সিলেটে র্যাব সদস্য ইমন আচার্য হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার আসাদুল আলম বাপ্পি (২২) কিশোর বয়সেই জড়িয়ে পড়েন নানা অপরাধে। তিনি স্থানীয় এক বিএনপি নেতার ছেলে।
এ দিকে, শনিবার সিলেটের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ইমন আচার্যকে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন বাপ্পী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাপ্পি নগরের কাজিরবাজার মোগলটুলা এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে। আবুল হোসেন ১৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। বাপ্পির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এর আগেও বেশ কয়েকবার জেল খেটেছেন বাপ্পি।
কিশোর ও তরুণদের নিয়ে নিজ এলাকাসহ কিন ব্রিজ এলাকায় একটি কিশোর গ্যাং গড়ে তুলেন বাপ্পি অতীতে ছিনতাইসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পর সম্প্রতি জড়িয়ে পড়েন মাদক কারবারে। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে দ্রুত বিচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা হয়েছে চারটি। জেলও খেটেছেন একবার।
গত শুক্রবার র্যাব সদস্য ইমন আচার্য্যকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার বাপ্পীর সম্পর্কে এমন তথ্য পাওয়া গেছে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে।
জানা গেছে, আসাদুল আলম বাপ্পি ২০২৪ এর ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে সে পিতার দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় ছিনতাই, মাদক ব্যবসাসহ নানা অপকর্ম করে আসছিলো। তার বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় ধর্ষণ, ছিনতাই ও মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে বাপ্পির বাবা আবুল হোসেনের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
তবে সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, বাপ্পি বিএনপি নেতা আবুল হোসেনের ছেলে, এটি সত্য। তবে দীর্ঘদিন ধরে তার সঙ্গে পিতার কোনো সম্পর্ক নেই। এর আগেও দুবার তার বাবা তাকে পুলিশে দিয়েছেন। অতিষ্ট হয়ে অপকর্মের কারণে পিতা তাকে মৌখিকভাবে ত্যাজ্য করেছেন বলে তার পিতা আমাকে জানিয়েছেন। তার পিতা আমাকে বলেছেন তাদের মধ্যে কোন সম্পর্ক নেই।
এমদাদ হোসেন চৌধুরী আরও বলেন, বাপ্পি একজন অপরাধী। সে যে নেতার ছেলেই হোক না কেন, তার অপরাধের জন্য তাকে শাস্তি পেতে হবে। বিএনপি ছিনতাই ও মাদকের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতিতে রয়েছে। তাই এমন ঘটনায় জড়িত যে কেউ আইনের আওতায় আসবে এবং শাস্তির মুখোমুখি হবে। এ ঘটনায় পিতার রাজনৈতিক বা দলীয় পরিচয় টেনে আনা সঠিক নয়। অপরাধীকে তার ব্যক্তিগত অপরাধের জন্যই দায়ী করা উচিত।
এদিকে খুনের অভিযোগে আসাদউল বাপ্পীকে একমাত্র আসামি করে শনিবার মহানগরীর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন নিহত ইমন আচার্য্যের ভাই সুজিত আচার্য্য। সেই মামলায় তাকে আদালতের মাধ্যমে বিকেলে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা সুলতানার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবনবন্দি দেন বাপ্পী। আদালতে তিনি দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন কতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির।
তিনি বলেন, বাপ্পির বিরুদ্ধে, দ্রুত বিচার, নারী নির্যাতনসহ বাপ্পীর বিরুদ্ধে চারটি মামলা রয়েছে। মাদকের কোনো মামলা নেই। সে কাজিরবাজার ও কিন ব্রিজ এলাকার বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। তাকে হত্যা মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
নিহত র্যাব-৯ সদস্য কনস্টেবল ইমন আচার্য চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানার পশ্চিম দলই গ্রামের রণধীর আচার্যের ছেলে। তিনি ২০২৪ সালে র্যাবে যোগ দেন। গত বছর থেকে তিনি র্যাব-৯-এ কর্তব্যরত ছিলেন।
শুক্রবার দুপুরে নগরীর কিন ব্রিজ এলাকায় থানা পুলিশ মাদকসেবী ও কারবারিদের আটকের চেষ্টা করলে তারা দৌড়ে পালায়। থানার পাশে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে র্যাব সদস্য ইমন আচার্য পালানোর সময় আসাদউল বাপ্পিকে ধরার চেষ্টা করেন। বাপ্পি তার হাতে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে ইমন আচার্য্যের বুকের বাঁ পাশে আঘাত করে। দেড় ঘণ্টা পর তিনি হাসপাতালে মারা যান।
এ ব্যাপারে রোববার কাজিরবাজার পশুর হাট পরিদর্শনে গিয়ে র্যাব-৯ এর অধিনায়ক তাজমিনুর রহমান চৌধুরী বলেন, দ্রুততম সময়ে বাপ্পির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।



