Tuesday, February 3, 2026

Top 5 This Week

Related Posts

হাসিনাকে যেভাবে ভারত পাঠিয়েছি, সেভাবে আপনাদের সঙ্গেও ডিল করব : সিলেটে সাদিক কায়েম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম বলেছেন, একটি দল গণভোটে না এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। না মানে হচ্ছে ভারতের দালালি করা, না মানে হচ্ছে দিল্লির দালালদের পক্ষে অবস্থান নেওয়া, বিচারিক হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে আবার জাতীয় নেতৃবৃন্দকে হত্যা করার পরিকল্পনা করা।

ওই দলের নাম উল্লেখ না করেই সাদিক কায়েম বলেন, আপনারা কি আরেক হাসিনা হতে চান? তাহলে বলে দিন। তাহলে আমরা হাসিনাকে যেভাবে বিদায় করেছি, যেভাবে লাথি দিয়ে ভারতে পাঠিয়েছি, ঠিক সেভাবেই আপনাদের সঙ্গেও ডিল করব।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে সিলেট নগরের চৌহাট্টা এলাকায় ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসংসদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত গণজমায়েতে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। সমাবেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নেতৃবৃন্দ, সিলেট-১ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা হাবীবুর রহমান, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরীসহ ছাত্রশিবিরের জেলা ও মহানগর এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

এতে সাদিক কায়েম বলেন, এই ‘হ্যাঁ’ মানে হলো জনগণের প্রকৃত ক্ষমতা জনগণের হাতেই তুলে দেওয়া। তিনি বলেন, এই বাংলাদেশের কৃষকের টাকা, শ্রমিকের টাকা, রিকশাচালকের টাকায় যে দেশ চলে, তাদের সন্তানকে আগামীর রাষ্ট্রনায়ক বানানোর জন্য ক্ষেত্র তৈরি করাই হলো ‘হ্যাঁ’-এর মূল উদ্দেশ্য।

তিনি আরও বলেন, এই ‘হ্যাঁ’ মানে হলো বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে যে গুম, খুন ও আয়নাঘরের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, সেই খুনি হাসিনা এবং তার দোসরদের বিচারের আওতায় আনা। একই সঙ্গে ফ্যাসিবাদী কাঠামো ভেঙে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিনির্মাণ করা।

গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে দেশের ছাত্রসমাজ ও সাধারণ নাগরিকরা ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি গণভোটে প্রথম যে সিল পড়বে, সেটি হবে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে।

সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই প্রজন্ম বেঁচে থাকতে ফ্যাসিবাদী রাজনীতি ও ‘না’-এর পক্ষে অবস্থানকারীদের কোনো জায়গা দেওয়া হবে না। তিনি বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, দলটি শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ থেকে সরে এসে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও সন্ত্রাসের রাজনীতি ধারণ করছে।

তিনি বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিজেদের ভুল সংশোধন করে জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করতে হবে এবং দ্রুত ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ক্যাম্পেইন শুরু করতে হবে। অন্যথায় ১২ ফেব্রুয়ারির আগেই জনগণ তাদের বিরুদ্ধে গণরায় দেবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

সবশেষে সাদিক কায়েম সিলেটের সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রতিটি গ্রাম ও মহল্লায় গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণা চালাতে হবে।

সমাবেশে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, আগামী নির্বাচনে যাতে কোনো চাঁদাবাজ, জালিমের হাতে দেশের ক্ষমতা না যায় সেজন্য ইনসাফের পক্ষে অবস্থান নেবার ঘোষণা দেন তিনি।

ছাত্র নেতারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে স্থায়ী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে গণভোটই সবচেয়ে কার্যকর ও গণতান্ত্রিক মাধ্যম। কিন্তু একটি দল এখনো গণভোট নিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেনি। গণভোটে হ্যাঁ দেওয়া মানে কোনো রাজনৈতিক দলকে জেতানো না, আগামীর বাংলাদেশ গড়া। শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত দেশকে রক্ষা করতে, এবং চাঁদাবাজ মুক্ত দেশ গড়তে হ্যাঁ-এর পক্ষে রায় দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

Popular Articles