সিলেটের ওসমানীনগরে চোরাই গরু জবাই করে ইফতার পার্টির আয়োজন করেছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী এক বিএনপি নেতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ভাইরাল হওয়ার পর সমালোচনার মুখে পড়েছেন ওই প্রবাসী।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়নের গলমুকাপন গ্রামে যুক্তরাজ্য প্রবাসী এম আহমদ মধু মিয়ার বাড়িতে এ ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৫ রমজান বেলা ৩টার দিকে গলমুকাপন মাদ্রাসার পূর্ব পাশের মাঠ থেকে একই গ্রামের বাসিন্দা নাজমুল ইসলামের একটি ষাঁড় চুরি হয়। গরু হারানোর পর মধু মিয়ার বাড়ির কেয়ারটেকার সাঈদি নাজমুল বিভিন্ন স্থানে গরু খোঁজার পরামর্শ দিয়ে বিভ্রান্ত করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
পরে রাত ৮টার দিকে মধু মিয়ার বাড়িতে কসাই ডেকে একটি গরু জবাই করা হয়। সারারাত রান্নার পর ৬ রমজান বিকালে প্রায় সহস্রাধিক মানুষের অংশগ্রহণে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দাওয়াতপ্রাপ্ত অতিথিদের মধ্যে গরুর মালিক নাজমুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।
সেখানে জবাইকৃত গরুর দড়ি দেখে তিনি নিজের গরু হিসেবে শনাক্ত করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি স্থানীয়দের অবগত করেন।
পরে বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা নিশ্চিত হন যে, নাজমুল ইসলামের গরুই জবাই করা হয়েছে। ঘটনার পর ৮ রমজান বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে মধু মিয়ার বাড়িতে গ্রামের মুরব্বিদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক বসে। বৈঠকে গরুর মালিককে ৭০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান করে বিষয়টি আপস-মীমাংসা করা হয়। একইসঙ্গে কেয়ারটেকার সাঈদিকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মধু মিয়ার পক্ষে কথা বলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কয়েছ আহমদ চৌধুরী ও পশ্চিম পৈলনপুর ইউপি যুবদলের সদস্য হুসাইন আহমদ। তারা জানান, মধু মিয়া বর্তমানে ব্যস্ত, তিনি লন্ডনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধান হয়েছে। এ নিয়ে আর কিছু বলার নেই। তারা সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধও জানান।
গরুর মালিক নাজমুল ইসলাম বলেন, গরু চুরির পর আমাকে ভুলপথে পরিচালিত করা হয়েছে। ইফতারে গিয়ে দড়ি দেখে নিশ্চিত হই এটা আমার গরু। পরে সিসিটিভি দেখে বিষয়টি প্রমাণিত হয়। সালিশে আমাকে ৭০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। তবে এলাকায় আরও কয়েকটি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে আরও একটি সালিশ হওয়ার কথা রয়েছে।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও দয়ামীর ইউপি চেয়ারম্যান এসটিএম ফখর উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি। ইফতারে দাওয়াত ছিল, তবে আমি যাইনি। যেহেতু উপস্থিত ছিলাম না, তাই বিস্তারিত মন্তব্য করতে পারছি না।
তথ্যসূত্রঃ যুগান্তর



