বিয়ানীবাজারের মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলায় এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং শিশুটির স্বজনরা হাসপাতালে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেছেন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে নবজাতকের মৃত্যুও ঘটনা ঘটে। স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসায় চরম অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণেই এই মৃত্যু।
এক পর্যায়ে শিশুটির স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে হাসপাতাল লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোঁড়েন এবং ভাঙচুরের চেষ্টাও করেন। এতে হাসপাতালটি কিছুটা ক্ষতিগ্রস্তও হয়েছে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি করেন।
বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও মৃত শিশুটির স্বজনরা ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নবজাতকের স্বজনদের দাবি, ভর্তির আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মা ও শিশুর অবস্থা স্বাভাবিক বলে নিশ্চিত করেছিলেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু প্রসবের সময় সেখানে কোনো অভিজ্ঞ চিকিৎসক ছিলেন না। অদক্ষ নার্সের কারণে এই নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে।
এর আগে গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর এই হাসপাতালে আরেক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। সে ছিল গোলাপগঞ্জের আমকোনার সৌদি-আরব প্রবাসী আব্দুল হামিদের সন্তান।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই হাসপাতালে প্রায়ই নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। কিন্তু কেউ তদন্ত করছেন না, ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছেনা।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিয়ানীবাজারের মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালের মোবাইল নম্বরে (০১৭১১২৫৩২০১) কল দিলে রিসিভ করেন একজন মহিলা। তার কাছে এ ব্যাপারে বলতে পারেন এমন একজন দায়িত্বশীলকে চাইলে তিনি মোবাইল ধরিয়ে দেন জনৈক জামিল হোসেন নাম বলে পরিচয় দেওয়া একজন কর্মচারীকে।
তার কাছে হাসপাতালটির এমডির (ম্যানেজিং ডিরেক্টর) বা দায়িত্বশীল অন্য কাউকে চাইলে তিনি এমডির নম্বর হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাচ্ছেন বলে আর পাঠান নি। তাই তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে বিয়ানীবাজারের পৌর শহরেরই একাধিক সচেতন ব্যক্তির সাথে আলাপ হয় এই প্রতিবেদকের। তারা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।
তাদের সবার বক্তব্যের সারমর্ম হচ্ছে, বড় বড় ডাক্তার, সার্জন, প্রশিক্ষিত ধাত্রী, নার্স ইত্যাদির কথা বলে তারা প্রসুতির স্বজনদের এখানে ভর্তি হতে প্রলোভন দেন। কিন্তু এরপর দেখা যায়, তাদের কথা আর কাজে মিল থাকেনা। প্রসবের সময়ে আর দক্ষ কাউকে মিলেনা। অদক্ষ আনাড়িদের দিয়ে প্রসবের কাজ করানোর ফলে প্রায়ই নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। বুধবারের ঘটনাও তাই।
অনেক সময় নবজাতকের মৃত্যু না হলেও অবস্থা এমন হয় যে, মা ও শিশুর জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ে। এমন অভিযোগ হামেশাই তারা পান।
এ ব্যাপারে তারা সিলেটের সিভিল সার্জনসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।




