দেশে হঠাৎ করেই শিশুদের মধ্যে ছোঁয়াছে রোগ হাম-এর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারাও গেছে কয়েকজনও। সিলেটেও হাম-এ আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। হাম আক্রান্ত ও সন্দেহভাজন শিশুদের চিকিৎসায় সিলেট শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চালু করা হয়েছে আলাদা আইসোলেশন ইউনিট।
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৩০ মার্চ) পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হামের সন্দেহভাজন হিসেবে ৩০ শিশুকে সনাক্ত করা হয়েছে। তাদের হাম পরীক্ষার জন্য রক্তের নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এরমধ্যে সোমবার ১৬ জন শিশু শহীদ শমিসুদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি আছে।
এছাড়া ঈদের আগে নমুনা পরীক্ষায় চার শিশুর হাম শনাক্ত হয়। তবে তারা অনেকটাই সুস্থ হয়ে ওঠেছে।
এসব তথ্য জানিয়ে সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম আহমদ সিলেটটুডেকে বলেন, যাদের সেম্পল ঢাকায় পাঠানো হয়েছে তাদের জ্বর, পাতলা পায়খানা, শরীরে রেশ ওঠাসহ নানা উপসর্গ রয়েছে।
তিনি বলেন, ঢাকা থেকে রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট আসতে ৪/৫ দিন সময় লাগে। তারপর নিশ্চিত হওয়া যাবে তারা হাম আক্রান্ত কী না।
তিনি বলেন, রোববার পর্যন্ত হাম সন্দেহভাজন ২০ জন হাসপাতালে ভর্তি ছিলো। তবে সোমবার ৪ জন সুস্থ হয়ে চলে গেছে। তাছাড়া সন্দেহভাজন শিশেদের ভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়িছিলো। আমরা তাদের শামসুদ্দিন হাসপাতালে নিয়ে আসছি। কারণ হাম যেহেতু ছোঁয়াছে রোগ। তাই অন্য শিশুদের মধ্যেও তা ছড়িয়ে যেতে পারে।
হাম রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে একটি আইসোলেশন সেন্টার খোলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) এটি চালু করা হয়।
শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মিজানুর রহমান বলেন, চিকিৎসাধীন ১৬ জনের মধ্যে ১৪জন শিশু ও দুইজন ১৮ বছরের উপরে। চিকিৎসাধীন সকলের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে দুই শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক রয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে ঈদের আগে নমুনা পরীক্ষায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলায় এ পর্যন্ত চারজনের হাম শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় একজন, বাহুবলে একজন, মাধবপুরে একজন এবং সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় একজন রয়েছেন।



