শহীদ শরীফ উসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সিলেটে আবারও রাজপথে নেমেছে ইনকিলাব মঞ্চ। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এসময় আন্দোলনকারী নেতাকর্মীরা আগামী তিন দিনের মধ্যে মামলার চার্জশিট প্রদান এবং ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করার দাবি জানান।
রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) বেলা ২টা থেকে নগরীর চৌহাট্টা এলাকায় ইনকিলাব মঞ্চ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) এবং সিলেটের বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়।
আন্দোলন চলাকালীন সময়ে বিক্ষোভকারীরা জানান, একই দাবিতে দেশের সব বিভাগীয় শহরেও একযোগে সড়ক অবরোধ এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। নেতাকর্মীরা আগামী তিন দিনের মধ্যে মামলার চার্জশিট প্রদান এবং ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করার দাবি জানান। অন্যথায় বিচারিক কার্যক্রম ত্বরান্বিত না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে অবস্থান অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, শহীদ শরীফ উসমান হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িতরা এখনও আইনের আওতার বাইরে রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়াচ্ছে। তারা অভিযোগ করেন, হত্যাকারীরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে এবং সরকার এ হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে টালবাহানা করছে।
এসময় তারা বিক্ষোভ চলাকালে হাদি হত্যার বিচার চেয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। বিক্ষোভ চলাকালীন সময় সিলেট নগরীর চৌহাট্টা এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এসময় নগরবাসীকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।
পথচারী সাইফুল নামের একজন জানান, হাদি হত্যার বিচার আমরাও চাই। কিন্তু এইভাবে আন্দোলন করে রাস্তায় অবরোধ করে জনসাধারণকে ভোগান্তি করে নয়। শান্তিপূর্ণভাবে অনেক ধরনের কর্মসূচি পালন করা যেতে পারে।
ইব্রাহিম নামের একজন ডাক্তার জানান, যারা হাদি হত্যার বিচার চাচ্ছে তারা ভালো কাজ করছে। কিন্তু এইভাবে মানুষজনের ভোগান্তি করে তারা মানুষজনের মন থেকে উঠে যাচ্ছে। কারণ এখানে অনেকেই বয়োবৃদ্ধ আছেন। কেউ ডাক্তারে যাচ্ছেন, কেউবা হাসপাতালে যাচ্ছেন, তাদের কষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে যারা কর্মজীবি মানুষ রয়েছেন, তারাও ব্যাপক ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন। সঠিক সময়ে কর্মস্থলে পৌছাতে দেরি হচ্ছে।
এর আগে শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) একই স্থানে দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে ইনকিলাব মঞ্চ।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে জুমার নামাজ শেষে রিকশায় করে গন্তব্যে ফেরার সময় রাজধানীর বিজয়নগরে গুলিবিদ্ধ হন শরীফ উসমান হাদি। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।




