Tuesday, February 3, 2026

Top 5 This Week

Related Posts

সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট চালু না রাখলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি

সিলেট থেকে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিমানবন্দরে সরাসরি ফ্লাইট চালু রাখার দাবিতে প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়ক হেঁটে প্রবাসীরা ‘মার্চ ফর বিমান’ কর্মসূচি পালন করেছেন।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে সিলেট নগরের চৌহাট্টা এলাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে কর্মসূচি শুরু হয়ে মজুমদারি এলাকার বিমান অফিসের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

দুপুর ১২টার দিকে ‘ইউকে এনআরবি সোসাইটি ও ইউকে বাংলাদেশি হেরিটেজ কাউন্সিলর ফোরাম’ এর উদ্যোগে নগরের চৌহাট্টা থেকে ‘মার্চ ফর বিমান’ কর্মসূচি শুরু হয়।

এ কর্মসূচিতে যুক্তরাজ্য প্রবাসীসহ সিলেটের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। প্রায় দেড় কিলোমিটার হেঁটে তারা বিমান অফিসের সামনে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হন।

এ সময় সিলেট-ম্যানচেস্টার ফ্লাইট চালু না রাখলে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স স্ট্রাইক ও বিমান বর্জনের মতো কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।

ইউকে এনআরবি সোসাইটির পরিচালক মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী।

এ সময় ইউকে এনআরবি সোসাইটির পরিচালক এম আহমদ জুনেদ, যুক্তরাজ্যের ওল্ডহাম বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জামাল উদ্দিন, ইউকে এনআরবি সোসাইটির পরিচালক ইসমাইল হোসেন ও মোতালিব চৌধুরী, যুক্তরাজ্যের কমিউনিটি নেতা বুলবুল আমিন, বদরুল আলম, দবির মল্লিক, জামান মিয়া, রাসেল চৌধুরী, নুরুল আমিন, মাসুক উদ্দিন, শাহাব উদ্দিন, আবদুস শহীদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, প্রবাসীরা আমাদের রেমিট্যান্স–যোদ্ধা। তাদের শ্রম ও ঘাম এই সিলেটসহ বাংলাদেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ করছে। এতে করে বাংলাদেশের অর্থনীতি দিন দিন উন্নতি করছে।

অথচ তাদের সঙ্গে সব সময়ই বিমাতাসুলভ আচরণ করা হয়। এটা কোনোভাবে সহ্য করার মতো নয়। তবে বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রবাসীদের ন্যায্য দাবি পূরণে আমরা সবাই মিলে কাজ করব।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং এই রুট বন্ধ করলে যুক্তরাজ্যের একাংশের মানুষ যাতায়াতে অসুবিধায় পড়বেন। এটা বিবেচনায় নিয়ে সিলেট থেকে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে সরাসরি ফ্লাইট চালু রাখা দরকার।

সমাবেশ শেষে ইউকে এনআরবি সোসাইটির নেতারা বিমান সিলেট অফিসের ব্যবস্থাপকের কাছে একটি স্মারকলিপি দেন। স্মারকলিপিতে বলা হয়, যে রুটে বিমান কর্তৃপক্ষ ৮৩ শতাংশ ব্যবসা করে, সেই রুটটি কীভাবে লোকসান হয়? বেশির ভাগ যাত্রী ৭০০ থেকে ৮০০ পাউন্ডের টিকিট ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ পাউন্ডে কেনেন।

বিমানের একটি অসাধু চক্র এ টাকা লোপাট করে প্রতি মুহূর্তেই ফ্লাইটটিকে লোকসান দেখানোর পাঁয়তারা করছে।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের জুন থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সিলেট থেকে ম্যানচেস্টারে প্রায় ২০ হাজার যাত্রী এবং ম্যানচেস্টার থেকে সিলেটে প্রায় ১৮ হাজার করে বিমান কর্তৃপক্ষ বহন করেছে। এতে সর্বমোট ৩৮ হাজার যাত্রী যাওয়া-আসা করেন। এই সময়ে বিমানের সিট ছিল ৪৫ হাজার।

এই পরিসংখ্যানে বোঝা যাচ্ছে, সিলেট-ম্যানচেস্টার রুট কখনোই অলাভজনক ও যাত্রী সংকটে ছিল না। তাই দ্রুত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হবে।

Popular Articles