আলোচিত
পারফিউম ব্যবসার আড়ালে দেশের সবচেয়ে বড় হুন্ডির ব্যবসা

দেশে পারফিউম ব্যবসার আড়ালে সবচেয়ে বড় হুন্ডি তৎপরতার প্রমাণ পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সংস্থাটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) অনুসন্ধান চালিয়ে হুন্ডির মাধ্যমে দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের তথ্য পেয়েছে। হুন্ডি কারবারে অভিযুক্ত কোম্পানিটির নাম আল হারামাইন পারফিউমস। কোম্পানির মালিক সিলেটের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মাহতাবুর রহমান নাসির। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এ ব্যবসায়ী এখন গোল্ডেন ভিসার আওতায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) বসবাস করছেন। খবর- বণিক বার্তাসিলেটি পোশাক
এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের তথ্য অনুযায়ী, মাহতাবুর রহমান নাসিরের ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক বর্তমানে বিশ্বের ৮৬টি দেশে বিস্তৃত। বাংলাদেশ ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ওমান, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে আল হারামাইন পারফিউমসের শোরুম রয়েছে। অন্যান্য দেশে তার দৃশ্যমান ব্যবসা মূলত আমদানি-রফতানির। যদিও অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে, মাহতাবুর রহমান নাসিরের পুরো ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কই হুন্ডি তৎপরতার সঙ্গে সম্পৃক্ত। পারফিউম বা আমদানি-রফতানি ব্যবসার আড়ালে তার প্রধান ব্যবসা মূলত এক দেশের অর্থ অন্য দেশে পাচার করা।
এ ব্যবসায়ীর সম্পদ ও অর্থ পাচারের তথ্য অনুসন্ধানে সম্প্রতি সিআইসির একটি দল ইউএই যায়। দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে থাকা মাহতাবুর রহমানের সম্পদ ও অর্থ পাচারের তথ্য সংগ্রহ করেন তারা। পাশাপাশি অন্য যেসব দেশে তার সম্পদ রয়েছে, সেগুলোর তথ্য চেয়েও সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। দেশে থাকা মাহতাবুর রহমানের সম্পদের বিষয়েও অনুসন্ধান চালিয়েছে সিআইসি। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সিলেটে মাহতাবুর রহমানের বাড়িতে দুই দফায় তল্লাশি চালানো হয়। ওই বাড়ি থেকে ১০৪টি সম্পত্তির দলিলসহ অন্যান্য নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে বলে সিআইসি সূত্রে জানা গেছে।সিলেট জেলা ভ্রমণ প্যাকেজ
এর আগে গত ২২ জানুয়ারি সিআইসির পক্ষ থেকে মাহতাবুর রহমান নাসির ও তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ (অবরুদ্ধ) করা হয়। এ তালিকায় মাহতাবুর রহমানের ভাই মোহাম্মদ ওলিউর রহমান, ছেলে মোহাম্মদ এমাদুর রহমান, ভাতিজা মোহাম্মদ আশফাকুর রহমান ও মোহাম্মদ এহসানুর রহমান এবং আল হারামাইন গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সাব্বির আহমেদের নাম রয়েছে। ব্যাংক হিসাব ছাড়াও তাদের আয়কর নথি পর্যালোচনা করা এবং ভূমি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কাছে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে।
তদন্ত কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আল হারামাইন পারফিউমসের শোরুমগুলো মূলত হুন্ডির টাকা লেনদেনে ব্যবহৃত হয়। ঢাকার বসুন্ধরা সিটির শোরুমে কেউ টাকা জমা দিলে দুবাইয়ের সিটি সেন্টারে সে টাকা দিরহাম আকারে পরিশোধ করা হয়। ছোট কোনো অংকের অর্থ এসব শোরুমে লেনদেন হয় না। বরং বড় ব্যবসায়ী বা টাকা পাচারকারীদের কাছ থেকে শত শত কোটি টাকার অর্থ গ্রহণ করা হয়। এক্ষেত্রে শোরুমগুলোয় কেবল বিশেষ একটি খাতায় হিসাব রাখা হয়। হুন্ডি কারবারের পাশাপাশি মাহতাবুর রহমানের স্বর্ণ চোরাচালানের বিস্তৃত নেটওয়ার্কও রয়েছে বলে আমরা তথ্য পেয়েছি। আমরা ঢাকায় ও দুবাইয়ে আল হারামাইন পারফিউমসের শোরুমের আশপাশে অবস্থান নিয়ে দেখেছি, ৩-৪ ঘণ্টায়ও সেখানে পারফিউম কিনতে কোনো গ্রাহক আসেনি।’
এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) ছাড়াও মাহতাবুর রহমান নাসিরের বিরুদ্ধে বিস্তৃত হুন্ডি নেটওয়ার্ক পরিচালনা ও প্রভাবশালীদের অর্থ পাচারে সহায়তাসহ নানা অভিযোগ নিয়ে তদন্ত করছে বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটসহ (বিএফআইইউ) বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সুশাসনের ঘাটতি ও অপরাধের প্রমাণ পাওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ১২ মার্চ এনআরবি ব্যাংক পিএলসির পর্ষদ ভেঙে দেয়া হয়। ২০১৬ সাল থেকে টানা নয় বছরের বেশি সময় ধরে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান পদে ছিলেন মাহতাবুর রহমান নাসির।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিআইসির মহাপরিচালক আহসান হাবিব বলেন, ‘মাহতাবুর রহমান নাসিরকে নিয়ে আমাদের তদন্ত কার্যক্রমের ৭৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। যেসব নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে, সেগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আর যেসব তথ্য আমরা পেয়েছি, সেগুলোরও সত্যতা নিরূপণের কাজ চলছে। তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত হলে তবেই এ বিষয়ে মন্তব্য করা যাবে।’
আল হারামাইন পারফিউমসের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, কোম্পানিটির পারফিউমের মূল্য অনেক বেশি। বাংলাদেশের শোরুমগুলোয় সর্বনিম্ন ৩ হাজার টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা মূল্যের পণ্য রয়েছে। দেশে কোম্পানিটির শোরুম রয়েছে ১৫টির বেশি। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্ক, বসুন্ধরা সিটি, সীমান্ত সম্ভার, গুলশানের পিংক সিটি ও সেন্টার পয়েন্ট এবং বায়তুল মোকাররম মার্কেটে কোম্পানিটির শোরুম রয়েছে। চট্টগ্রামে চারটিসহ আল হারামাইন পারফিউমসের শোরুম রয়েছে নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, বগুড়া, সিলেট, রাজশাহী ও রংপুর শহরেও।সিলেট জেলা ভ্রমণ প্যাকেজ
প্রায় এক দশক ধরে বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করলেও এখনো কোম্পানিটির সবক’টি শোরুমই লোকসানে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ২০১৭ সাল থেকে আল হারামাইন গ্রুপ বাংলাদেশের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তার (সিএফও) দায়িত্বে আছেন পরিমল চন্দ্র ধর।
তিনি বলেন, ‘এতগুলো শোরুম থাকলেও বাংলাদেশে আমরা কখনো মুনাফা করতে পারিনি। এখানে পারফিউমের ওপর ১৫০ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়। এত ভ্যাট-ট্যাক্স দিয়ে মুনাফা করা সম্ভব নয়। আগে যা ব্যবসা ছিল, গত কয়েক মাসে সেটিও শেষ হয়ে গেছে। আগের তুলনায় বিক্রি অনেক কমে গেছে।’
শোরুমের আড়ালে আল হারামাইন গ্রুপের হুন্ডি তৎপরতার বিষয়ে জানতে চাইলে পরিমল চন্দ্র ধর বলেন, ‘এনবিআর তার দাবি প্রমাণ করে দেখাক।’
দেড় দশক ধরে মাহতাবুর রহমান নাসির দেশ-বিদেশে একজন আলোচিত চরিত্র। প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় করে সিলেটে ‘কাজী প্যালেস’ নামে রাজকীয় বাড়ি নির্মাণ করে প্রথম আলোচনায় আসেন তিনি। বিলাসবহুল ওই বাড়িতে ভিড় জমাতেন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপিসহ সরকারি আমলা ও অলিগার্করা। আর প্রভাবশালী এসব ব্যক্তিরা দুবাই ভ্রমণে গেলে থাকতেন মাহতাবুর রহমানের অতিথি হয়ে। তাদের থাকা, খাওয়া, ঘোরাঘুরিসহ চিত্তবিনোদনের আয়োজন করতেন তিনি।
সিলেটের ইসলামপুর এলাকায় নির্মাণ করা বাড়িটি নিয়েও নতুন করে তদন্ত করছে এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। এরই মধ্যে দুই দফায় বাড়িটি পরিদর্শন করেছে সংস্থাটি। দ্বিতীয় দফায় পরিদর্শনের সময় গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলীসহ একজন স্থপতিকেও সঙ্গে নেয়া হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল, বাড়িটির নির্মাণ ব্যয় নিরূপণ করা।
বাড়িটিতে ব্যবহৃত বিলাসবহুল উপকরণ দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তারা। পরিদর্শক দলের একজন সদস্য বলেন, ‘বাড়িটিতে যেসব উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে, যেসব আসবাবপত্র বাড়িতে আছে, সেগুলো আমরা কখনো দেখিনি। এ কারণে সঠিক মূল্য নির্ধারণ করাও সম্ভব নয়। এসব উপকরণ আমদানির সময় যথাযথ কর পরিশোধ করা হয়েছে কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার।’
মাহতাবুর রহমান নাসির জানিয়েছেন, আট একর জায়গাজুড়ে নির্মিত তিনতলা বাড়িটির বিল্ডিং জোন প্রায় ৮০ হাজার বর্গফুট। ২৯টি দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের আলোকে বাড়িটি নির্মাণ করা হয়েছে। এতে রয়েছে ২৯টি বিলাসবহুল মাস্টার বেড। বাড়িতে এক সঙ্গে পাঁচ হাজার মানুষের জন্য অনুষ্ঠান আয়োজন করা যায়। এর নিচতলায় রয়েছে নয়টি ডাইনিং। আসবাবের পাশাপাশি প্রায় সব নির্মাণ উপকরণও বিদেশ থেকে আনা হয়েছে। জার্মানি, দুবাই, ফ্রান্স ও লেবাননের প্রকৌশলীরা বাড়ি নির্মাণে ভূমিকা রেখেছেন।
এনবিআর কর্মকর্তাদের পর্যবেক্ষণ হলো বাড়িটি নির্মাণে যেসব উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে, তা আইন মেনে আমদানি করা হয়নি। যে অর্থ ব্যয় করা হয়েছে, সেটিও মাহতাবুর রহমানের আয়কর নথিপত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তদন্ত প্রতিবেদনে এ বিষয়গুলো তুলে ধরা হচ্ছে।
মাহতাবুর রহমানের অপরাধ তদন্তের দায়িত্বে থাকা অন্য একটি গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে টাকা পাচার করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যেসব রাজনীতিবিদ, আমলা ও ব্যবসায়ী বাড়ি-গাড়ি, হোটেল, মার্কেটসহ বিভিন্ন সম্পদ কিনেছেন, তার প্রায় সবারই পথপ্রদর্শক ছিলেন মাহতাবুর রহমান। দেশ থেকে টাকা পাচারে সহায়তা করা, সে দেশে সম্পদ কিনতে সহযোগিতা করা, আমিরাতের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ত করে দেয়া থেকে শুরু করে প্রতিটি ধাপেই এ ব্যবসায়ীর সম্পৃক্ততা রয়েছে। এসব কাজের বিনিময়ে তিনি কমিশন পান, সেটিই তার আয়ের প্রধান উৎস। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকা অবস্থায়ই আমরা তার বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছিলাম। কিন্তু তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, পদ্মা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সরাফাতসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির হস্তক্ষেপে সেসব তদন্ত শেষ করা যায়নি।’
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগই মিথ্যা বলে দাবি করছেন মোহাম্মদ মাহতাবুর রহমান নাসির।
তিনি বলেন, ‘আমার আয়ের প্রধান উৎস আল হারামাইন পারফিউমস। বাংলাদেশে লোকসানে থাকলেও বিশ্বব্যাপী এটি খুবই জনপ্রিয়। আমি কখনো হুন্ডির ব্যবসা করিনি। অবৈধ কোনো ব্যবসা আমার নেই। মধ্যপ্রাচ্য ছাড়া আর কোথাও আমার কোনো ব্যবসা নেই।’
যদিও আল হারামাইন পারফিউমসের ওয়েবসাইটে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যেও প্রতিষ্ঠানটির শোরুম আছে বলে উল্লেখ রয়েছে। এনবিআরের অনুসন্ধানকারীদের ভাষ্যমতে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের ছোট এক্সচেঞ্জ হাউজ থেকে বাংলাদেশীদের রেমিট্যান্সের অর্থ কিনে নেয় মাহতাবুর রহমানের প্রতিষ্ঠান। সেসব অর্থ বাংলাদেশে না পাঠিয়ে বাংলাদেশী অর্থ পাচারকারীদের বিভিন্ন গন্তব্যে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এভাবেই বিশ্বের ৮৬টি দেশে তার ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারিত হয়েছে।
পতিত সরকারের প্রভাবশালীদের আতিথেয়তা দিয়েই এখন বিপদে পড়েছেন বলে দাবি করছেন মাহতাবুর রহমান নাসির। তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার শাসনামলে এমপি-মন্ত্রীরা দুবাই যাওয়ার আগে আমাকে খবর দিতেন। তারা কেউ দুবাই গেলেই বিমানবন্দরে গাড়ি পাঠাতে হতো। দূতাবাস থেকেও আমাকে বলা হতো, অমুক মন্ত্রী এসেছেন, কী মেহমানদারি করতে হবে, কোথায় রাখতে হবে। ওই সময় মেহমানদারি না করা ছিল অপরাধ। এখন দেখছি মেহমানদারি করাটাই অপরাধ হয়ে গেছে।’
এ আতিথেয়তার বদলে কোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধা নেননি বলে আরো দাবি করেছেন দীর্ঘ নয় বছর এনআরবি ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদ ধরে রাখা এ ব্যবসায়ী।
তথ্যসূত্র : বণিক বার্তা
আন্তর্জাতিক
ভারতে উন্মুক্ত মাঠে ঈদের নামাজ পড়া নিষিদ্ধ করল পুলিশ

ভারতের উত্তরপ্রদেশের মিরাট শহরে উন্মুক্ত মাঠে ঈদের নামাজ পড়া নিষিদ্ধ করেছে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকারের প্রশাসন।
এ নিয়ম ভঙ্গ করলে মুসলিমদের পাসপোর্ট এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল করার হুমকি দিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ বলছে, শুধুমাত্র মসজিদেই ঈদের নামাজ পড়তে পারবে মুসলমানরা। যারা উন্মুক্ত মাঠে নামাজ পড়বে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার পাশাপাশি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত বছর মিরাটে উন্মুক্ত মাঠে ঈদের নামাজ পড়ায় ২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ভারতকে ‘কান্ট্রি অফ পার্টিকুলার কনসার্ন’ বা সিপিসি-এর তালিকাভুক্ত করতে সুপারিশ করেছে আমেরিকার সরকারি সংস্থা ইউনাইটেড স্টেটস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম (ইউএসসিআইআরএফ।)
সিপিসি’র সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, যেসব দেশে সরকার বিশেষ করে গুরুতর ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনে সম্পৃক্ত হয় বা লঙ্ঘনের ব্যাপারে সহনশীল হয় সেসব দেশ কান্ট্রি অফ পার্টিকুলার কনসার্ন হিসেবে বিবেচিত হয়।
ইউএসসিআইআরএফ‘র প্রতিবেদনে ভারতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বিশেষত মুসলিমদের ধর্মীয় অধিকার লঙ্ঘন এবং তাদের জীবন ও সম্পদের ওপর আক্রমণের বেশ কিছু ঘটনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি দেশটির কেন্দ্রীয় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সে দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বিশেষকরে মুসলিমদের ওপর একের পর একের হামলা চালিয়ে যাচ্ছে হিন্দুত্ববাদীরা। আর এসব কর্মকাণ্ডে প্রকাশ্যেই পৃষ্ঠপোষকতা করে যাচ্ছে বিজেপি। মুসলিমদের ঘর-বাড়ি, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান এবং মসজিদে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ যেন ভারতের নিত্য দিনের ঘটনা। মুসলিম স্থাপত্য আর অবকাঠামোর ওপর বিজেপি সরকারের বুলডোজার দিয়ে ভাঙচুর মুসলিম নিপীড়নের সকল রেকর্ড ছাপিয়ে গেছে।
এমন প্রেক্ষাপটে ভারতকে ‘কান্ট্রি অফ পার্টিকুলার কনসার্ন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সুপারিশ প্রশংসনীয়।
আলোচিত
সিলেটে নিজের বিলবোর্ড দেখাতে গাছ কাটলেন বিএনপি নেতা!

সিলেট নগরীতে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা বিলবোর্ডে পথচারীদের দৃষ্টিগোচর করতে একটি গাছের মাথাসহ সব ডালপালা কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে নগরীর বিএনপির সহ-সভাপতি ও সিলেট মহানগরীর ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. আমির হোসেনের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) রাতে সিলেট নগরীর পাঠানটুলা-মদিনামার্কেট এলাকার সড়ক বিভাজকের কয়েকটা গাছের প্রধান শাখাসহ সব ডাল কাটতে বিদ্যুতের পিলারে ওঠে এক ব্যক্তি। নিচে ছিল তাদের সঙ্গী আরও কয়েক ব্যক্তি। এ সময় সড়ক বিভাজকের তিনটি গাছের সব ডালপালা ছেঁটে ফেলা হয়।
দুজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, গাছের সব ডালপালা কাটার কারণ জানতে চাইলে গাছকর্তনকারীরা জানান, বিলবোর্ডে তাদের নেতার ঈদ শুভেচ্ছা ঢাকা পড়ছিল, তাই গাছের ডাল কাটা হচ্ছে। এ ব্যাপারে সিটি করপোরেশনের অনুমতি আছে কি না জানতে চাইলে তারা এড়িয়ে যান। এরপর তারা আরও সাতটি গাছের ডালপালা যত্রতত্রভাবে ছেঁটে ফেলে।
কেবল মদিনামার্কেট এলাকায় নয়, সিলেট নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সড়ক বিভাজকের গাছ এবং ডালপালা কাটা চলছে ঈদ শুভেচ্ছার ব্যানার-ফেস্টুন দেখানোর জন্য। গাছ কাটার এ কাজটি শ্রমিক দিয়ে করা হচ্ছে। যার ফলে সড়ক বিভাজকে থাকা ওই সব গাছের বেড়ে উঠার প্রক্রিয়া বিনষ্ট হচ্ছে।
সরেজমিনে মদিনামার্কেট এলাকায় দেখা গেছে, বিলবোর্ডে মো. আমির হোসেনের বড় করে ছবি দেওয়া আছে। তার উপড়ে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের ছবি। পাশেই বড় করে দেওয়া আছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি। তার ওপরে ছোট করে দেওয়া বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবি। বিলবোর্ডের ব্যনারে লেখা আছে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ৯নং ওয়ার্ডসহ দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সর্বস্তরের জনসাধারণকে জানাই পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা।
শুভেচ্ছান্তে লেখা আছে মো. আমির হোসেন, সহ-সভাপতি মহানগর বিএনপির ও সভাপতি সিলেট মহানগরীর ৯নং ওয়ার্ড বিএনপি। এসব লেখা সংবলিত বিলবোর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে আছে মাথাহীন গাছটি।
এদিকে ব্যানার-ফেস্টুন লাগানো নিয়ে মহানগর বিএনপির প্রচার সম্পাদক এটিএম বেলায়েত হোসেন ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন।
তিনি লিখেন, ‘ফেস্টুন-ব্যানার লাগানোর ব্যাপারে দলের যে নিষেধাজ্ঞা ছিল তা কি তুলে নেওয়া হয়েছে? শহরজুড়ে শুধু ফেস্টুন আর ব্যানার! গত ১৬ বছর এমন ব্যানার-ফেস্টুন দেখে মনের ভেতর তীব্র ঘৃণা কাজ করত। সেই একই কাজ আপনারা করছেন। দলের দায়িত্বশীলদের কাছে আমার আবেদন আপনারা চাপ দিন, যেন আগামীকালের মধ্যে সিলেট শহর সব ব্যানার-ফেস্টুন মুক্ত হয়। অনথ্যায় দলীয় নির্দেশ অমান্য করে যারা ব্যানার-ফেস্টুন লাগাচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যাবস্থা যেন নেওয়া হয়।’
এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থ বলেন, ‘বিলবোর্ডে বিজ্ঞাপন দেওয়ার অনুমতি সিসিক থেকে দেওয়া হয়। কিন্তু আমরা কোনো গাছ কাটার অনুমতি দেই না। কারও যদি গাছ কাটতে হয় তবে অবশ্যই পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি নিতে হবে। বিলবোর্ডে বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্য গাছ কাটার বিষয়ে আমরা কিছু জানি না। তবে যদি এ ব্যাপারে কেউ অভিযোগ দেন আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
সিলেট মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি ও সিলেট মহানগরীর ৯ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. আমির হোসেন গাছ কাটার বিষয় অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি ঈদের শুভেচ্ছার বিলবোর্ড লাগিয়েছি। কিন্তু এখানে কোনো গাছ কাটা হয়নি। এই সড়ক দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় বড় বাস চলাচল করে । এই বাসগুলোতে ডালপালায় আটকে যায়। তাই হয়তো কেউ ডালপালা কেটে দিয়েছে। আমার পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো কাজ করা হয়নি।’-খবরের কাগজ
আলোচিত
যুক্তরাষ্ট্রে ‘গ্রিন কার্ড’ প্রক্রিয়া সাময়িক স্থগিত

যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত অভিবাসি ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অভিবাসন আইন কঠোর করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এরইমধ্যে কঠোর যাচাই-বাঁচাইয়ের জন্য সাময়িকভাবে ‘গ্রিন কার্ড’ আবেদন স্থগিত করেছে দেশটি। দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনে এ কথা জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক ছাত্র এবং অন্যান্য বিদেশী নাগরিকদের আটক এবং নির্বাসন নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সম্প্রতি অভিবাসন প্রক্রিয়া কড়াকড়ি করে নতুন নির্বাহী আদেশ জারি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর ফলে অভিবাসন প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ‘গ্রিন কার্ড’ বা স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার আবেদন কিছু সময়ের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, তারা কিছু শরণার্থী এবং আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তিদের অভিবাসন প্রক্রিয়া ও গ্রিনকার্ড আবেদন পর্যালোচনা স্থগিত করেছে। যা যুদ্ধ-বিধ্বস্ত ও সংঘাতপূর্ণ দেশ থেকে পালিয়ে আসা ব্যক্তিদের অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এতে প্রতারণা বন্ধ এবং জাতীয় ও জননিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার হবে। এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের মতো নিরাপত্তা ঝুঁকির আওতাভুক্ত দেশ থেকে আগত অভিবাসনপ্রত্যাশীরাও বেশি প্রভাবিত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নতুন ভেটিং তথা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রে ইতিমধ্যেই কঠোর নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আগত শরণার্থীদের জন্য আরেকটি দফা জটিলতা তৈরি করবে।
এই সিদ্ধান্ত দেশটিতে অবস্থানরত হাজারো বাংলাদেশি পরিবারকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে, যারা তাদের আত্মীয়স্বজনদের গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, এই ধরণের বাধা যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন সিস্টেমে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি করতে পারে এবং ইউএসসিআইসি-এর আয়তেও প্রভাব ফেলতে পারে, যেহেতু এটি একটি ফি-ভিত্তিক সংস্থা।
এদিকে ট্রাম্প গত মঙ্গলবার নতুন একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন। এতে বলা হয়েছে, এখন থেকে ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে মার্কিন নাগরিকদের। ডাকযোগে ভোট দেয়ার ক্ষেত্রেও আরোপ করা হয়েছে বিধিনিষেধ।
আলোচিত
ছাত্রদল নেতার বাড়ি থেকে ওএমএসের চাল উদ্ধার

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার জহিরাবাদ ইউনিয়নের ডিলার ও ইউনিয়ন ছাত্রদলের আহ্বায়কের বাড়ি থেকে হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত ওএমএসের চাল জব্দ করেছে পুলিশ।
শুক্রবার বিকালে উপজেলার জহিরাবাদ ইউনিয়নের পাঁচআনী দেওয়ানকান্দি গ্রাম থেকে ইউনিয়ন ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও ওএমএসের ডিলার মো. খবির মিয়াজির (৩০) ঘর থেকে ৬ বস্তা চাল ও ৬০টি খালি বস্তা উদ্বার করা হয়। এ ঘটনার পর থেকে মো. খবির মিয়াজি পলাতক রয়েছেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জহিরাবাদ ইউনিয়নের ওএমএসের ডিলার ইউনিয়ন ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. খবির মিয়াজি। সে সরকারিভাবে ওএমএসের চাল বিক্রি না করে গোপনে তার বাড়িতে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখেন। এমন তথ্য স্থানীয় লোকজন ও বিএনপি নেতারা পুলিশকে জানালে বিকালের দিকে খবির মিয়াজির বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় খবিরের বসত ঘরের মধ্যে থেকে ওএমএসের ছয় বস্তা সরকারি চাল জব্দ ও ৬০টি খালি বস্তা উদ্ধার করে। এ ঘটনায় খবির মিয়াজিকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, ৫ আগস্টের পর ইউনিয়ন ছাত্রদলের আহ্বায়কের প্রভাব খাটিয়ে ডিলার খবির মিয়াজি দীর্ঘদিন থেকে বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম করে আসছিলেন। তবে কেউ কোনো কথা বলতে সাহস পারেনি।
মতলব উত্তর থানার এসআই মো. মিজানুর রহমান জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে জহিরাবাদ ইউনিয়নের পাঁচআনী দেওয়ানকান্দি গ্রামে ওএমএসের ডিলার মো. খবির মিয়াজির ঘর থেকে ৬ বস্তা চাল ও ৬০টি খালি বস্তা উদ্বার করি। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহোদয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে চালের বস্তা ও খালি বস্তাগুলো জহিরাবাদ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি গোলাম হোসেনের হেফাজতে রাখা হয়।
মতলব উত্তর উপজেলা বিএনপি নেতা মনির হোসেন জানান, যারা এই সমস্ত কাজের সঙ্গে জড়িত তাদের কে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করবন। পাশাপাশি বিএনপির দলীয় নেতার কাছে আহ্বান এ বিষয়ে যাতে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
জহিরাবাদ ইউনিয়ন ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও ওএমএসের ডিলার মো. খবির মিয়াজির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমান হোসেন গাজী জানান, বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম। খোঁজ খবর নিচ্ছি। অভিযুক্ত হলে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি জানান, বিষয়টি জেনেছি, আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আন্তর্জাতিক
জুমার নামাজের সময় ভূমিকম্প, মসজিদ ধসে নিহত অন্তত ২০

শুক্রবার দুপুরে মিয়ানমারে আঘাত হানে শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্প। এটির প্রভাবে কেঁপে ওঠে থাইল্যান্ড, ভারত, বাংলাদেশ। শক্তিশালী এসব ভূমিকম্পে মিয়ানমারে অসংখ্য অবকাঠামো ধসে পড়েছে। এখন পর্যন্ত দেশটিতে ২৫ জন এবং থাইল্যান্ডে একজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া দেশটিতে একটি নির্মাণাধীন ভবন ধসে অন্তত ৪৩ জন আটকা পড়ে আছেন।
বার্তাসংস্থা আনাদোলু স্থানীয় সংবাদমাধ্যম খিত তিতের বরাতে জানিয়েছে, ভূমিকম্পে মান্দালয় প্রদেশের ফো শিং মসজিদ ধসে পড়েছে। এছাড়া সেখানে আরও অন্তত তিনটি মসজিদ ভেঙে পড়ে। মসজিদ ধসে এখন পর্যন্ত অন্তত ২০ জন মারা গেছেন।
একজন উদ্ধারকর্মী বলেছেন, “আমরা যখন নামাজ পড়ছিলাম তখন এটি ধসে পড়ে। তিনটি মসজিদ ধসে পড়েছে। মানুষ আটকে আছেন। এখন পর্যন্ত অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের সংখ্যা বেশি হতে পারে। শি ফো শিং মসজিদও ধসে পড়েছে।”
এছাড়া মান্দালয়ের ঐতিহাসিক আভা সেতুটি ধসে পড়েছে। এছাড়া মান্দালয় প্রাসাদটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অপরদিকে তুয়াঙ্গো সিটির মঠ ধসে পাঁচ উদ্বাস্তু শিশু নিহত হয়েছে। তারা সেখানে আশ্রয়ে ছিল।
মিয়ানমারে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পের প্রথমটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৭। দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি ছিল ৬ দশমিক ৪ মাত্রার।
মিয়ানমারের পাশাপাশি থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককসহ এই অঞ্চলের অন্যান্য স্থানেও কম্পনের খবর পাওয়া গেছে। মিয়ানমারের এই ভূমিকম্প ব্যাংককে বেশ তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছে এবং কম্পনের তীব্রতায় নির্মাণাধীন ভবন ধসে পড়ার ভিডিও ফুটেজও সামনে এসেছে।
সামাজিক যোগাযোগামাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, নির্মাণাধীন ভবনটি খাড়াখাড়িভাবে ধসে পড়ছে। পরবর্তীতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই ভবনটিতে ৫০ জন কাজ করছিলেন। যারমধ্যে সাতজন বের হয়ে যেতে সক্ষম হন। কিন্তু আটকে পড়েন ৪৩ জন। যাদের উদ্ধারে এখন ব্যাপক অভিযান চালানো হচ্ছে।
মিয়ানমারের স্থানীয় সময় দুপুর ১২:৫০ মিনিটে সাগাইং শহরের ১৬ কিলোমিটার (১০ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে ১০ কিলোমিটার গভীরে এই ভূমিকম্প আঘাত হানে বলে জানিয়েছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)।
সূত্র: আনাদোলু
আলোচিত
সিলেটে প্রবাস ফেরত ছেলের হাতে বাবা খুন

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় ছেলের দায়ের কোপে দুলু মিয়া (৬০) নামে এক ব্যক্তি খুন হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়নের জাঙ্গালহাটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত দুলু মিয়া ওই গ্রামের মৃত কুটু মিয়ার ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, দুলু মিয়ার ছেলে প্রবাস (ফ্রান্স) ফেরত সুলতান আহমদ সাত মাস আগে স্থায়ীভাবে দেশে ফেরেন। বাড়িতে ফেরার পর থেকে তার পরিবারের সঙ্গে ঝামেলা লেগেই ছিল। এর জের ধরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে নিজ বাড়িতে বাবাকে দা দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন ছেলে সুলতান আহমদ।
তাৎক্ষণিক স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায় ও ছেলেকে আটক করে নিয়ে যায়।
গোলাপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান মোল্লা বলেন, বাবার সঙ্গে দ্বন্দ্বের জের ধরে ঘটনার সময় তর্কাতর্কি হয়। এরপরই তাকে দা দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং নিহত দুলুর মরদেহ উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
তিনি বলেন, পরিবার সূত্রে জেনেছি প্রবাস ফেরত সুলতানের মানসিক সমস্যা রয়েছে। যে কারণে তিনি এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।
- আন্তর্জাতিক11 months ago
বাংলাদেশিদের জন্য সহজ হচ্ছে ব্রাজিলের ভিসা
- বিনোদন11 months ago
জীবনযাপন আর খাদ্যাভ্যাস নিয়ে যে তথ্য জানালেন অপু বিশ্বাস
- প্রবাস5 months ago
স্থায়ী হওয়ার আশায় কানাডায় পাড়ি দিয়ে হতাশায় ডুবছেন বাংলাদেশিরা
- বিশেষ প্রতিবেদন11 months ago
বাড়ছে নদীর পানি, সিলেটে আগাম বন্যার শঙ্কা
- সিলেট6 months ago
সিলেটের গোলাপগঞ্জে স্ত্রীর হাতে মসজিদের ইমাম খুন
- প্রবাস5 months ago
কানাডায় শিক্ষার্থীদের জন্য ওয়ার্ক পারমিটের নতুন নিয়ম
- বিনোদন6 months ago
আমি একটা ছাগল, এবার আমি মানুষ হব ইনশাআল্লাহ: মাহি
- আন্তর্জাতিক5 months ago
১৪ দেশের শিক্ষার্থীদের দুঃসংবাদ দিল কানাডা