লিবিয়া থেকে নৌকাযোগে ইতালিতে পাড়ি দিতে কয়েক দিন বোটে থাকেন ভূমধ্যসাগরে। সেখানে টানা কয়েক দিনের অনাহার আর তীব্র বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভূমধ্যসাগরে প্রাণ ঝরে গেল দোয়ারাবাজারের যুবক ফাহিম আহমদ মুন্নার (২০)।
শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে মুন্নার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই তার গ্রামের বাড়িতে শুরু হয়েছে শোকের মাতম। মৃতের আত্মীয়স্বজনসহ উপজেলাজুড়ে সৃষ্টি হয় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি।
মৃত মুন্না উপজেলার বোগলাবাজার ইউনিয়নের কবিরনগর গ্রামের ফয়েজ উদ্দিন ও হেলেনা বেগমের পুত্র।
জানা গেছে, স্থানীয় দালাল চক্রের মাধ্যমে গত রমজান মাসের প্রথমদিকে লিবিয়া যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে রওনা করেন মুন্না। প্রথমে সৌদি আরব গিয়ে পবিত্র ওমরাহ্ হজ পালন শেষে লিবিয়া পৌঁছান তিনি। পরে লিবিয়া থেকে ইতালি যেতে ভূমধ্যসাগরে দীর্ঘপথ পাড়ি দিচ্ছিলেন ফাহিমসহ তার অনেক সহযাত্রী। এ সময় তাদের পরিবারের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। যাত্রাপথে টানা কয়েক দিনে তীব্র বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দেয়। সেই সঙ্গে অনাহারে মারা যান মুন্না।
পরে তাদের বেঁচে থাকা এক সহযাত্রীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও বক্তব্যের বর্ণনামতে মুন্নার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার শোকাহত পরিবার। এমনকি মৃত্যুর দুই দিন পরও লাশ নৌকায় ছিল বলে জানা যায়। পরে লাশ পচে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে মরদেহগুলো সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।
রোববার (২৯ মার্চ) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ সরকারের প্রতি মৃত ফাহিম আহমদ মুন্নার লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানান চাচা তাইজ উদ্দিন আহমদ।



