Friday, April 10, 2026
Home Blog Page 51

বাংলাদেশ বিমানে বোমা আতঙ্ক, ফ্লাইট ছাড়ার আগে আসে অচেনা ফোনকল

বোমা আতঙ্ক শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। যার জেরে সাময়িক স্থগিত হয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-কাঠমান্ডু ফ্লাইট। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফ্লাইটটি ছাড়ার আগমুহূর্তে অচেনা নাম্বার থেকে ফোন করে জানানো হয়, বিমানে বোমা রয়েছে।

শুক্রবার (১১ জুলাই) বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে বিজি-৩৭৩ ফ্লাইটটি ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। উড়োজাহাজটির বৈমানিক ছিলেন ক্যাপ্টেন আবদুর রহমান। তবে ফ্লাইট ছাড়ার আগে অজ্ঞাতনামা একটি সূত্র থেকে বোমা থাকার হুমকি আসে। এরপরই বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ সতর্কতায় নেওয়া হয়।

এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) এ বি এম রওশন কবীর।

তিনি গণমাধ্যমকে জানান, একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোনকলের মাধ্যমে জানানো হয়, বিমানের ফ্লাইটে বোমা রয়েছে। সে সময় ফ্লাইটটি উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সবাইকে বিমান থেকে নামিয়ে আনা হয়। বিষয়টি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।’

জানা যায়, অচেনা নাম্বার থেকেই ফোনকলটি আসার পরই শাহজালাল বিমানবন্দরের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিমানে তল্লাশি শুরু করে। যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও কারও কোনো ক্ষতি হয়নি। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট স্থগিত রাখা হয়েছে।

বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের মুখপাত্র স্কোয়াড্রন লিডার মো. মাহমুদুল হাসান মাসুম জানান, উড়োজাহাজ থেকে সব যাত্রীকে নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে। এখন বোম্ব ডিসপোজাল টিম তল্লাশি চালাচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ইউনিট, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অন্যান্য সংস্থাও কাজ করছে।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, এটি একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট হওয়ায় বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। কারা কী উদ্দেশে এই হুমকি দিয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

নিউইয়র্ক পুলিশের সার্জেন্ট হলেন বিয়ানীবাজারের মারুফ

বিশ্বের অন্যতম সেরা পুলিশ বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ (এনওয়াইপিডি) বিভাগে সার্জেন্ট হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন বাংলাদেশি মারুফ উদ্দিন। সম্প্রতি পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের তালিকায় থাকা পাঁচ বাংলাদেশির মধ্যে তিনিও সার্জেন্ট পদে পদোন্নতি পেয়েছেন।

গত শুক্রবার (২৭ জুন) সকালে নিউইয়র্ক পুলিশ হেডকোয়ার্টারে জমকালো অনুষ্ঠানে মারুফ উদ্দিনসহ পদোন্নতিপ্রাপ্ত সকলের হাতে পদোন্নতির সার্টিফিকেট তুলে দেন এনওয়াইপিডি কমিশনার জেসিকা টিশ।

পদোন্নতিপ্রাপ্ত পাঁচ বাংলাদেশির মধ্যে সার্জেন্ট পদে মোশারফ ভূঁইয়া ও মারুফ উদ্দিন এবং এমডি এস হোসেন, মোহাম্মদ ই তানিম এবং মোহাম্মদ ইসলাম ট্রাফিক পুলিশে বিভিন্ন পদে পদোন্নতি পেয়েছেন।

পদোন্নতি পাওয়া মারুফ উদ্দিনের বাড়ি সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলার অন্তর্গত কুড়ারবাজার ইউনিয়নের দেউলগ্রাম পূর্বমহল্লায়। তিনি ওই এলাকার যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ছমির উদ্দিন ও ছয়দুন নেহার দম্পতির ছেলে। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মারুফ উদ্দিনের জন্ম ও পড়াশোনা যুক্তরাষ্ট্রে। চার ভাই-বোনের মধ্যে মারুফ দ্বিতীয়।

মারুফ উদ্দিনের চাচা সমাজসেবক শামীম আহমদ জানান, নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ (এনওয়াইপিডি) বিভাগে সার্জেন্ট হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে মারুফ উদ্দিন দেশ তথা নিউইয়র্কের বাঙালি কমিউনিটিতে বাংলাদেশিদের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। তার এ অর্জনে আমরা গৌরবান্বিত। পেশাগত দক্ষতা দিয়ে তিনি তার কাজে সফলতার স্বাক্ষর রাখবেন বলে প্রত্যাশা করছি।

এদিকে মারুফ উদ্দিন তার এই সাফল্যের পেছনে মা-বাবা, স্ত্রী-সন্তান, ভাই-বোনসহ পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ভূমিকাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। তাছাড়া তার পদোন্নতিতে বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন অভিনন্দন জানিয়েছে। এই অর্জন বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিটি সদস্যকে উচ্ছ্বসিত করেছে এবং তার সাফল্য পরবর্তী প্রজন্মের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে জানিয়েছেন তারা।

সন্ধ্যায় নিখোঁজ, সকালে গাছের সাথে বাঁধা মিললো কলেজছাত্র হৃদয়ের লাশ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার কাকিয়াছড়া চা-বাগান থেকে এক কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (০৭ জুলাই) সকালের দিকে চা বাগানের একটি গাছের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় এক যুবকের লাশ দেখতে পেয়ে থানা পুলিশে খবর দেয় বাগান শ্রমিকরা। খবর পেয়ে ফিনলে কোম্পানির কাকিয়াছড়া চা-বাগানের ১নং সেকশন থেকে গাছের সঙ্গে বেল্ট দিয়ে বাঁধা অবস্থায় হৃদয় আহমেদ ইয়াছিন (১৯) নামে এক কলেজ পড়ুয়া ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ।

নিহত হৃদয় উপজেলার সদর ইউনিয়নের শাহীবাগ এলাকার লিটন মিয়ার ছেলে। সে কমলগঞ্জ গণমহাবিদ্যালয়ে ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিল।

শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার সন্ধ্যা থেকে খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না হৃদয়ের। সোমবার সকালের দিকে বাগান শ্রমিকরা কাজে গেলে গাছের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় মরদেহ দেখতে পায়। পরে আতঙ্কিত হয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় বাগানের শ্রমিকরা জানান, বেশ কয়েক বছর থেকেই মাঝে মাঝে চা বাগানে লাশ পাওয়া যায়। বাগানে বড় সীমানা প্রাচীর না থাকায় যে কেউ বাগানে ঢুকতে পারে। আর এ সুযোগেই এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করেন তারা।

নিহত হৃদয় আহমেদ এর আম্মা হাসিনা বেগম জানান, তাদের পরিবারের একমাত্র সন্তান হৃদয় আহমেদ। এই ঘটনা তিনি মেনে নিতে পারছেন না। দেশের মানুষ ও প্রশাসনের কাছে তিনি ছেলের জন্য ন্যায় বিচার প্রার্থনা করেন।

শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘চা বাগানে মরদেহের খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করি। এ ঘটনার আলামত সংগ্রহের জন্য আরও কাজ করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ওই ব্যক্তিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হতে পারে।’

সিলেটে পরিবহন ধর্মঘটে যানশূণ্য সড়ক, ভোগান্তিতে মানুষ

সিলেটের জেলা প্রশাসকের অপসারণ, সকল পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়া ও শ্রমিক হয়রানি বন্ধের দাবিতে সিলেটে শুরু হয়েছে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট। সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকে মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে এ ধর্মঘট শুরু হয়েছে। ধর্মঘটের কারণে সিলেটের সকল সড়ক যানশূণ্য হয়ে পড়েছে।

ধর্মঘটের কারণে মঙ্গলবার সকাল থেকে সিলেটের কদমতলী ও কুমারগাঁও টার্মিনাল থেকে কোন বাস ছেড়ে যায়নি। অনেক যাত্রী টার্মিনালে গিয়ে ভিড় করেন বাস কাউন্টারগুলোতে। কিন্তু বাস না পেয়ে হতাশ হয়ে তারা ফিরে আসেন। কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারাও যাত্রীদেরকে জানাতে পারেননি কবে ধর্মঘট প্রত্যাহার হবে। তবে শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন তাদের ৬ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা ধর্মঘট চালিয়ে যাবেন।

এদিকে, যাত্রীরা বাস না পেয়ে জরুরি কাজে অনেকে কার-মাইক্রোবাস ও সিএনজি অটোরিকশা রিজার্ভ করে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছুটেছেন। তবে অন্য দিনের তুলনায় মঙ্গলবার সিলেটে মাইক্রোবাস ও অটোরিকশা চলাচল ছিল কম। যেসব অটোরিকশা চলাচল করেছে সেগুলোও ভাড়া চেয়েছে দ্বিগুণ।

নগরীর হুমায়ূন রশিদ চত্বরে কথা হয় আবদুল আলীম নামের এক যাত্রীর সাথে। আবদুল আলীম ওসমানীনগরের গোয়ালাবাজারে একটি ব্যাংকে চাকরি করেন। তিনি জানান, বাস না পেয়ে তিনি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে অফিসে যাচ্ছেন। সিলেটের রিয়েল এস্টेट

অনেক যাত্রী বাস না পেয়ে ভিড় করেন রেলস্টেশনে। কিন্তু টিকেট না পেয়ে তাদেরকেও ফিরতে হচ্ছে শূণ্য হাতে। রেলওয়ে স্টেশনে আনোয়ার হোসেন নামের এক যাত্রী জানান, জরুরি কাজে তাকে ঢাকায় যেতে হচ্ছে। বাস না পেয়ে রেলের টিকেট কাটতে এসেছিলেন। কিন্তু টিকেট পাননি।

পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- বাস মিনিবাসের ক্ষেত্রে ২০ বছর এবং ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ড ভ্যান ২৫ বছর, সিএনজি অটোরিকশা ও হিউম্যান হলারের ক্ষেত্রে ১৫ বছর ইকোনোমিক লাইফ নির্ধারণ প্রজ্ঞাপন বাতিল, সিলেটের সকল পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়া, বিআরটিএ কর্তৃক গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রদানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র বাতিল এবং গণ ও পণ্য পরিবহনের উপর আরোপিত বর্ধিত ট্যাক্স প্রত্যাহার, সিলেটের সকল ক্রাসার মিলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ বন্ধ, মিটার ফেরত ও ভাঙচুরকৃত মিলের ক্ষতিপূরণ এবং গাড়ি থেকে জব্দকৃত পাথর ও বালুর ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. শের মাহবুব মুরাদকে অবিলম্বে সিলেট থেকে প্রত্যাহার, সড়কে বালু ও পাথরবাহী গাড়িসহ সকল ধরণের পণ্যবাহী গাড়ির চালকদের হয়রানি বন্ধ করা।

এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে বারবার ত্রুটি, এবার জয়পুরে জরুরি অবতরণ

ভারতের এয়ার ইন্ডিয়ার আরেকটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট আবারও কারিগরি সমস্যার মুখে পড়েছে। সৌদি আরবের রিয়াদ থেকে দিল্লিগামী এআই৯২৬ ফ্লাইটটি মাঝপথে জয়পুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। সোমবার ভোররাতে এ ঘটনা ঘটে।

ফ্লাইটটি রিয়াদ থেকে বিকেল ৫টার কিছু পরে উড্ডয়ন করেছিল এবং রাত ১টার দিকে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে মাঝপথে কোনো এক কারিগরি ত্রুটির কারণে সেটি জয়পুরে অবতরণ করতে বাধ্য হয়। যদিও কী কারণে ফ্লাইটটি জয়পুরে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এর আগেও গত সপ্তাহে টোকিও থেকে দিল্লিগামী একটি এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইট কেবিনের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় কলকাতায় অবতরণ করে। ওই সময় সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিকল্প অবতরণ করা হয়েছে এবং বিমানে কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

আরও আগে, গত জুন মাসে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম থেকে দিল্লিগামী আরেকটি এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইট মাঝআকাশে বোমা হুমকির মুখে পড়ে রিয়াদে জরুরি অবতরণ করে। যদিও পরে তদন্তে জানা যায়, সেখানে কোনো বিস্ফোরক ছিল না এবং সব যাত্রী নিরাপদে ছিলেন।

বারবারের এই ঘটনার পর এয়ার ইন্ডিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ফ্লিট মেইনটেন্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

নিখোঁজ ৫০০ জন বিবাহিত নারী! নেপথ্যে কী?

একটি জেলার একজন নয় দুইজন নয় ৫০০ জন বিবাহিত নারী হঠাৎ করেই নিখোঁজ হয়। পুলিশও নেমে পড়ে রহস্য উদ্ঘাটনে। কিন্তু তদন্তে পুলিশ যা পেয়েছে রীতিমতো চক্ষু চড়কগাছ অবস্থা। এসব নারীদের পালিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো সোশ্যাল মিডিয়া। আরও স্পষ্ট করে বললে ফেসবুক আর টিকটক। এই মাধ্যমগুলোতেই পরকীয়ায় জরিয়েছিলেন তারা।

ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমায়। ভারতীয় পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত পাঁচ মাসে এই এলাকার ৫০০ জন বিবাহিত নারী নিখোঁজ হয়েছেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত, নিখোঁজ হওয়া মোট ৫৩৬ জন তরুণীর মধ্যে ৯০ শতাংশই বিবাহিত।

এভাবে হঠাৎ করেই বরাসাতের নারীরা নিখোঁজ হতে থাকায় সামাজিক মাধ্যমে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে। এমনকি এটাও জানা যায় যে নিখোঁজ হওয়া এসব নারীরা খুব ভালো এবং ‘স্থিতিশীল’ পরিবারের সন্তান। এসব নারীরা নিখোঁজ হয়েছে বললে কথাটি বোধহয় ভুল হবে। কারণ তারা স্বেচ্ছায় পালিয়ে গেছে স্বামী-সংসার আর কেউ কেউ সন্তান ফেলে।

ফেসবুক আর টিকটকে পরিচয় এরপর প্রেম। পরকীয়ার এই ধাঁধায় পড়েই সংসার ছেড়ে পালিয়েছেন বারাসাতের ৫০০ জনের বেশি বিবাহিত নারী এমনটিই বলছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশ। কেউ পালিয়েছেন বাইক থাকা যুবকের হাত ধরে, আবার কেউ স্বামীরই ব্যবসায়ী বন্ধুর সঙ্গে।

পরিস্থিতি এতটাই বাজে যে বারাসাত পুলিশ জেলার প্রতিটি থানাকে সতর্ক করে দিয়েছে বিবাহিত নারীদের এভাবে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে। অনেক স্বামী আবার লোকলজ্জার ভয়ে পুলিশের কাছে অনুরোধ করছেন পরিচয় গোপন রাখতে।

ছয়বারের চেষ্টায় মিলল সফলতা, সংসার সামলে বিসিএস ক্যাডার হলেন আরিফা

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিসিএসে সাফল্য পাওয়া মানে সোনার হরিণ হাতে পাওয়া। অনেকেই এর পেছনে ছুটলেও কয়জনই বা তা পায়। তবে সংসার সামলে সেই সোনার হরিণকে জয় করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবির) গণিত বিভাগের ২০১০-১১ সেশনের শিক্ষার্থী আরিফা সুলতানা। তিনি ৪৪তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।

এ দীর্ঘ যাত্রায় পরিবার ছিল তার অনুপ্রেরণা। আরিফা সুলতানার সাফল্যের গল্প তুলে ধরেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক।

আরিফা সুলতানার শ্বশুর বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামে। তিনি ২০০৭ সালে মণিরামপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে পেয়েছেন জিপিএ ৪.১৯, মণিরামপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০১০ সালে জিপিএ ৪.৬০ পেয়ে এইচএসসি পাস করেন। এরপর ২০১০-১১ সেশনে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগে ভর্তি হয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

নিজের সাফল্যের অনুভূতি জানিয়ে আরিফা বলেন, আল্লাহর রহমত আর শুভাকাঙ্ক্ষীদের শুভকামনায় আমার আজকের এই সফলতা। আমি নিয়ামক মাত্র। আমার পরিবারের জন্য এটা খুব আনন্দের। রেজাল্ট দেখে স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছিল। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করে বোঝানো সম্ভব না।

মায়ের অনুপ্রেরণা এবং স্বামীর নিশ্চিন্ত আশ্বাসেই যেন বিসিএস ক্যাডার হয়েছেন আরিফা সুলতনা। তিনি বলেন, আমার আম্মু অত্যন্ত মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও নানা প্রতিকূলতার কারণে পড়াশোনা বেশিদূর করতে পারেননি। সেই স্পৃহা আম্মু আমাদের ছয় ভাইবোনের মধ্যে জাগিয়ে রেখেছেন। আম্মুই অনুপ্রেরণার ভিত্তি আমাদের। বিয়ের পরে স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়দের পেয়েছি আমার লড়াইয়ে ইতিবাচক সমর্থক হিসেবে। বিশেষ করে আমার স্বামী। উনি প্রায়ই বলতেন, ‘তুমি তোমার মতো এগিয়ে যাও। আমি অপেক্ষা করছি।’ এই আশ্বাসই আমাকে নিশ্চিন্ত রাখতো।

আরিফার সুলতানার স্বামী রবিউল ইসলাম বলেন, আমার স্ত্রী একজন অধ্যাবসয়ী মেয়ে। আমার থেকে আমার পরিবার বেশি সাপোর্ট করেছে। আমি শুধু হতাশার সময়গুলোতে পাশে থেকেছি। তার সাফল্যে আমি আনন্দিত।

বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্নের বীজ আরিফার মধ্যে বুনেছিল তার ভাই। তিনি বলেন, বিসিএস ক্যাডার হওয়া আমার স্বপ্ন ছিল না। এর মূলে ছিল আমার ভাইয়া। ভাইয়ার পরামর্শে প্রথম বিসিএসের প্রস্তুতি নিতে শুরু করি। আব্বা প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতা করলেও পেয়েছে মানুষের সম্মান আর ভালোবাসা। আমরাও প্রত্যেকে আব্বার মতো সম্মানিত হতে চেয়েছি।

আরিফার বড় ভাই খুলনা পাবলিক কলেজের সহকারী অধ্যাপক তাকদীরুল গনী বলেন, ভালো কিছু করতে হলে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন। এজন্য এইচএসসির সময় থেকেই তাকে সাহস যুগিয়েছি। পরিবারের আগ্রহ ছিল সে ভালো কিছু করুক। আর তার এই সাফল্যে এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিস সহযোগিতা করেছে। আমাদের পুরো পরিবার উচ্ছ্বসিত ও আনন্দিত।

সংসার সামলে প্রতিদিন পড়াশোনা করেছেন আরিফা। বন্ধ ছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সিলেবাস আর বিগত সালের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে টপিক ধরে বই পড়ে শেষ করেছি। অল্প অল্প টার্গেটে। তারপর ওই টপিকটা ডাইজেস্ট থেকে পড়েছি। যা নতুন তা মার্ক করেছি এবং টপিক শেষ হলে মডেল টেস্ট দিয়ে নিজেকে যাচাই করেছি। দুর্বলতা থাকলে আবার একইভাবে পড়ার চেষ্টা করেছি।আট বছরের সংসার আর প্রায় পাঁচ বছরের সন্তান সামলে বিসিএসের মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সফল হওয়া সহজ ছিল না। পরিবারের সবার সমর্থনই সফলতায় পৌঁছাতে সহযোগিতা করেছে। আর আমি নিয়মিত পড়াশোনা করেছি।

টানা পাঁচবার ব্যর্থ হলেও হাল ছাড়েননি আরিফা সুলতানা। তিনি বলেন, আমি ৩৭তম থেকে ৪৪তম বিসিএসে মোট ছয়টি বিসিএস দিয়েছি। পরপর তিনটি বিসিএসে প্রিলি ফেল। ৪র্থ বিসিএস অর্থাৎ ৪১ তম বিসিএসে নন ক্যাডারে আছি। আবার ৪৩তম প্রিলি ফেল। সর্বশেষ ৪৪তম বিসিএসে অর্থাৎ ৬ষ্ঠবারে কাঙ্ক্ষিত সফলতা পেয়েছি।

যারা বিসিএস ক্যাডার হতে চায় তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শুধু লক্ষ্য স্থির রেখে প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। জীবন থেকে অজুহাত না খুঁজে, আপন হাতে অজুহাতকে দূরে সরাতে হবে। যেহেতু বিসিএস জার্নি বেশ দীর্ঘমেয়াদি আপনাকে বিকল্পভাবে হলেও অর্থনৈতিকভাবে একটু স্বচ্ছলতা নিশ্চিত করতে হবে। স্বচ্ছলতা হয়তো সফলতা নিয়ে আসে না কিন্তু স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে আসবে যা আপনার মানসিক শক্তি যোগাবে। আপনি আত্মবিশ্বাসী হয়ে আরও ভালো করার প্রয়াস পাবেন।

ঝরে পড়া শিশুদের কল্যাণে কাজ করতে চান আরিফা সুলতানা। তিনি বলেন, পেশাগত দায়িত্ব সর্বোচ্চ সুচারুভাবে পালন করতে চাই। কারণ সততাই সেবা। আর এই সেবার জায়গাটা বিস্তৃত করতে চাই ঝরে পড়া শিশুদের কল্যাণে কাজ করতে চাই।

কানাডা ছেড়ে কেন চলে যাচ্ছে মানুষ

বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর একটি কানাডা। উন্নত জীবনের আশায় অনেকেরই স্বপ্ন থাকে উত্তর আমেরিকার দেশটিতে যাওয়ার। কিন্তু, সাম্প্রতিক সময়ে কানাডা ছেড়ে চলে যাওয়ার ব্যাপক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে সেখানকার নাগরিকদের মধ্যে। ২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসেই কানাডা ছেড়ে চলে গেছেন রেকর্ডসংখ্যক মানুষ। 

স্ট্যাটিসটিকস কানাডা প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের মধ্যে ২৭ হাজার ৮৬ জন কানাডিয়ান নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দা দেশ ছেড়েছেন। এই সংখ্যা ২০১৭ সালের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এবং ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ৩ শতাংশ বেশি।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, এটি চলতি বছরের একটি প্রাথমিক চিত্রমাত্র, কারণ সাধারণত তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) দেশত্যাগের হার সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে।

অন্যদিকে, একই সময়ে ৯ হাজার ৬৭৬ জন প্রবাসী কানাডায় ফিরে এসেছেন, যা গত বছরের তুলনায় সামান্য বেশী। 

উল্লেখযোগ্যভাবে, অস্থায়ী বাসিন্দাদের মধ্যেও দেশত্যাগের হার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। ২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসে ২ লাখ ৯ হাজার ৪০০ জন অস্থায়ী বাসিন্দা; বিশেষত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও ওয়ার্ক পারমিটধারী কানাডা ছেড়েছেন, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৫৪ শতাংশ বেশি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশত্যাগের এই হার একটি ভবিষ্যৎ সংকটের ইঙ্গিত। মে মাসে অস্থায়ী বিদেশি শ্রমিক ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত করার পরিকল্পনার ঘোষণা দেন কানাডার নতুন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনি, যা এই প্রবণতাকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে।

স্ট্যাটিসটিকস কানাডার পূর্ববর্তী গবেষণাগুলোতে দেখা যায়, সাধারণত অভিবাসীরা কানাডায় আসার তিন থেকে সাত বছরের মধ্যে দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। যাদের সন্তান নেই, কিংবা যারা ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী, তাদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি। উদ্যোক্তা ও উচ্চশিক্ষিত পেশাজীবীদের মধ্যে কানাডা ছেড়ে অন্য দেশে পাড়ি জমানোর হার তুলনামূলকভাবে বেশি।

বিভিন্ন অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, অনেক কানাডিয়ান আমেরিকা , ইতালি, পর্তুগাল, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন ও মেক্সিকোর মতো দেশে চলে গেছেন। তুলনামূলক কম ব্যয়ের জীবনযাপন, অনুকূল আবহাওয়া ও ডিজিটাল নোম্যাড ভিসার সুযোগ গ্রহণ করাই তাদের এই পছন্দের কারণ।

মানুষের এই চলে যাওয়ার প্রবণতা কানাডার ভবিষ্যৎ শ্রমবাজার, শিক্ষা খাত এবং অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

৪০০ যাত্রী নিয়ে রানওয়েতে আটকা আটকা বিমান, সরানো হলো ২ ঘণ্টা পর

সৌদি আরবের মদিনা থেকে ছেড়ে আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পরই বিমানটিতে ত্রুটি দেখা দেয় এবং এটি রানওয়েতে আটকা পড়ে। এতে বন্ধ হয়ে যায় রানওয়ের কার্যক্রম। দুই ঘণ্টা পর বিমানটি রানওয়ে থেকে সরানো হলে স্বাভাবিক হয় বিমান চলাচল।

শনিবার (৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটটি (বিজি-১৩৮) অবতরণের পর এ ঘটনা ঘটে। ফ্লাইটটিতে ৩৭৮ জন হজযাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মুখপাত্র মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল গণমাধ্যমে বলেন, মদিনা থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট বিজি ১৩৮ সকাল সাড়ে ৯টায় শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। অবতরণের পর রানওয়ে-২৩ প্রান্তে এসে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আটকা পড়ে। উড়োজাহাজটিতে ৩৮৭ যাত্রী ছিলেন। যান্ত্রিক ত্রুটি সারিয়ে বেলা ১১টা ২০ মিনিটে বিমানটিকে রানওয়ে থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের সহকারী সিকিউরিটি সুপারভাইজার আবদুল আলম এক বার্তায় জানান, বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট নম্বর বিজি-১৩৮ মদিনা থেকে চট্টগ্রামে অবতরণ করার পরে রানওয়ের শেষ মাথা আটকে যায়। বাংলাদেশ বিমানের জিইসি টিম পুশ কার্ট দিয়ে সামনের চাকা টেনে ঠিক করে দিলে পরবর্তী সময়ে বিমান ইঞ্জিন স্টার্ট করে বে-তে চলে আসে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বিমান বন্দরে উড্ডয়ন ও অবতরণ পুনরায় চালু করা হলো।

বিচ্ছেদের ৮ বছর পর ‘ভুল বুঝতে পারলেন’ মিথিলা

জনপ্রিয় তারকা জুটি তাহসান খান ও রাফিয়াত রশিদ মিথিলার সম্পর্ক বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকে শুরু হয়েছিল। ২০০৬ সালের ৩ আগস্ট তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের ঘরে একমাত্র কন্যাসন্তান আইরা তাহরিম খান ২০১৩ সালে জন্ম নেয়। ‘আদর্শ দম্পতি’ হিসেবে পরিচিত ছিল ভক্তদের মধ্যে। ২০১৭ সালের মে মাসে তাদের বিচ্ছেদ অনেকেই হতাশ করেছিল। আট বছর পর বিচ্ছেদ নিয়ে কথা বলেছেন মিথিলা। তিনি বলেন, তখন অনেক অল্পবয়সী এবং তরুণী মা ছিলেন। ভালো মন্দ বিচার করার শক্তি তার ছিল না। একটি পডকাস্ট অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মিথিলা জানান, বিচ্ছেদের চূড়ান্ত ঘোষণার আগে তারা প্রায় দুই বছর আলাদা ছিলেন এবং এ সময়ে তিনি তাহসানের সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়াটা মানতেই পারছিলেন না।

এই অভিনেত্রী আরও বলেন, তাহসানের সঙ্গে সেপারেশনে থাকার সময় ভেবেছিলেন শেষ পর্যন্ত হয়তো বিচ্ছেদ হবে না, সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঠিক হয়নি।

তিনি বলেন, যে কোনো বিচ্ছেদ বা যে কোনো সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া সহজ না খুবই কঠিন। বন্ধু বা এটা যে কোনো ক্ষেত্রে হতে পারে। আমি ছিলাম তখন অনেক অল্পবয়সী এবং তরুণী মা। আমি যে কোনো একটা ভালো মন্দ বিচার করবো বা কোনো একটা সিদ্ধান্তে আসব, সেটার শক্তিই আমার ছিল না। কারণ আমার একটা ১ বছরের বাচ্চা। আমার মানসিক অবস্থা ভালো ছিল না, যেখানে আমি কোনো একটা সিদ্ধান্ত নিতে পারবো নিজের জীবনের।

অভিনেত্রী জানান, ২৩ বছর বয়স থেকে আমি আমার জীবনকে একভাবে ভেবে এসেছিলাম। হঠাৎ করে জীবনটা সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তন হয়ে গেছে। আমি আমার শ্বশুরবাড়ির মানুষদের সঙ্গে থেকেছি। একে তো আমার বাচ্চা আছে তারপর আমি জানলাম সেই জায়গাটা আমার ভবিষ্যত না। আমি তখন চাকরি করতাম, কিন্তু আমার একটা গাড়িও ছিল না। কিন্তু আমার তো অভ্যাস ছিল গাড়িতে করে বাইরে যাওয়ার, আমার বাচ্চার অভ্যাস ছিল গাড়িতে চড়ার।

মিথিলা বলেন, মেয়েদের নিজেদের আসলে জায়গা থাকে না। শ্বশুরবাড়ি আবার বাবার বাড়ি, থ্যাঙ্কফুলি এখন আমার নিজের জায়গা আছে। মেয়েদের সবার আগে যেটা দরকার সেটা হলো অর্থনৈতিক স্বাধীনতা। এ অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া জীবনের অন্য সব সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়।