সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ) আসনে বিএনপি সর্বশেষ জয় পায় ১৯৯৬ সালে। দীর্ঘ ৩০ বছর পর আসনটি পুনরুদ্ধার হলো জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরীর হাত ধরে। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে এখানে ৮ হাজার ৩৪৮ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন।
যোগাযোগ করলে এমরান আহমদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে আছি। আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের সময় নেতা-কর্মীদের নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। আমি মনোনয়ন পাওয়ার পর দলের সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ ছিলেন। সাধারণ ভোটাররাও পাশে ছিলেন। সব মিলিয়ে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জয় পেয়ে আসনটি পুনরুদ্ধার করেছি। এখন ধীরে ধীরে প্রতিশ্রুতি পূরণ শুরু করব।’
আসনটিতে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে বিএনপির প্রার্থীর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। একসময় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় এই সভাপতি প্রার্থী হিসেবে বেশ শক্তিশালী ছিলেন। জামায়াতের নেতা-কর্মীদের ধারণা ছিল, তারা আসনটিতে জয় পাবে।
তবে শেষ পর্যন্ত এমরান আহমদ চৌধুরী এখানে ১ লাখ ৯ হাজার ৯১৭ ভোট পান। অন্যদিকে সেলিম উদ্দিন পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৫৬৯ ভোট। এ আসনে মোট ৪৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ ভোট পড়েছে। আসনের অন্তর্ভুক্ত দুটি উপজেলায় বাতিল ভোটের সংখ্যা ৫ হাজার ৮০৮।
সিলেট-৬ আসনে ছয়বার আওয়ামী লীগ, দুবার জাতীয় পার্টি ও দুবার স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। এখানে দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লুৎফুর রহমান এবং ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে শরফ উদ্দিন খসরু বিএনপির মনোনয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয় পান। আওয়ামী লীগ-দলীয় সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এখান থেকেই পাঁচবার সংসদ সদস্য হয়েছেন।
স্থানীয় বিএনপির সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আসনটিতে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। এর মধ্যে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এনামুল হক চৌধুরী, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ফয়সল আহমদ চৌধুরী, বিএনপি নেত্রী সৈয়দা আদিবা হোসেন উল্লেখযোগ্য। তবে তাঁদের ডিঙিয়ে এমরান আহমদ চৌধুরী মনোনয়ন পান।
এমরান আহমদ চৌধুরীর বয়স ৫৮ বছর। তিনি পেশায় আইনজীবী। তিনি পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এমরান আহমদ ২০০২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এবং ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, যুগ্ম আহ্বায়কসহ নানা দায়িত্বেও ছিলেন। ২০২২ সালে তিনি প্রত্যক্ষ ভোটে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার এই সদস্য একজন জুলাই যোদ্ধাও।



