ফের প্রকাশ্যে গণনা হবে সিলেট শাহজালাল মাজারের দানবাক্সের টাকা

ফের প্রকাশ্যে গণনা হবে সিলেট শাহজালাল মাজারের দানবাক্সের টাকা

ফের প্রকাশ্যে গণনা করা হবে হযরত শাহজালার (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা। মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনা র্নিারণে গঠি ত কমিটির ব্যবস্থাপনায় এবার দানের টাকা গণনা করা হবে।

এমনটি জানিয়েছেন এই কমিটির সদস্য, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। তিনি জানান, আগামী শনিবার (১২ জু) মাজারের টাকা প্রকাশ্যে গণনা করা হবে।

ফলে প্রথমবার গণনার ১৯ দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে গণনা করা হবে এই মাজারের টাকা।

কয়েস লোদী জানান, শনিবার দুপুর ১২টায় মাজার প্রাঙ্গণের উন্মুক্ত স্থানে এই গণনা কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। এ নিয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল ৪টায় একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান তিনি।

এর আগে গত ১২ জুন সিলেটের সাবেক জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.) এর মাজার পরিদর্শনে যান। এ সময় তিনি মাজারের আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেন। এরই অংশ হিসেবে গত ১৮ জুন বিকালে মাজারে নতুন চারটি দানবাক্স স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি মাজারে মানুষের দানের অর্থ রাখার জন্য থাকা ঐতিহাসিক তিনটি দানের ডেক ও একটি দানবাক্স সিলগালা করা হয়।
এরপর গত ২২ জুন ৭শ বছরের প্রথা ভেঙে মাজারের ঐতিহাসিক ডেক ও দানবাক্স খোলা হয়েছিল। সেদিন গণনা শেষে মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়, যা সোনালি ব্যাংকের একটি নতুন অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হয়।

এদিকে, এ ঘটনার পর জেলা প্রশাসকের পক্ষে-বিপক্ষে বিস্তর আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়। কেউ জেলা প্রশাসকের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে অভিহিত করেন। আবার প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় দানবাক্স স্থাপনের বিষয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ রকম আলোচনা-সমালোচনা চলাকালেই সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে নেয় সরকার। যদিও সরকারের একাধিক মন্ত্রী জেলা প্রশাসক বদলির ঘটনাকে ‘রুটিন ওয়ার্ক’ বলে মন্তব্য করেছেন।

এরপর গত ২৬ জুন মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ১১ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। কমিটিকে এক মাসের মধ্যে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য আধুনিক ও কার্যকর কাঠামোর সুপারিশ প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে প্রধান করে গঠিত কমিটির অপর সদস্যরা হলেন- সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রশাসক রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের শামীম, সিলেটের ডিআইজি, মহানগর পুলিশ কমিশনার, মাজারের মতোয়াল্লি পরিবারের দুই সদস্য, মাজার মাদ্রাসা ও মসজিদের দুই প্রতিনিধি। এই কমিটির সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন জেলা প্রশাসক।

মাজারের ব্যবস্থাপনা নিয়ে সৃষ্ট আলোচনা ও সমালোচনার মধ্যে জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহারের পর এবার নতুন গঠিত কমিটির তত্ত্বাবধানে ফের এই গণনা ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালিত হতে যাচ্ছে। এবারের গণনাকৃত অর্থও জেলা প্রশাসকের সোনালী ব্যাংকের সেই নির্ধারিত অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হবে।