক দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন নিশাত। ঠিক সেই মুহূর্তে পশ্চিমমুখী একটি গারবেজ ট্রাক ডান দিকে মোড় নিতে গিয়ে তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করে ইমার্জেন্সি মেডিকেল সার্ভিস ।

নিহতের বাবা ইমাম হেলাল আহমেদ জানান, তিনি কুইন্সের উডসাইড এলাকার বায়তুল জান্নাহ মসজিদের ইমাম। তারা ২০১৭ সালে অভিবাসী ভিসায় সিলেট থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন।

সিলেটেও ‘হাম’ আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা, শামসুদ্দিন হাসপাতালে আইসোলেশন ইউনিট চালু

দেশে হঠাৎ করেই শিশুদের মধ্যে ছোঁয়াছে রোগ হাম-এর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারাও গেছে কয়েকজনও। সিলেটেও হাম-এ আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। হাম আক্রান্ত ও সন্দেহভাজন শিশুদের চিকিৎসায় সিলেট শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চালু করা হয়েছে আলাদা আইসোলেশন ইউনিট।

সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৩০ মার্চ) পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হামের সন্দেহভাজন হিসেবে ৩০ শিশুকে সনাক্ত করা হয়েছে। তাদের হাম পরীক্ষার জন্য রক্তের নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এরমধ্যে সোমবার ১৬ জন শিশু শহীদ শমিসুদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি আছে।

এছাড়া ঈদের আগে নমুনা পরীক্ষায় চার শিশুর হাম শনাক্ত হয়। তবে তারা অনেকটাই সুস্থ হয়ে ওঠেছে।

এসব তথ্য জানিয়ে সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম আহমদ সিলেটটুডেকে বলেন, যাদের সেম্পল ঢাকায় পাঠানো হয়েছে তাদের জ্বর, পাতলা পায়খানা, শরীরে রেশ ওঠাসহ নানা উপসর্গ রয়েছে।

তিনি বলেন, ঢাকা থেকে রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট আসতে ৪/৫ দিন সময় লাগে। তারপর নিশ্চিত হওয়া যাবে তারা হাম আক্রান্ত কী না।

তিনি বলেন, রোববার পর্যন্ত হাম সন্দেহভাজন ২০ জন হাসপাতালে ভর্তি ছিলো। তবে সোমবার ৪ জন সুস্থ হয়ে চলে গেছে। তাছাড়া সন্দেহভাজন শিশেদের ভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়িছিলো। আমরা তাদের শামসুদ্দিন হাসপাতালে নিয়ে আসছি। কারণ হাম যেহেতু ছোঁয়াছে রোগ। তাই অন্য শিশুদের মধ্যেও তা ছড়িয়ে যেতে পারে।

হাম রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে একটি আইসোলেশন সেন্টার খোলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) এটি চালু করা হয়।

শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মিজানুর রহমান বলেন, চিকিৎসাধীন ১৬ জনের মধ্যে ১৪জন শিশু ও দুইজন ১৮ বছরের উপরে। চিকিৎসাধীন সকলের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে দুই শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক রয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে ঈদের আগে নমুনা পরীক্ষায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলায় এ পর্যন্ত চারজনের হাম শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় একজন, বাহুবলে একজন, মাধবপুরে একজন এবং সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় একজন রয়েছেন।

সিলেটে আবাসিক হোটেল থেকে ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

সিলেট নগরীর একটি আবাসিক হোটেল থেকে এক ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার বিকেলে এসএমপির কোতোয়ালী থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে।

ব্যবসায়ীর নাম মোফাজ্জল হক সৌরভ (৩২)। তিনি নগরীর লামাবাজারের তন্বী কিচেন নামক একটি রেস্টুরেন্টের মালিক। তার বাড়ি হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ থানার কসবা গ্রামে।

জানা যায়, সৌরভ ধোপাদিঘীর উত্তরপাড়ের রিল্যাক্স ইন নামের একটি আবাসিক হোটেলের পঞ্চম তলার একটি কক্ষে থাকতেন। হোটেলের কর্মচারীরা বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে খবর দিলে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে তার লাশ উদ্ধার করে।

সোমবার বিকেলে এর সত্যতা নিশ্চিত করে এসএমপির কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খান মুহাম্মদ মাঈনুল জাকির বলেন, উদ্ধারের পর লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের মা-স্ত্রী ও আত্মীয় স্বজন পোস্টমর্টেম ছাড়াই লাশ দাফন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবরে আবেদন করেছেন। কর্তৃপক্ষ আবেদন মঞ্জুর করলে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্থান্তর করা হবে।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ওই যুবক দরজা বন্ধ করে ভিডিও রেকর্ড করে আত্মহত্যা করেন। পুলিশ দরজা ভেঙে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে।

ইউরোপে যাওয়ার পথে অনাহারে ভূমধ্যসাগরে প্রাণ গেল সিলেটি যুবক ফাহিমের

লিবিয়া থেকে নৌকাযোগে ইতালিতে পাড়ি দিতে কয়েক দিন বোটে থাকেন ভূমধ্যসাগরে। সেখানে টানা কয়েক দিনের অনাহার আর তীব্র বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভূমধ্যসাগরে প্রাণ ঝরে গেল দোয়ারাবাজারের যুবক ফাহিম আহমদ মুন্নার (২০)।

শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে মুন্নার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই তার গ্রামের বাড়িতে শুরু হয়েছে শোকের মাতম। মৃতের আত্মীয়স্বজনসহ উপজেলাজুড়ে সৃষ্টি হয় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি।

মৃত মুন্না উপজেলার বোগলাবাজার ইউনিয়নের কবিরনগর গ্রামের ফয়েজ উদ্দিন ও হেলেনা বেগমের পুত্র।

জানা গেছে, স্থানীয় দালাল চক্রের মাধ্যমে গত রমজান মাসের প্রথমদিকে লিবিয়া যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে রওনা করেন মুন্না। প্রথমে সৌদি আরব গিয়ে পবিত্র ওমরাহ্ হজ পালন শেষে লিবিয়া পৌঁছান তিনি। পরে লিবিয়া থেকে ইতালি যেতে ভূমধ্যসাগরে দীর্ঘপথ পাড়ি দিচ্ছিলেন ফাহিমসহ তার অনেক সহযাত্রী। এ সময় তাদের পরিবারের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। যাত্রাপথে টানা কয়েক দিনে তীব্র বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দেয়। সেই সঙ্গে অনাহারে মারা যান মুন্না।

পরে তাদের বেঁচে থাকা এক সহযাত্রীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও বক্তব্যের বর্ণনামতে মুন্নার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার শোকাহত পরিবার। এমনকি মৃত্যুর দুই দিন পরও লাশ নৌকায় ছিল বলে জানা যায়। পরে লাশ পচে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে মরদেহগুলো সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।

রোববার (২৯ মার্চ) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ সরকারের প্রতি মৃত ফাহিম আহমদ মুন্নার লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানান চাচা তাইজ উদ্দিন আহমদ।