Wednesday, February 4, 2026

Top 5 This Week

Related Posts

বোর্ডিং পাস জটিলতায় সিলেটে আটকা পড়ছেন লন্ডনগামী যাত্রীরা

ভিসা, টিকেটসহ আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র থাকার পরও বোর্ডিং পাস না পাওয়ায় সিলেট থেকে যুক্তরাজ্যগামী বেশ কিছু যাত্রী বিমানবন্দর থেকে ফেরত যাচ্ছেন। এতে বেকায়দায় পড়েছেন অনেকে।

মঙ্গলবার পর্যন্ত ১৪ জন যাত্রী ই-ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এমন সমস্যায় পড়েছেন বলে তথ্য দিয়েছেন সিলেটে বিমান বাংলাদেশের স্টেশন ম‌্যা‌নেজা‌র শাকিল আহমদ।

ভুক্তভোগী যাত্রীরা গত বুধবার থেকে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ সমস্যায় পড়তে শুরু করেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিমানের ওই স্টেশন ম‌্যা‌নেজা‌র বলেন, যুক্তরাজ্য যেতে হলে ৪৮ ঘণ্টা আগে যাত্রীদের ইউকেভিআই (ইউকে ভিসাস অ্যান্ড ইমিগ্রেশন) এর ওয়েবসাইটে পাসপোর্ট আপডেট করতে হয়। অনেক যাত্রী সেটা জানেন না। যাত্রীরা বিমানবন্দরে গিয়ে বোডিং পাস নেওয়ার সময় দেখতে পান তাদের পাসপোর্ট ওয়েবসাইটে দেখাচ্ছে না। এ কারণে তাদের ফেরত যেতে হচ্ছে।
বোর্ডিং পাস জটিলতায় সিলেটে আটকা পড়ছেন লন্ডনগামী যাত্রীরা
“আমরা লন্ডনে কথা বলেছি, তারা বলেছে দ্রুত এ সমস্যা সমাধান হবে। যেকোনো কিছু ডিজিটালাইজেশন চললে একটু সমস্যা হতে পারে, তাদের ওয়েবসাইট আপডেট চলছে বলে জেনেছি।”

তিনি বলেন, ২৮ জানুয়ারি থেকে এ সমস্যা শুরু হয়েছে। তারা সবাই হিথ্রো বিমানবন্দর যাওয়ার জন্য এসেছিলেন।

সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক মো. হাফিজ আহমদ বলেন, এটা সিলেট বিমানবন্দর বা বিমান বাংলাদেশের কোনও সমস্যা নয়। বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী অনেক যাত্রীর ক্ষেত্রেই সিস্টেমে সমস্যা হচ্ছে।

“চেক-ইনের সময় ব্রিটিশ হোম অফিসের সার্ভার থেকে ক্লিয়ারেন্স না আসায় তাদের বোর্ডিং পাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আমরা যাত্রীদের ব্রিটিশ হোম অফিসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিচ্ছি।”

বিমা‌ন বাংলাদেশ বলছে, অনেক যাত্রীর ক্ষে‌ত্রে ব্রিটিশ হোম অফিসের ওয়েবসাইটে তাদের তথ্য না থাকায় বোর্ডিং পাস দেওয়া যাচ্ছে না। ফ‌লে বাধ‌্য হ‌য়ে বিমান‌কে ওই যাত্রীকে টিকেট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকার পরও ভ্রমণ করতে দেওয়া যাচ্ছে না।

এ সমস্যার বিষয়ে বিমান ও বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং ব্রিটিশ হোম অফিসের তরফে বলা হচ্ছে, যুক্তরাজ্যের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় ‘ডিজিটালাইজেশন’ বা ই-ভিসা পদ্ধতিতে রূপান্তরের কারণেই মূলত এ জটিলতা। দেশটি ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সব ধরনের ফিজিক্যাল ভিসা ডকুমেন্ট (যেমন- বিআরপি (বায়োমেট্রিক রেসিডেন্স পারমিট) কার্ড বাতিল করে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ‘ই-ভিসা’ চালুর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। অনেক প্রবাসী বিআরপি থেকে ই-ভিসায় রূপান্তর করলেও নতুন বাংলাদেশি পাসপোর্টের তথ্য তাদের ইউকে ভিসা অ্যান্ড ইমিগ্রেশন অ্যাকাউন্টে আপডেট করেননি। ফলে এয়ারলাইন্সের সিস্টেমে পাসপোর্টের তথ্য দিয়ে যখন হোম অফিসের ডেটাবেসে যুক্ত করা হচ্ছে, তখন সেখানে ‘নো ভ্যালিড ভিসা’ বা এরর দেখাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, এয়ারলাইন্সগুলো ‘ইন্টারঅ্যাকটিভ অ্যাডভান্স প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন’ সিস্টেম ব্যবহার করে। অনেক সময় যাত্রীর ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস আপডেট থাকলেও সার্ভার জটিলতায় এয়ারলাইন্সের কাউন্টারে সেই তথ্য পৌঁছাতে দেরি হয় অথবা ভুল তথ্য দেখায়। এ কারণে এ সমস্যা তৈরি হয়েছে।

এমন ক্ষেত্রে ব্রিটিশ হোম অফিসের ন্যাশনালিটি টিম বলছে, ফ্লাইটের অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে যাত্রীদের ইউকেভিআই অ্যাকাউন্টে লগ ইন করে ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস ‘লাইভ’ বা ‘অ্যাক্টিভ’ এর বিষয়টি নিশ্চিত হতে বলেছে। একই সঙ্গে পাসপোর্টের নম্বরটি ই-ভিসা বা ইউকেভিআই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে লিংক করা আছে কিনা, তা যাচাই করতে বলেছে। নতুন পাসপোর্ট করলে তা অবশ্যই সিস্টেমে আপডেট করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Popular Articles