সিলেট-১ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমানকে বিতর্কিত করতে পরিকল্পিতভাবে বিএনপি অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ঋণ সংক্রান্ত একটা বিষয় নিয়ে অপচেষ্টা শুরু হয়েছে। নিজদের দায় অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দিতেই এই অপচেষ্টা। আমরা স্পষ্টভাবে বলছি, জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর কোনো ঋণ নেই। তিনি যে দু’টি প্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট রয়েছেন, সেই প্রতিষ্ঠানগুলোরও কোনো ব্যাংক ঋণ নেই।’
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নগরীর ধোপাদিঘীরপারস্থ মাওলানা হাবিবুর রহমানের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘মাওলানা হাবিবুর রহমান আল খারামা কোম্পানির একজন শেয়ার হোল্ডার। সেই প্রতিষ্ঠান ও ইবনে সিনা ট্রাস্টের যৌথ মালিকানায় সিলেট ইবনে সিনা পরিচালিত হয়। তিনি আল খারামার প্রতিনিধি হিসেবে সিলেট ইবনে সিনা হাসপাতালের ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান। তার ব্যক্তিগত কোনো ঋণ নেই। আল খারাম ও ইবনে ট্রাস্টেরও কোনো ঋণ নেই। যা তিনি নির্বাচনি হলফনামায় উল্লেখ করেছন। সুতরাং মাওলানা হাবিবুর রহমানকে জড়িয়ে বিএনপির বন্ধুরা যে অপপ্রচার চালাচ্ছেন, দাঁড়িপাল্লার জোয়ার দেখে এ ধরনের চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছেন। এ ধরনের মিথ্যাচার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করা যাবে না।’
তিনি বলেন, ‘সিলেটের সাবেক মেয়র মরহুম বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে নিয়ে মিথ্যাচার করা হচ্ছে। মাওলানা হাবিবুর রহমানের সঙ্গে মেয়র কামরান ও আওয়ামী লীগের মিসবাহ উদ্দিন সিরাজও নাকি ব্যবসায়িক পার্টনার। আমরা চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি, মাওলানা হাবিবুর রহমানের সঙ্গে কোনো ব্যবসায়িক সম্পর্ক নেই। আপনারা সাংবাদিক বন্ধুরাও বিষয়টি তদন্ত করে সঠিক তথ্য জনগণের কাছে তুলে ধরুন।’
তিনি আরো বলেন, ‘একটি দল ভোটে অনিয়মের আশঙ্কা করে অভিযোগ করেছেন। আমরা বলবো, জুলাই শহীদের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া এ নির্বাচনে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই। যদি কেউ অনিয়ম করে, তাহলে সংবাদমাধ্যম সেটা জাতির কাছে তুলে ধরবে। আপনাদের এখনই নার্ভাস হওয়ার কারণ নেই। ভোটের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। জনগণকে ভয় পান বলেই এ ধরনের অভিযোগ। জাতি একটা শ্রেষ্ঠ নির্বাচন পাবে এবার। অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন হলে দাঁড়িপাল্লার বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।’
মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘এত আন্দোলন সংগ্রামের ফসল জুলাই। যারা আত্মত্যাগ করেছে, তাদের স্বপ্নের নিরাপদ মানবিক ইনসাফ ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ চাই।’
তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় খবর পাচ্ছি, সিলেট-৩ আসনের ব্যানার ফেস্টুন খুলে নিয়ে যাচ্ছে। এটা হিংসাত্মক। এটা পরিহার করতে হবে।’
সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন যে, স্কলার্সহোমে বিএনপি প্রার্থীর একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, সেখানে শিক্ষক কর্মকর্তাদের নিয়ে সভা করা হচ্ছে। এটা নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এই শিক্ষক ও কর্মকর্তারা নির্বাচনী দায়িত্বে রয়েছেন, তাহলে তারা নিরপেক্ষ নির্বাচন কিভাবে করবেন। আমরা লিখিত অভিযোগ দেইনি, তবে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে জানিয়েছি, আশা করি তিনি ব্যবস্থা নেবেন। জেলা প্রশাসক আশ্বস্ত করছেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা লাগাবে। বডি ক্যামেরা থাকবে। আমরা প্রশাসনকে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা দিয়েছি।’
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় শঙ্কা প্রকাশ করে মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রশাসনের কাছে সন্ত্রাসীদের তথ্য রয়েছে, তাদেরকে আইনি হেফাজতে নিলে ভোট নির্বিঘ্নে হবে, জনগণ ভোট দিতে পারবে।’
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-১ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান, সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির ড. নুরুল ইসলাম বাবুল, সেক্রেটারি মুহাম্মদ শাহজাহান আলী, সহকারী সেক্রেটারি জাহেদুর রহমান চৌধুরী ও মাওলানা ইসলাম উদ্দিনসহ ১১ দলের নেতারা।



